আজ: সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২ইং, ২০শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩রা জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২২ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার |



kidarkar

উন্নয়নের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্তের চেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল

শেয়ারবাজার ডেস্ক: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, উন্নয়নের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য, সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ অভিযোগ করেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বলা হচ্ছে এই সরকার যথেষ্ট উন্নয়ন করেছে। ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। চারটা দেশের পরে বাংলাদেশ। ভুটানেরও নিচে। এতেই বোঝা যায়, উন্নয়নের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিবের ভাষ্য, দেশে যখন গণতন্ত্র ছিল না, রাজনৈতিক শূন্যতা বিরাজ করছিল, সেই রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করার জন্য, বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেছিলেন।

মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করে সরকার দেশকে একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এটা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীত অবস্থান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির আদর্শ-লক্ষ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে কথা বলা হয়, স্বাধীনতার চেতনাকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হতে চলছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে আমাদের সীমান্তে দেশের নাগরিকেরা নিহত হচ্ছেন। মিয়ানমার থেকে যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে দেশে প্রবেশ করেছে, তাদের প্রত্যাবর্তনে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা না থাকলে কোনো কিছুই সফল হয় না।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল সালাম উপস্থিত ছিলেন।স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরজুড়ে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এ জন্য দলটি ২৫টি কমিটি গঠন করেছে।

আজ দুপুরে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই কমিটিতে থাকা নেতাদের নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্যে বিষয়ভিত্তিক কমিটি ১৫টি, বিভাগীয় সমন্বয় কমিটি ১০টি।

কমিটি ঘোষণার আগে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দল হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে তাঁদের দায়িত্ব বেশি। সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে পর্যায়ক্রমে বহির্বিশ্বেও কমিটি গঠন করা হবে।

আইনের শাসন ও মানবাধিকার কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদকে। এই কমিটির সদস্যসচিবেরা হলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন ও দলের মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) শাহজাহান ওমরকে। এই কমিটির সদস্যসচিব দলের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদিন।

প্রচার কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে। কমিটির সদস্যসচিব দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী।

সেমিনার-সিম্পোজিয়াম কমিটির আহ্বায়ক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। সদস্যসচিব চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।

প্রকাশনা কমিটির আহ্বায়ক দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। সদস্যসচিব প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম।

আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব বাদে প্রতিটি কমিটিতে একাধিক নেতাকে রাখা হয়েছে।

কমিটি ঘোষণার সময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ারবাজার নিউজ/মি

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.