২৮ বছর পর পাবনা সুগার মিল বন্ধ ঘোষণা, বিপাকে ১২ শতাধিক শ্রমিক

শেয়ারবাজার ডেস্ক: আন্দোলন  সব কিছু উপেক্ষা করে মিল চালুর ২৮ বছর পর পাবনা সুগার মিল বন্ধ করে দিল সরকার। আখচাষি ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের আবেদন-নিবেদনের কোন তোয়াক্কা না করে করলো না। এতে মিলের ১২ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী আর সাত হাজার আখচাষি বিপাকে পড়েছেন।

পাবনা সুগার মিলস লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফ উদ্দিন আহম্মেদ বুধবার রাতে মিল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মিল বন্ধের এ সিদ্ধান্তে আখচাষি ও শ্রমিক-কর্মচারীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকায় চিনি শিল্পভবনে অবস্থান করে তাদের দাবি তুলে ধরবেন।

বাংলাদেশ চিনিকল আখচাষি ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আখচাষি কল্যাণ সমিতি পাবনা সুগার মিলস্ লি: এর সভাপতি আলহাজ্ব শাজাহান আলী বাদশা জানান, আমরা অপেক্ষায় ছিলাম চিনিকলে আখ মাড়াই শুরুর চিঠি আসছে। কিন্তু চিনিকল বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়ে বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশন চিঠি পাঠালো। এই এক চিঠিতেই মিলের ১২শ শ্রমিক-কর্মচারী আর সাত হাজার আখচাষি পথে বসল।

পাবনা চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) শিল্পমন্ত্রণালয়ের ১১৬নং স্মরকের চিঠিতে বলা হয়েছে চিনি আহরণের হার, আখের জমি, মিলের অবস্থা/দক্ষতা, লোকাসান ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বিবেচনায় চলতি আখ মাড়াই মৌসুমে ১৫টি চিনিকলের মধ্যে অধিকতর বিবেচনায় ৯টি চিনিকলে উৎপাদন পরিচালনা করা হবে। অবশিষ্ট ৬টি মিলে আখ মাড়াই না করার প্রস্তাব করা হলো।

আখ মাড়াই বন্ধ করা চিনিকলগুলোর মধ্যে রয়েছে পাবনা সুগার মিল, কুষ্টিয়া সুগার মিল, পঞ্চগড় সুগার মিল, শ্যামপুর সুগার মিল, রংপুর সুগার মিল ও সেতাবগ্ঞ্জ সুগার মিল। বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশন থেকে বুধবার (২ ডিসেম্বর) ১৯১৯নং স্মারকে এ চিঠি পাবনা সুগার মিলে পাঠানো হয়।

এদিকে মিল বন্ধের চিঠি আসার পরই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আখচাষি ও মিলের শ্রমিক কর্মচারীরা। বিক্ষুব্ধ শ্রমিক কর্মচারী ও আখচাষিরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তারা বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকায় চিনি শিল্প ভবনে সমবেত হয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি তুলে ধরবেন বলে নেতৃবৃন্দ জানান।

প্রবীণ আখচাষি আমজাদ হোসেন বলেন, দেশে বিমান, রেলওয়ে, তাঁত শিল্প কি লোকসানে নেই? সেগুলো তো বন্ধ হচ্ছে না। ওইসব সেক্টরের তুলনায় সামান্যই লোকসান চিনিকলে। তারপরও মোট চিনিকলের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। সে টাকার বার্ষিক ৪ শতাংশ মুনাফা ধরলেও বছরে বাড়ছে প্রায় ১২শ কোটি টাকা। সে হিসাবে চিনিকলকে অলাভজনক বলাই যাবে না।

তিনি বলেন, ১৮ মাসের ফসল হলো আখ। চাষির মাঠে এখনও আখ। অথচ এরই মধ্যে পাবনাসহ দেশের ৬টি মিল বন্ধ করে দেয়া হলো। খেতে উৎপাদিত আখ তারা এখন কী করবেন?

তারা বলেন, মুজিববর্ষে মানবতার জননীস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে দেবেন বলে তারা বিশ্বাস করেন না।

পাবনা সুগার মিলস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জল জানান, দেশে চলমান করোনা মহামারিতে এমনিতেই শ্রমিক-কর্মচারীরা দীর্ঘ প্রায় ৮/৯ মাস বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে অর্ধাহার-অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এর ওপর আবার মিলটি একেবারেই বন্ধ করে দেয়া হলো।

পাবনা সুগার মিলস লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফ উদ্দিন আহমেদ জানান, আখের জমি, চিনি আহরণের হার, মিলের অবস্থা/ উৎপাদন দক্ষতা, লোকসান ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বিবেচনায় পাবনা সুগার মিলসহ দেশের ৬টি সুগার মিলে চলতি মাড়াই মৌসুম আখ মাড়াই বন্ধ রাখার জন্য বুধবার (৩ ডিসেম্বর) শিল্পমন্ত্রণালয় থেকে চিঠি এসেছে। এরপরই চিঠির আলোকে মিলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এমডি আরও জানান, দেশের ১৫টি সুগার মিলের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন প্রদান করা হয়। মিলের অধীনে পাওনাদার আখচাষি ও শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনসহ যাবতীয় বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ মিলের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে টিঠির মাধ্যমে কর্পোরেশনকে অবগত করা হয়েছিল। এর ভিত্তিতে অধিকতর সমস্যা ও লোকসান বিবেচনা করে শিল্পমন্ত্রণালয় ৬টি সুগার মিল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিয়েছে।

তিনি জানান, বন্ধ হওয়া মিলের কিছু শ্রমিক কর্মচারীকে চালু থাকা মিলগুলোতে সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে মিলগুলোর অধীনে চাষ হওয়া আখ নিকটবর্তী চালু থাকা সুগার মিলে সরবারহ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/মি

 

আপনার মন্তব্য

Top