শেয়ারবাজার উন্নয়নে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বিশ্বে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার দ্রুত বিকাশ ও সম্ভাবনাময় হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের শেয়ারবাজার উন্নয়নে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ বুধবার সকালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) রজতজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শেয়ারবাজার গড়তে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। দেশের শেয়ারবাজার হবে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মানের উৎস। বিশ্বে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার দ্রুত বিকাশ ও সম্ভাবনাময় হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে শেয়ারবাজারের লেনদেন কারচুপি ও অনিয়ম শনাক্তকরণে যথাযথ নিয়ন্ত্রকমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের সকল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, আর্থিক প্রতিবেনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ফাইন্যান্সিয়াল রির্পোটিং কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অর্থনিটি ইনভেস্টমেন্ট রুলস ২০১৫ এর মাধ্যমে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অব প্রাইভেট ইক্যুইটিতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের লক্ষে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সুশাসন নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকাণ্ডের স্থিতিশীলতা আনয়নের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিএসইসির কর্মকর্তাদের উদ্দ্যেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের পদমর্যাদা, বেতন ও ভাতাদিসহ অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংকের সমমানের করে দিয়েছি। কমিশনের জন্য জনবল বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছি। কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণের লক্ষে আইনে বিধান রাখা হয়েছে। কমিশনে কর্মরত সকলের জন্য দেশে বিদেশে আরো উন্নততর প্রশিক্ষণ যাতে হয় সে ব্যবস্থা করেছি। এ জন্য বিভিন্ন সেমিনার ও ওয়ার্কশপের আয়োজনও করা হচ্ছে। যাতে করে কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে পুঁজিবাজার। এর বিকাশে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারত চীনসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে আগ্রহী হয়েছে। এরই মধ্যে চীন বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি এখন ৭ দশমিক ৮ ভাগে উন্নিত হয়েছে। মূল্যস্ফীত এখন ৫ দশমিক ৪ ভাগে নেমেছে। প্রবুদ্ধি যথন উচ্চ থাকে এবং মূল্যস্ফীতি যখন নিম্ন থাকে তখন অর্থনৈতিক সুফল জনগণ ভোগ করতে পারে। এখন প্রবৃদ্ধি বেশি ও মূল্যস্ফীতি কম হওয়ায় সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের পূর্বে তারা যেন সেই কোম্পানি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে-শুনে এবং বুঝে বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগ করার পূর্বে অবশ্যই সেই কোম্পানি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেবেন। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হোক, তা আমরা চাই না। তাই কারও কথায় প্ররোচিত না হয়ে নিজে বুঝে বিনিয়োগ করতেও তিনি আহ্বান জানান।

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top