এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ১৩৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ: আমানত ২০১২ কোটি টাকা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বেসরকারি খাতের ছয়টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ১৩৭ কোটি ৩২ লাখ ৯৪ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে শহর অঞ্চলে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ২৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং গ্রাম অঞ্চলে ঋণ বিতরণ হয়েছে ১১৩ কোটি ৫৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনায় এমন তথ্য জানা গেছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পুরুষদের মোট ৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। আর নরীদের মধ্যে ৮ কোটি ৪১ লাখ ৮৭ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশ পিছিয়ে রয়েছে। অন্যান্য মোট ৮৫ কোটি ৬২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংক এশিয়া। তারা মোট ১২৮ কোটি ৯৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে শহরে বিতরণ করা হয়েছে ১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং গ্রামে বিতরণ করা হয়েছে ১১১ কোটি ৬৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

এরপর রয়েছে আল-আরাফাহ্ ইসলামি ব্যাংক। তারা মোট ৪ কোটি ১৭ লাখ ১৬ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এছাড়া মধুমতি ব্যাংক ৯ লাখ টাকা; মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা; সিটি ব্যাংক ৭১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা এবং ডাচ বাংলা ব্যাংক ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।

এদিকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ বাড়ছে। চলতি বছরের জুন প্রান্তিকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ১৭টি ব্যাংকে আমানত এসেছে ২ হাজার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিক শেষে আমানত সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। তিন মাসের ব্যাবধানে আমানত সংগ্রহের পরিমাণ ৩৭৯ কোটি অথবা ২৩.১৫ শতাংশ বেড়েছে।

এজেন্টের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আমানত এনেছে আল-আরাফাহ্ ইসলামি ব্যাংক। তারা মোট ৭৭০ কোটি ৮১ লাখ ৮৯ হাজার টাকার আমান সংগ্রহ করেছে। এরপর রয়েছে ডাচ বাংলা ব্যাংক। তারা ৫৯৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকার আমান এনেছে। ব্যাংক এশিয়া ৩৭৯ কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার টাকা আমানত এনে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে জুন পর্যন্ত ১৫ ব্যাংকের মাধ্যমে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫১৪ কোটি ২২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৪৩৫ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা এনেছে ডাচ বাংলা ব্যাংক। ব্যাংক েএশিয়ার মাধ্যমে এসেছে ১ হাজার ২৪৯ কোটি ৯৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং আল আরাফাহ্ ইসলামি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৩১ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

এজেন্ট ব্যাংকে ১৭ ব্যাংকে মোট হিসাব সংখ্যা ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০। মার্চ শেষে হিসাব ছিল ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৭। হিসাব বেড়েছে ২১ শতাংশ। এর মধ্যে শহরে হিসাবধারীর সংখ্যা ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৩ এবং গ্রামে হিসাবধারীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৭। পুরুষ হিসাবধারীর সংখ্যা ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৪ এবং নারী হিসাবধারীর সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৮২৪।

জানা গেছে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠী যারা ব্যাংকিং সেবা থেকে দূরে আছে তাদেরকে স্বল্প খরচে ব্যাংকিং সেবা দিতে প্রথমে চালু হয় মোবাইল ব্যাংকিং। এরপরেই একই উদ্দেশ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবাও চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ২০১৪ সালে ব্যাংক এশিয়া প্রথমে এ সেবা চালু করে। এজেন্ট ব্যাংকিং হলো- সমঝোতা স্মারকে চুক্তির বিপরীতে এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকিং সেবা দেওয়া। কোনো ধরনের বাড়তি চার্জ ছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। ২০১৩ সালের প্রথম নীতিমালায় প্রথমে শুধু পল্লী এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও পরের বছর নীতিমালায় কিছুটা সংশোধন আনা হয়। সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী যেখানে ব্যাংকের শাখা নেই এমন পৌর ও শহর অঞ্চলেও এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া যায়।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবারে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জমা অথবা উঠানো যায়। তবে অন্তর্মুখী রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে উত্তোলনের এ সীমা প্রযোজ্য হবে না। দিনে দু’বার জমা ও উত্তোলন করা যায়। প্রতি এজেন্টকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাব থাকতে হয়। ওই হিসাবের সর্বোচ্চ স্থিতি সীমা ১০ লাখ টাকা দেওয়া আছে।
এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, অ্যাকাউন্টে টাকা জমা ও উত্তোলন, টাকা স্থানান্তর (দেশের ভিতর), রেমিট্যান্স উত্তোলন, বিভিন্ন মেয়াদি আমানত প্রকল্প চালু, ইউটিলিটি সার্ভিসের বিল পরিশোধ, বিভিন্ন প্রকার ঋণ উত্তোলন ও পরিশোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকারি সকল প্রকার ভর্তুকি গ্রহণ করা যায়। এজেন্টরা কোনো চেক বই বা ব্যাংক কার্ড ইস্যু করতে পারেন না। এজেন্টরা বিদেশি সংক্রান্ত কোনো লেনদেনও করতে পারেন না। এছাড়া এজেন্টদের কাছ থেকে কোনো চেকও ভাঙানো যায় না। এজেন্টরা মোট লেনদেনের ওপর কমিশন পেয়ে থাকেন।
শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top