আজ: বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ইং, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১২ মে ২০১৫, মঙ্গলবার |


kidarkar

পজেটিভ হচ্ছে নেগেটিভ ইক্যুইটি : বিএসইসির সিদ্ধান্তে প্রাণ ফিরে পাবে হাউজ মালিক ও বিনিয়োগকারীরা


pirce_up_dse_cseশেয়ারবাজার রিপোর্ট : দেরিতে হলেও পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতার জন্য এযাবত কালের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এখন থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্যাশ ডিভিডেন্ড সিকিউরিটিজ হাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে মার্জিন অ্যাকাউন্টের বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে জমা হবে। এছাড়া বিনিয়োগকারীরা রাইট অফার নিতে অপারগ হলে হাউজ কর্তৃপক্ষ সে সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এতে করে বাজারে সেল প্রেসার হবে না। এছাড়া হাউজগুলোর নেগেটিভ ইক্যুইটি কমবে:নেগেটিভ ইক্যুটিতে যে ভালো শেয়ার থাকবে এগুলো বিক্রি হবে না। এতে নেগেটিভ ইক্যুইটি এক সময়ে পজেটিভ হবে। যেসব কোম্পানি ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেবে সেগুলোতে ক্রয়ের প্রবণতা বাড়বে। সর্বপরি বাজারে ফোর্সসেলের মাত্রা অনেকটা কমে যাবে। এতে করে আগের মতো করে প্রাণ ফিরে পাবে পুঁজিবাজার তথা হাউজ মালিক ও বিনিয়োগকারীরা।

জানা যায়, মার্জিন অ্যাকাউন্ট বা লোন অ্যাকাউন্টে যখন শেয়ার কেনা হয় এবং শেয়ারের দাম বাড়া বা কমা যাই হোক না কেন তা স্বয়ক্রিয়ভাবে প্রত্যেকে মাসে বা প্রান্তিকে হিসাবভুক্ত হয়। যখন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যায় তখন ইক্যুইটি মাইনাসে চলে আসে। এক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী বিনিয়োগকারীদের নগদ টাকা দিয়ে লোন সমন্বয় করতে হয়।

কিন্তু মার্কেটের টেনডেন্সি অনুযায়ী নগদ টাকা দিয়ে ঋণ সমন্বয় করার প্রাকটিস বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীর নেই। এতে করে একসময় ঐ ক্লায়েন্টের পোর্টফলিও ফোর্সসেল স্ট্যাটাসে চলে আসে। তখন হাউজ কর্তৃপক্ষকে বাধ্য হয়েই ফোর্সসেল করতে হয়।

এদিকে নেগেটিভ পোর্টফলিওর যেসব ক্লায়েন্টদের কাছে হাউজ কর্তৃপক্ষের টাকা পাওনা রয়েছে যদি ঐ ক্লায়েন্টের অ্যাকাউন্টে শেয়ার থাকে তাহলে তা বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে।

দেখা গেছে, ক্লায়েন্টের অ্যাকাউন্টে থাকা ভালো কোম্পানির শেয়ার যখন ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিচ্ছে তখন রেকর্ড ডেটের আগে সেসব কোম্পানির শেয়ার হাউজ বিক্রি করে দিচ্ছে। বিক্রি করে হয় অন্য শেয়ার কিনে দিচ্ছে না হয় কিনছে না। এক্ষেত্রে ভালো কোম্পানির শেয়ারও সেল প্রেসার থেকে বাদ পড়ছে না।

কারণ কোম্পানি ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিলে তার টাকাটা ক্লায়েন্টদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। এটা হাউজ বা ক্লায়েন্টের বিও হিসাবে যোগ হচ্ছে না। অন্যদিকে ক্লায়েন্টও ক্যাশ ডিভিডেন্ডের টাকা দিয়ে লোন সমন্বয় করছে না। এতে ক্লায়েন্টের ইক্যুইটি আরো নেগেটিভ হয়ে যাচ্ছে। কারণ সে হাউজে টাকা দিচ্ছে না। ঘুরেফিরে বিনিয়োগকারী ও হাউজ কর্তৃপক্ষ উভয়ই লুজার হচ্ছে।

এদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা মিউচ্যুয়াল ফান্ড যারা ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেবে তারা এখন থেকে শুধু লোন কোডের বিপরীতে  মার্চেন্ট ব্যাংক বা সিকিউরিটিজ হাউজে ডিভিডেন্ড পাঠাবে। হাউজগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে এই ডিভিডেন্ডের টাকাটা ক্লায়েন্টের অ্যাকাউন্টে পৌছে দেয়া।

