তালিকাচ্যুতির আতঙ্কে ১৭ কোম্পানি

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: রহিমা ফুড ও মডার্ন ডাইংয়ের তালিকাচ্যুতির পর আরো ১৭ কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইন অনুযায়ী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) চাইলে এসব কোম্পানিকে পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত করতে পারে। কোম্পানিগুলো হলো: বিডি ওয়েল্ডিং, বিডি সার্ভিস, বেক্সিমকো সিনথেটিকস, দুলামিয়া কটন, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, ইমাম বাটন, ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওয়ার্ক, জুট স্পিনার্স, কে অ্যান্ড কিউ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পেট, সমতা লেদার, সাভার রিফ্যাক্টরীজ, শ্যামপুর সুগার, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, শাইনপুকুর সিরামিকস এবং জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (লিষ্টিং) রেগুলেশন,২০১৫ এর ৫১ (১) ধারায় কোনো কোম্পানিকে ডি-লিষ্টিং করার জন্য চারটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো কোম্পানি যদি ৫ বছর ধরে ডিভিডেন্ড না দেয়, যদি কোনো কোম্পানি টানা তিনটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে ব্যর্থ হয়, কোম্পানির স্বেচ্ছায় বা কোর্টের মাধ্যমে অবসায়ন বা তিন বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকে এবং তিন বছর ধরে স্টক এক্সচেঞ্জের লিষ্টিং ফি পরিশোধ না করে তাহলে ডিএসই চাইলে কোম্পানিকে ডি-লিষ্টিং করতে পারে।

এ ব্যাপারে ডিএসই ও সিএসই উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, যেসব কোম্পানি দিনের পর দিন বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড দিচ্ছে না, উৎপাদন বন্ধ রয়েছে সেগুলো নিয়ে তদন্ত করছে। বিশেষ করে উৎপাদন বন্ধ থাকার পরও যেগুলোর শেয়ার কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হচ্ছে সেগুলো নিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ বিশেষ জোর দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, উল্লেখিত কোম্পানিগুলো মধ্যে বিডি ওয়েল্ডিং ২০১৪ সালে সর্বশেষ ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করে। সর্বশেষ অর্থবছরের সবকটি প্রান্তিকেই লোকসান দেখিয়েছে কোম্পানিটি। জুন,২০১৮ অর্থবছরে ডিভিডেন্ড দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এছাড়া তিন বছর ধরে বিডি ওয়েল্ডিংয়ের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড ২০১৪ সালে সর্বশেষ ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করে। সরকারি এই কোম্পানিটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম তিন বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। ১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় বিডি সার্ভিসেস লিমিটেড।

বেক্সিমকো সিনথেটিকস কোম্পানিটি বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ১৯৯৩ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

দুলামিয়া কটন  কোম্পানিটি বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ১৯৮৯ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। আইসিবি ইসলামী ব্যাংক কোম্পানিটি বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ১৯৯০ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

ইমাম বাটন বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ১৯৯৬ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওয়ার্ক বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ২০০২ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

জুট স্পিনার্স সর্বশেষ ২০১২ সালে ২০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। এরপর থেকে উৎপাদন বন্ধের কারণে কোম্পানিটি আর কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি। ১৯৮৪ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেড বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ১৯৯৬ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ২০০১ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

মেঘনা পেট বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ২০০১ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। সমতা লেদার বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ১৯৯৮ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

সাভার রিফ্যাক্টরীজ বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ১৯৮৮ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। শ্যামপুর সুগার বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ১৯৯৬ সালে সরকারি এই কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

সোনারগাঁও টেক্সটাইল বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ১৯৯৫ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। শাইনপুকুর সিরামিকস বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ২০০৮ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

জিলবাংলা সুগার মিলস বিগত ৫ বছর ধরে কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। ১৯৮৮ সালে সরকারি এই কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top