যে কারণে ফান্ডগুলির ডিভিডেন্ডে পতন

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের সর্ববৃহত এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এর সাবসিডিয়ারি আইসিবি এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী (আইসিবি এএমসিএল) এর ফান্ডগুলোর (মেয়াদি) পারফরমেন্স গত বছরের তুলনায় বেশ হ্রাস পেয়েছে। এ বছর আইসিবি এএমসিএল এর ফান্ডগুলোর সর্বমোট ডিভিডেন্ড এর পরিমাণ ৪৪.৭৩ কোটি টাকা। গত বছর যার পারিমাণ ছিলো প্রায় ৫০ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় এ বছর ডিভিডেন্ড প্রদানের পরিমাণ প্রায় ১০% কমেছে।

অপরদিকে বাংলাদেশ রেইস ম্যানেজমেন্ট এর চলতি বছর সর্বমোট ডিভিডেন্ড প্রদানের পরিমাণ ২৪৪.৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫৭.১৭ কোটি টাকা ক্যাশ এবং ১৮৭.৫০ কোটি টাকা পুনঃবিনিয়োগ বা রি-ইনভেস্টমেন্ট। গত বছর রেস পরিচালিত ফান্ডগুলোর সর্বমোট ডিভিডেন্ড প্রদানের পরিমাণ ছিলো ৩১২.১৬ কোটি টাকা এর ৫৮.১১ কোটি টাকা ক্যাশ এবং ২৫৪.০৫ কোটি টাকা রি-ইনভেস্টমেন্ট। গত বছরের তুলনায় রেস এর লভ্যাংশ প্রদানের পরিমাণ ২১.৬২% কমেছে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে বোনাস শেয়ার বা রি-ইনভেস্টমেন্ট প্রদানের ব্যাপারে মতামত জানতে চাইলে বাংলাদেশ অর্থনীতি কাউন্সিলের সহসভাপতি ড. জামালউদ্দীন আহমেদ, এফসিএ বলেন- পুঁজিবাজারের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ড রি-ইনভেস্টমেন্ট দিতে চাওয়া বা দেওয়া স্বাভাবিক এবং এটি আইনসিদ্ধ। কাজেই না বুঝে রি-ইনভেস্টমেন্টকে কোনো কোনো মহল বিতর্কিত করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক মোহম্মদ সাদেক বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান প্রেক্ষাপটে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য রি-ইনভেস্টমেন্টের পাশাপাশি নগদ লভ্যাংশ প্রদান যথাযথ আছে। কারণ বাজারের বর্তমান দুর্বস্থায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর আয় কমেছে। এর ফলে ডিভিডেন্ড কমাটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।

বিষয়টি নিয়ে পুঁজিবাজার জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. রুহুল আমিন আকন্দ বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা মোটেই ভালো নেই। তারা অত্যন্ত কষ্টে এবং মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে শেয়ারহোল্ডারদের রি-ইনভেস্টমেন্টের পাশাপাশি নগদ লভ্যাংশ প্রদান করলে সেটি হবে অত্যন্ত সম্মৃদ্ধি ও যুগোপযোগী।

সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১ অনুযায়ী ফান্ডগুলো নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি রি-ইনভেস্টমেন্ট বা পুনঃবিনিয়োগ পদ্ধতিতে লভ্যাংশ প্রদান করে থাকে। রি-ইনভেস্টমেন্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড সমূহের একটি ডিভিডেন্ড প্রদানের পদ্ধতি যা নগদ লভ্যাংশের একটি বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীগণ নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে ফান্ড ইউনিট পেয়ে থাকেন যা তাদের বিনিয়োগ কস্ট কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রি-ইনভেস্টমেন্ট প্রদানের অনুমতি প্রদান করে যা তৎকালীন পুঁজিবাজারের মন্দাবস্থা কাটিয়ে উঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

রি-ইনভেস্টমেন্ট প্রদান মন্দাবাজারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থায় রি-ইনভেস্টমেন্ট প্রদান নগদ লভ্যাংশ প্রদানের চেয়ে বেশি বাজারবান্ধব। এর কারণ হলো, একটি ফান্ড যদি নগদ অর্থ বিনিয়োগকারিদের প্রদান করতে চায় তাহলে ফান্ডটিকে তার বিনিয়োগকৃত শেয়ার বাজারে বিক্রয় করতে হয়। এতে বাজারে সেল প্রেসার তৈরী হয় এবং বাজারে বৈরী প্রভাব তৈরি হওয়ার আশংকা থাকে। কিন্তু যদি ফান্ডটি রি-ইনভেস্টমেন্টে প্রদান করে, তবে তার হোল্ডিং শেয়ার বিক্রয়ের ঝুঁকি নিতে হয় না। বরং ফান্ডটি রি-ইনভেস্টমেন্টের অর্থ বাজারে পুনঃবিনিয়োগ করতে পারে। এতে করে বাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, যা মন্দাবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাছাড়া রি-ইনভেস্টমেন্ট প্রদান দীর্ঘ মেয়াদী রিটার্ন তৈরিতেও সহায়ক। মিউচ্যুয়াল ফান্ড একটি দীর্ঘ মেয়াদী ফিন্যান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্ট। এর প্রধান কাজ বিনিয়োগকারীদের জন্যে দীর্ঘমেয়াদী ভ্যালু তৈরী করা। একটি ফান্ড যদি নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে রি-ইনভেস্টমেন্টের প্রদান করে তবে এর নেট অ্যাস্ট ভ্যালু (এনএভি) ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়, ফলে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন তৈরী হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/বিশেষ প্রতিনিধি

আপনার মন্তব্য

Top