আগে যে লোন কোডগুলোতে বা মার্জিন লোন কোডে যারা ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিতো তাদের পোর্টফলিও’র শেয়ার মার্চেন্ট ব্যাংক বা সিকিউরিটিজ হাউজগুলো নেগেটিভ বা অতিরিক্ত লোনের কোডে সেল করে দিতো। এখন থেকে মার্চেন্ট ব্যাংক বা সিকিউরিটিজ হাউজগুলো ঐ লোন কোডগুলোতে শেয়ার সেল করবে না। এক্ষেত্রে ফোর্সসেল কমে আসবে।

মঙ্গলবার বিএসইসির এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন বাজার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করলে জানা যায়, বিএসইসির এই যুগপোযোগী সিদ্ধান্তে হাউজগুলো ভালো শেয়ার নেগেটিভ ইক্যুইটির পোর্টফলিওতে সেল করবে না। বরং যারা ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেবে তাদের শেয়ার কিনে দিতে উৎসাহ দেখাবে।

অন্যদিকে যদি কোনো কোম্পানি রাইটের ঘোষণা দেয় এবং তার অনুমোদন পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে কোম্পানির ভিত্তি দেখে মার্চেন্ট ব্যাংক ও হাউজ কর্তৃপক্ষ রাইট গ্রহণ বা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

এ বিষয়ে উদাহরণ দিয়ে এক মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ারবাজার নিউজ ডটকমকে জানান, একজন ক্লায়েন্ট অ্যাকাউন্টে ইক্যুইটি নেগেটিভ পর্যায়ে রয়েছে। তার অ্যাকাউন্টে ‘আ’ অদ্যক্ষরের একটি কোম্পানির শেয়ার ছিল এবং সেটি রাইট শেয়ারের ঘোষণা দিয়েছে। এটার রাইট অনুমোদন পেলে নেগেটিভ ক্লায়েন্টরা টাকা দিতে পারবে না। এখন টাকা যদি না দেয় তাহলে হাউজগুলো ঐ শেয়ার ক্লায়েন্টের কোডে রাখবে না: বরং বিক্রি করে দেবে। এক্ষেত্রে কোম্পানিটির ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত, ভবিষ্যত অত্যন্ত উজ্জল হওয়া সত্ত্বেও শেয়ারের দর পড়ে যাবে। ক্লায়েন্ট লুজার হয়ে যাবে।

বিএসইসির এই সিদ্ধান্তে এখন দুটো সুযোগ থাকবে। হাউজগুলো রাইটের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টদের জানাবে। যদি রাইটের টাকা না দিতে পারে তাহলে হাউজের পক্ষ থেকে ঐ কোম্পানির রাইট শেয়ারের সুযোগ নিতে পারবে। পরবর্তীতে ঐ রাইট শেয়ার হাউজ ব্যবহার করতে পারবে। এতে ঐ কোম্পানির শেয়ার দর পড়বে না। ক্লায়েন্টও লুজার হবে না। বরং লাভবান হবে।

ক্যাশ ডিভিডেন্ড ও রাইট শেয়ার বিষয়ে বিএসইসির সিদ্ধান্তের কারণে ফোর্সসেল আসবে না বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৫৪৩তম সাধারণ সভায় এ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইস্যুয়ার কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড লভ্যাংশ অথবা ভগ্নাংশ বোনাসের বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে মার্জিন শ্রেণীভুক্ত গ্রাহকদের বিও হিসাবসমূহের লভ্যাংশের অর্থ একত্রে উক্ত বিও হিসাবসমূহের তালিকাসহ একটি চেক বা ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্টের মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্ট ডিপিকে প্রেরণ করবে। উক্ত ডিপি পরবর্তীতে তালিকা অনুযায়ী তা সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের হিসাবে বন্টন করবে।

এছাড়া মার্জিন গ্রাহক স্টক ব্রোকারের অনুমতি ছাড়া রাইট শেয়ার রিনানসিয়েট করতে পারবে না বলে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনো মার্জিন গ্রাহক কোন কোম্পানির রাইট শেয়ার নিতে না চাইলে সেক্ষেত্রে স্টক ব্রোকারের অনুমতি নিতে হবে। এ ব্যাপারে স্টক ব্রোকার সংশ্লিষ্ট ইস্যুয়ার কোম্পানিকে তাদের মার্জিন গ্রাহকের তালিকা প্রদান করবে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ২০ (A) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্টক ব্রোকারে রক্ষিত গ্রাহক হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে ইস্যুয়ার কোম্পানি অথবা মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য এ নির্দেশ জারি করে কমিশন।

২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর মার্চেন্ট ব্যাংকের নন ডিসক্রেশনারি হিসাবসমূহের ক্ষেত্রে এসইসি/সিএমআরসিডি/২০০৯-১৯৩/১৪২ নির্দেশনা জারি করে একই সুবিধা দিয়েছিল। কমিশনের নির্দেশনা জারির পর একই সুবিধা স্টক ব্রোকারের মার্জিন গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/সা/অ/মু

 

 

 


আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.