কোয়াটার্লি প্রতিবেদন কতটুকু স্বচ্ছ

বিএসইসির নির্দেশনায় অনুযায়ী, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির প্রথম প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন ৪৫ দিনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া দ্বিতীয় প্রান্তিক ও তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশের জন্য ৩০ দিন সময় পাবে। লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে আলাদা করে প্রথম প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য ৯০ দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

অবশ্য লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন যেহেতু এ্যাকচুয়ারির মাধ্যমে তৈরি করতে হয় তাই এর প্রতিবেদন তৈরি করতে সময় বেশি লাগে। কারণ দেশে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির তুলনায় এ্যাকচুয়ারি খুবই কম। তাইতো একবছরের অডিটেড হিসাব সম্পন্ন করতে ছয় মাস (৩০জুন) সময় দেয়া হয়। যেহেতু অডিটেড হিসাবের আগে আন-অডিটেড হিসাব সম্পন্ন করা যায় না তাই লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদন তৈরিতে সময় বেশি লাগবে সেটাই স্বাভাবিক।

এদিকে ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রথম প্রান্তিক ৪৫ দিন এবং পরের দুই প্রান্তিক ৩০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা সম্ভব। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য কম্পিউটারাইজড। কিন্তু ভেজাল হচ্ছে ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি নিয়ে। এক্সপোর্ট বা ইমপোর্ট কার্যক্রম পরিচালনায় ইনভেন্টরি একটা বড় ফ্যাক্টর। দেখা যায়, ইনভেন্টরির খালাস থেকে শুরু করে ফ্যাক্টরীতে আনা পর্যন্তই অনেক সময় চলে যায়। তারওপর অন্যান্য হিসেব মেলানোর সময়তো আছেই। তাই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে প্রান্তিক প্রতিবেদন জমা দিতে হলে অনেকটা ছয়-নয় করতে হয়। এক্ষেত্রে কম্পিউটারে থাকা তথ্য আর ফিজিক্যাল তথ্যের মধ্যে বিরাট ফারাক থেকে যায়। তাই এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। অবশ্য প্রান্তিক প্রতিবেদনে তুলনামূলক চিত্র দেখাতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে ব্যাখ্যাও দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু সবগুলোই ডিসক্লোজার ব্যাসিস। অর্থাৎ যেসব কমপ্লায়েন্স পূরণ করতে বলা হয়েছে সেগুলো হলেই হলো। বিএসইসির না রয়েছে খতিয়ে দেখার টিম না রয়েছে পুন:নিরীক্ষার ইচ্ছা। এ কারণে অনেক কোম্পানি ফাঁক-ফোকড়ে নিজেদের উদ্দেশ্য কায়েম করে যাচ্ছে। আর দিনের পর দিন বিনিয়োগকারীদের বঞ্চিত করে চলেছে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top