বিদায়ী বছরের তুলনায় রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা কমল

শেয়ারবাজার ডেস্ক: করোনা মহামারির কারণে কমল রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা। ২০২০-২১ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা সদ্য বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় ৬ বিলিয়ন ডলার কম। গত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৪ বিলিয়ন ডলার।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জুম প্লাটফর্মের মাধ্যমে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিনের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল এই বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত-বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সাংসদ শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক, বেসিস সভাপতি আলমাস কবিরসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর বর্তমান এবং সাবেক নেতারা।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে সদ্য বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় কমেছে ২৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৪ দশমিক ৮০ ভাগ। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য সেবা ও পণ্য খাত মিলিয়ে মোট ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৯.৭৯ শতাংশ। এর মধ্য পণ্য খাতে ৪১ বিলিয়ন ডলার প্রবৃদ্ধি ২১.৭৫ শতাংশ ও সেবা খাতে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবৃদ্ধি ৯.৪৬ শতাংশ। যে রপ্তানি আয় নির্ধারণ করেছি সেটা আমরা অর্জন করতে পারব। আর গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) ৫৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গত ২ বছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা এবং এর বিপরীতে অর্জন হার ও প্রবৃদ্ধির হার বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যে কোভিড-১৯ এর নেতিবাচক প্রভাবের ফলে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে পণ্য খাতে রপ্তানি আয় যথাক্রমে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৮.১৯ শতাংশ, ৮২.৮৫ শতাংশ ও ৬১.৮৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

তবে জুন মাসে ২.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা থেকে অনুমান করা যায় সঠিক নীতি অনুসরণ ও সময়ানুগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৪ বিলিয়ন ডলার। পণ্য খাতে রপ্তানির টার্গেট সাড়ে ৪৫ বিলিয়ন এবং সার্ভিস সেক্টরে সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার। উভয় খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার।

আশা করা যায়, করোনা মহামারি ২০২০-এর শেষে কমে আসবে। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি ২০২১ সালের মধ্যেই প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে। ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে চলতি বছরের চতুর্থ কোয়ার্টারে তাদের চাহিদা উল্লম্ফন ঘটবে। ফলে রপ্তানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে আমাদেরও রপ্তানি বাড়বে।

মন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক খাতে বহুমুখীকরণ হবে এবং গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাংলাদেশের বিনিয়োগ বাড়বে। আইটি খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, ই-কমার্সের প্রসার ঘটবে এবং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে আইটির ব্যবহার বাড়ার ফলে আমাদের রপ্তানিও বাড়বে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি ১৯.৭৯ শতাংশ রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সব ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

শেয়ারবাজারনিউজ/মা

আপনার মন্তব্য

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top