আইপিও মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের পরিমাণ বেড়েছে

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের শেয়ারবাজারে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যেখানে আইপিও এর মাধ্যমে ২২৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করার অনুমোদন পায় সেখানে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আইপিও এর মাধ্যমে ৫১৬ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন পেয়েছে। সে হিসেবে এক বছরের তুলনায় আইপিও’র মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ বেড়েছে ২৮৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এছাড়াও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যেখানে ৬টি কোম্পানিকে আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেখানে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১২টি কোম্পানিকে আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১২টি কোম্পানিকে মোট ২৭ কোটি ৪৫ লাখ ৪১ হাজার ৬৬৭টি শেয়ার ইস্যু করার মাধ্যমে ৫১৬ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন পায়। কোম্পানিগুলো হলো- নাহি অ্যালুমিনিয়াম অ্যান্ড কম্পজিট প্যানেল, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিটিক্যাল, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, অ্যাডভেন্ট ফার্মা, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন, বসুন্ধরা পেপার মিলস, আমান কটন ফাইবার্স, এস কে ট্রিমস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, এমএল ডাইং, ভিএফএস থ্রেড ডাইং, সিলভা ফার্মাসিটিক্যাল, কাট্টলি টেক্সটাইল লিমিটেড। এর মধ্য বসুন্ধরা পেপার ও আমান কটনকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

তথ্যানুযায়ী, শেয়ারবাজার থেকে নাহি অ্যালুমিনিয়াম ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ১ কোটি ৫০ লাখ সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। কুইন সাউথ টেক্সটাইল অভিহিত মূল্যে তথা ১০ টাকা দরে ১ কোটি ৫০ লাখ সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। অ্যাডভেন্ট ফার্মা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন অভিহিত মূল্যে ১০ টাকা দরে ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করে। এস কে ট্রিমস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৩ কোটি শেয়ার ইস্যু করে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করে। ভিএফএস থ্রেড ডাইং লিমিটেড প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ইস্যু করে ২২ কোটি টাকা তুলে।

বসুন্ধরা পেপার মিলস বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজারে ২ কোটি ৬০ লাখ ৪১ হাজার ৬৬৭টি শেয়ার ইস্যু করে ২০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৬ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার ৮০ টাকা করে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা নেয়। বাকী ১ কোটি ৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৬টি শেয়ার ৭২ টাকা করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে টাকা উত্তোলন করে।

আমান কটন ফাইবার্স লিমিটেড বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ শেয়ার ইস্যু করে ৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বিডিংয়ে আমান কটন ফাইবার্সের শেয়ারের কাট-অফ প্রাইস নির্ধারিত করা হয় ৪০ টাকা। সেই দামের ১০ শতাংশ কমে সাধারন বিনিয়োগকারীরা ৩৬ টাকা দরে শেয়ার কিনে। সম্প্রতি কোম্পানির আইপিও লটারি ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এমএল ডাইং ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২ কোটি সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। এ কোম্পানির আইপিও আবেদন গতকাল ১৯ জুলাই শেষ হয়েছে।

এদিকে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আইপিও অনুমোদন পেলেও এখন বাজার থেকে টাকা উত্তোলন করেনি ইন্দো-বাংলা ফার্মা, সিলভা ফার্মাসিটিক্যাল এবং কাট্টলি টেক্সটাইল লিমিটেড।

জানা যায়, ইন্দো-বাংলা ফার্মা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। আগামী ৯ আগষ্ট থে‌কে ১৬ আগষ্ট পর্যন্ত বি‌নি‌য়োগকারীরা এ কোম্পা‌নির আই‌পিও আ‌বেদন কর‌তে পার‌বেন।

সিলভা ফার্মাসিটিক্যাল ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৩ কোটি সাধারণ শেয়ার ইস্যু করে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। আগামী ২৯ জুলাই থেকে কোম্পানিটির আইপিও আবেদন শুরু হবে। আগামী ৫ আগষ্ট পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানির শেয়ারে আবেদন করতে পারবেন। আর কাট্টলি টেক্সটাইল লিমিটেডক ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৩ কোটি ৪০ লাখ সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ৩৪ কোটি টাকা তুলবে বাজার থেকে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬টি কোম্পানি ১৮ কোটি ৮০ লাখ ১ হাজার ২০৯টি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ২২৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমোদন পায়। কোম্পানিগুলো হলো- প্যাসিফিক ডেনিমস, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, নূরানী ডাইং, বিবিএস ক্যাবলস, ওয়াইম্যাক্স ইলেক্ট্রোড এবং আমরা নেটওর্য়াক লিমিটেড। এর মধ্য আমরা নেটওর্য়াক লিমিটেড বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

তথ্যানুযায়ী, প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড পুঁজিবাজারে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ৭ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যু করে ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। নূরানী ডাইং ১০ টাকা দরে ৪ কোটি ৩০ লাখ সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ৪৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। বিবিএস ক্যাবলস লিমিটেড ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ২ কোটি শেয়ার ইস্যু করে পুঁজিবাজার থেকে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ওয়াইম্যাক্স ইলেক্ট্রোড লিমিটেড ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে ১ কোটি ৫০ লাখ সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে।

আমরা নেটওর্য়াক বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ১ কোটি ৫০ লাখ ৪১ হাজার ২০৯টি সাধারণ শেয়ার প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এর মাধ্যমে ইস্যু করে ৫৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত টাকায় কোম্পানিটি বিএমআরই, ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা, দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়াই-ফাই হটস্পট প্রতিষ্ঠা করা, আইপিওর কাজ ও ঋণ পরিশোধ করবে।

উল্লেখ্য, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক বিডিং এর মাধ্যমে কোম্পানির প্রতিটি ১০ টাকা ফেসভ্যালুর সাধারণ শেয়ারের কাট অফ প্রাইস ৩৯ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৯০ লাখ ১৪ হাজার ৪২৩টি সাধারণ শেয়ার যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে প্রতিটি শেয়ার ৩৯ টাকায় ইস্যু করা হয়। সাধারন বিনিয়োগকারীদের অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৬০ লাখ ২৬ হাজার ৭৮৬টি সাধারণ শেয়ার ১০ শতাংশ ডিসকাউন্টে অর্থাৎ ৩৫ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top