মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যমান মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মেয়াদ আরো ১০ বছর বাড়িয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন গুরুত্বারোপ করায় বিনিয়োগকারীরাও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিভিন্ন বাজার বিশেষজ্ঞ এ বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্যও করেছেন।

ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)” এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক বলেন,“মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো হলো পুঁজিবাজারের প্রাণ। বাজারের ক্রান্তিকালে এই মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো এবং আইসিবি সাপোর্ট দিয়ে থাকে। বর্তমান বাজারের প্রেক্ষাপটে সরকার মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধির যে অনুমোদন দিয়েছেন তাতে সার্বিক বাজার চিত্রে ভবিষ্যতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. মোঃ হেলালউদ্দিন বলেন, “মেয়াদী মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন পুঁজিবাজারের ভারসাম্য রক্ষায় আবারো সহায়ক ভূমিকা পালন করলেন। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর খুবই অভাব। সাধারণত মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যতীত বাজারে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করে থাকে না। তাই বাজার ভারসাম্য রক্ষায় মিউচ্যুয়াল ফান্ড এর বিকল্প নেই।”

জনতা ক্যাপিটাল এন্ডইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীনা আহসান জানান, এই সকল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ২০১০-১১ইং এর মহাধ্বস পরবর্তী পুঁজিবাজারে ভারসাম্য রক্ষার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকার পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে ফান্ডগুলোর মেয়াদ পরবর্তী ১০ (দশ) বছরবৃদ্ধি করায় বাজার আরো স্থিতিশীল হবে।

প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রেজাউল হক বলেন, “বর্তমান বাজারের তারল্য সংকট নিরসনে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এই মেয়াদ বৃদ্ধিও সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো বাজারের ক্রান্তি লগ্নে সাপোর্ট দিয়ে থাকে। পুঁজিবাজারে বর্তমানে প্রায় ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড রয়েছে যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।”

পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন আকন্দ বলেন, “আমরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বিদ্যমান মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণাকে জোড়ালো সমর্থন জানাই। এটি না হলে শুধু মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বিনিয়োগই নয়, পুঁজিবাজারের অন্যান্য খাতের বিনিয়োগও ক্ষতিগ্রস্ত হতো। সরকারের এই সিদ্ধান্তে আমরা আবারো সঠিক বিনিয়োগের সুযোগ পেলাম। বাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম ৫-৬ টাকা হলেও অসুবিধা কি? আমিতো এই ফান্ডগুলো ৫-৬ টাকায় কিনে ১০ টাকার উপর ডিভিডেন্ড পাচ্ছি, যার ডিভিডেন্ড ইল্ড প্রায় ৬% থেকে ৭%। তাহলে কেন আমি ৫ টাকায় মিউচ্যুয়াল ফান্ড কিনবো না।

রুহুল আমিন আরো বলেন, ২০১০ সালে ব্যাংক খাতে যে শেয়ারগুলো ১০০ টাকার উপরে কিনেছি তার দাম আট বছর পরে এখনো ২০ টাকায় উঠেনি। কবে উঠবে তাও জানিনা। সেই তুলনায় মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রতি বছর ব্যাংক সুদের তুলনায় বেশী ডিভিডেন্ড দিচ্ছে। তবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করতে হয়। প্রতিদিন বেচাকেনা করে লাভ হয় না।”

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মন্তব্য

Top