ডিএসই লিস্টিং রেগুলেশনস: পর্ব-১

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: শেয়ারবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকেই লিস্টিং রেগুলেশনস মেনে চলতে হয়।শেয়ারবাজার শিক্ষা এই বিভাগে আজকের পর্বটি সাজানো হয়েছে “ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (লিষ্টিং) রেগুলেশনস,২০১৫” এই প্রবিধানটি নিয়ে। পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতির বিষয়টি লক্ষ্য রেখে সম্পূর্ণ এই প্রবিধানটি বিভিন্ন পর্বে প্রকাশ করা হবে। আজ প্রথম পর্ব দেওয়া হলো:

০১. প্রারম্ভিক

০১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগ:

০১। এই প্রবিধানগুলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (লিষ্টিং) রেগুলেশনস,২০১৫ নামে অভিহিত হবে।

০২। অনতিবিলম্বে এই প্রবিধানগুলো কার্যকর হবে।

০৩। এই প্রবিধানগুলো স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এবং তালিকাভুক্তির আবেদন করা সকল কোম্পানি, মিউচ্যুয়াল ফান্ড অথবা কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কীম (সিআইএস) এগুলোর উপর প্রয়োগ হবে।

০২. সংজ্ঞা:

০১। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকলে, এই প্রবিধানে-

(ক) ‘আইন’ বলতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন,১৯৯৩ (১৯৯৩ সালের ১৫ নং আইন) কে বুঝাবে।

(খ) ‘কমিশন’ বলতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে বুঝাবে।

(গ) ‘কোম্পানি’ বলতে যেকোন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি অথবা বডি করপোরেট অথবা তালিকাভুক্তির আবেদন করা যেকোন সত্তা অথবা যেগুলো ইতিমধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত রয়েছে সেগুলো এই সজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে।

(ঘ) ‘কোম্পানি সচিব’ বলতে কোম্পানির সচিবকে বুঝাবে।

(ঙ) ‘কমপ্লায়েন্স অফিসার’ বলতে কোম্পানি অথবা অ্যাসেট ম্যানেজার, যেসব সিকিউরিটিজ স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এগুলোর দ্বারা কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে নিয়োগকৃত ব্যক্তিকে বুঝাবে।

(চ) ‘ফান্ড’ বলতে কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত রয়েছে অথবা তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে যেকোন ফান্ডকে বুঝাবে।

(ছ) ‘ডিরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ’ বলতে পাবলিক অফারিং ( যেটাকে আইপিও বলা হয়) ছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জে বিদ্যমান সিকিউরিটিজ অফলোড করাকে বুঝায়। এক্ষেত্রে যেকোন অ-তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের তালিকাভুক্তি অথবা ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে লেনদেনকৃত সিকিউরিটিজসহ যেকোন তালিকাচ্যুত (ডি-লিস্টিং) সিকিউরিটিজের পুন: তালিকাভুক্তির (রি-লিস্টিং) মাধ্যমে ডিরেক্ট লিস্টিং হওয়া যায়।

(জ) ‘ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ’ বলতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স,১৯৬৯ (১৯৬৯ সালের ১৭ নং অর্ডিন্যান্স) এর ২ ধারার (ঘ) দফায় সংজ্ঞায়িত ইক্যুইটি সিকিউরিটিজকে বুঝাবে।

(ঝ) ‘এক্সচেঞ্জ’ বলতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডকে বুঝাবে।

(ঞ) ‘লিস্টেড কোম্পানি’ বলতে একটি কোম্পানি অথবা একটি বডি কর্পোরেট অথবা যেকোন সত্তা যার সিকিউরিটিজ এই প্রবিধান অনুসারে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

(ট) ‘লিস্টেড সিকিউরিটিজ’ বলতে এই প্রবিধানের আওতায় স্টক এক্সচেঞ্জে লিস্টেড সিকিউরিটিজ যেমন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স,১৯৬৯ (১৯৬৯ সালের ১৭ নং অর্ডিন্যান্স) আইনে সংজ্ঞায়িত যেকোন সিকিউরিটিজ, কমিশনের অনুমোদিত মিউচ্যুয়াল ফান্ড অথবা কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কীম (সিআইএস) এর ইউনিটকে বুঝাবে।

(ঠ) ‘মেটারিয়াল পরিবর্তন/ইনফরমেশন’ বলতে ঐসব পরিবর্তন/ইনফরমেশনকে বুঝাবে যেগুলো সিদ্ধান্ত, উপলক্ষ, আর্থিক অবস্থা, পরিস্থিতি, অবস্থা, পরিবেশ, ঘটনা, অর্থনৈতিক বা অন্যান্য কারণে ইস্যুয়ার/পরিচালক/স্পন্সর/চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার/ব্যবস্থাপনা পরিচালক/কোম্পানি সচিব/চীফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার/কমপ্লায়েন্স অফিসারের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোন পরিবর্তন যা সিকিউরিটিজ হোল্ডারদের/পটেনশিয়াল ইনভেস্টর/ অন্যান্য ইউজারদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ড বা কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কীম (সিআইএস) এর ক্ষেত্রে মেটারিয়াল পরিবর্তন/ইনফরমেশন বলতে ফান্ড/অ্যাসেট ম্যানেজার/ট্রাস্টি/ট্রাস্ট ডিডের অফার ডকুমেন্টে যেকোন পলিসির বেসিক স্ট্রাকচার পরিবর্তনকে বুঝাবে।

(ড) ‘অর্ডিন্যান্স’ বলতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স,১৯৬৯ (১৯৬৯ সালের ১৭ নং অর্ডিন্যান্স) কে বুঝাবে।

(ঢ) ‘প্রেসক্রাইবড্’ বলতে এই প্রবিধান বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা প্রণীত প্রেসক্রাইবড্।

(ণ) ‘পাবলিক ইস্যু রুলস’ বলতে সিকিউরিটিজের পাবলিক অফারিংয়ের উদ্দেশ্যে কমিশন কর্তৃক প্রণীত বিধি।

(ত) ‘পাবলিক অফার ডকুমেন্ট’ বলতে সাধারণ জনগনের কাছে শেয়ার বিক্রির জন্য সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী তৈরিকৃত/প্রকাশিত ডকুমেন্টকে বুঝাবে।

(থ) ‘সিকিউরিটিজ’ বলতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স,১৯৬৯ এর ২(১) ধারায় সংজ্ঞায়িত ইন্সট্রুমেন্টস, কমিশনের অনুমোদিত মিউচ্যুয়াল ফান্ড অথবা কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কীম (সিআইএস) এর ইউনিটকে বুঝাবে।

(দ) ‘স্পন্সর’ বলতে যেকোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যিনি/যা কোম্পানি/মিউচ্যুয়াল ফান্ড/কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কীম (সিআইএস) এর প্রারম্ভিক মূলধন যুগিয়েছেন তাকে বুঝাবে।

(ধ) ‘ট্রাস্টি’ বলতে কমিশন কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত যেকোন মিউচ্যুয়াল ফান্ড/কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কীম/যেকোন ডেবট ইন্সট্রুমেন্টের ট্রাস্টিকে বুঝাবে।

(ন) ‘ট্রাস্টি বোর্ড’ বলতে যেকোন মিউচ্যুয়াল ফান্ড/কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কীম/যেকোন ডেবট ইন্সট্রুমেন্টের বোর্ড অব ট্রাস্টিকে বুঝাবে।

 

পরবর্তী পর্বে থাকছে ‘লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ’

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

 

আপনার মন্তব্য

One Comment;

  1. Pingback: ডিএসই লিস্টিং রেগুলেশনস: পর্ব-২ – First Capital News

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top