আজ: বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ইং, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৫ জুন ২০১৫, সোমবার |


kidarkar

চলছে এজিএম মৌসুম: দালালদের দৌরাত্মে বঞ্চিত বিনিয়োগকারীরা


AGMশেয়ারবাজার রিপোর্ট: ডিসেম্বর ২০১৪ সমাপ্ত অর্থবছরের ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) মৌসুম চলছে। চলতি মাসে পরিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান চলবে। তারপরের মাস থেকে এজিএমের অনুষ্ঠান চলবে ঢিলেঢালাভাবে। সারাবছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এজিএম অনুষ্ঠিত হয় মে মাসের শেষ ও জুন মাসে। একই দিনে ৩টি থেকে ৬-৭টি কোম্পানির এজিএম অনুষ্ঠিত হয়। আর একই দিনে একই সময়ে একাধিক কোম্পানির এজিএমের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় অংশগ্রহণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন ভাড়া করা দালালরা। কারণ একই দিনে ৪-৫টি কোম্পানির এজিএম অনুষ্ঠিত হলে সবগুলোতে অংশগ্রহণ করা যায় না। ফলে তাদের আয় কম হয়। এদিকে অনুষ্ঠেয় এজিএমে ভাড়াটে দালালদের তোষামোদমূলক বক্তব্যে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে পারেন না। ফলে এসব ভাড়া করা দালালদের দৌরাত্মে বঞ্চিত হন তারা। এ ব্যাপারে বেশকিছু কোম্পানির সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সাথে আলাপ করলে জানা যায়, এজিএম একটি কোম্পানির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখানে শেয়ারহোল্ডাররা বছরে মাত্র একদিন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অতিত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের উন্নয়নের ধারা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করতে পারে। কিন্তু প্রায় সব কোম্পানির এজিএমে বক্তব্য দেয়ার জন্য দালাল ভাড়া করা হয়। তাদের বক্তব্যে কোম্পানির চেয়ারম্যান, এমডির গুনগান ছাড়া কিছুই শোনা যায় না। শেয়ারহোল্ডারা আরো জানান, বিএসইসি পূনর্গঠন হয়েছে অনেক দিন হলো। কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তাই অনতিবিলম্বে এ সংক্রান্ত বিষয়ে এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক। যাতে দালালদের দৌরাত্মে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারা বঞ্চিত না হন। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, মূলত যাদেরকে দালাল বলা হয় তারাও কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার। কারণ এজিএমে শেয়ারহোল্ডার ছাড়া অন্যদের কোম্পানি সম্পর্কে বক্তব্য দেয়ার অগ্রাধিকার নেই। অনেক সময় কোম্পানির একক স্বেচ্ছাচারিতা বিরাজ করার জন্য দালালদের বিও অ্যাকাউন্টে গুটিকয়েক সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কিনে নেয়া হয়। অনুষ্ঠানে তারা বক্তৃতা দিলে সেটার ভিডিও ফুটেজ বিএসইসিতে জমা দেয়া হয়। এতে আইনও পালন করা হলো, আবার নিজেদের ইচ্ছেমতো কোম্পানি পরিচালনা করা গেলো।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ১৫ জুন ৩ কোম্পানির এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো: বিএসআরএম স্টিল লিমিটেড, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড। ১৬ জুন ৬ কোম্পানির এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো: স্কায়ার টেক্সটাইল, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, প্রিমিয়ার ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, কনফিডেন্স সিমেন্ট এবং এমজেএল বিডি লিমিটেড। এছাড়া চলতি মাসের ১৭ তারিখ, ২০,২১,২২,২৪,২৫,২৭,২৮,২৯ তারিখে একাধিক কোম্পানির এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। জুলাই মাসের একাধিক কোম্পানির এজিএম অনুষ্ঠিত হবে। এসব অনুষ্ঠিত এজিএমে পুঁজিবাজারের যে দালাল গ্রুপগুলো রয়েছে তাদের উপস্থিত থাকা কষ্টাসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এজিএমে উপস্থিত হতে না পারলে কমিশনও পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে ইতিমধ্যে প্রায় সব কোম্পানির এজিএমে নামধারী ভাড়া করা শেয়ারহোল্ডার বিস্তৃতি লাভ করেছে। তাই প্রতিনিয়তই বঞ্চিত হতে হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। যারা অনেক দূর হতে এজিএমে উপস্থিত হয়ে শুধু কোম্পানি কর্তৃপক্ষের ভূয়সি প্রশংসা শুনেই বাড়ি ফিরে যেতে হয়। এ অবস্থার পরিবর্তন চায় ভুক্তভোগিরা। এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু/সা


আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.