আজ: সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ইং, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৬ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৯ মার্চ ২০২১, মঙ্গলবার |


যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ বছরের কারাদণ্ড বাংলাদেশির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে চিকিৎসার নামে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ও ব্যথানাশক ওষুধ সরবরাহ করে ১৩২ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় এক বাংলাদেশিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন মিশিগানের কেন্দ্রিয় আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মাশিয়াত রশিদ(৪০)।

একই চক্রের সদস্য হিসেবে ১২ চিকিৎসকসহ আরো ২১ জনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড হয়েছে বলে মিশিগান ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি সাইমা শফিক মহসিন এবং বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিকলাস এল ম্যাকুয়াইড সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন।

মিশিগান এবং ওহাইও স্টেটভিত্তিক ‘ট্রাই-কাউন্টি ওয়েলনেস গ্রুপ’র সিইও মাশিয়াত রশিদকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রতারণামূলকভাবে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফিরিয়ে দিতে হবে মেডিকেয়ার কোম্পানিকে। আরো সাড়ে ১১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাণিজ্যিক ও আবাসিক রিয়েল এস্টেট রাষ্ট্রের বরাবরে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

মিশিগানের ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ডের বাসিন্দা মাশিয়াত রশিদকে ২০১৭ সালে গ্রেপ্তার হন। ২০১৮ সালে নিজে থেকেই দোষ স্বীকার করেন তিনি। গত ৩ মার্চ তাকে এই দণ্ড প্রদান করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত রশিদ ছিলেন ওই ট্রাই-কাউন্টি ওয়েলনেস গ্রুপের সিইও। এর অধীনে বেশ কিছু ক্লিনিক চালু করা হয়। ব্যথানাশক ইঞ্জেকশনের আদৌ প্রয়োজন না হলেও অনেক মানুষকে তা প্রদান করা হয়। এভাবে অনেক মানুষকে আসক্ত করা হয় ওষুধ সেবনে। শত শত রোগী চিকিৎসার নামে মোটা অঙ্ক ড্র করা হয় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে।

তদন্তের সময় অনেকে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, ওই ক্লিনিকে বা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে যতটুকু ব্যথা ছিল, পরে ব্যথা চরম আকার ধারণ করে। অর্থাৎ ঘন ঘন ইঞ্জেকশন নিতে হয়েছে তাদেরকে। তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে উল্লেখ করেছেন, মাশিয়াত রশিদের নেটওয়ার্কের চিকিৎসকরা ৮ বছরে এত বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো অঞ্চলে ঘটেনি।

প্রতারণামূলকভাবে অর্জিত অর্থে ব্যক্তিগত জেট ক্রয় করেন মাশিয়াত। দামি গাড়ি ছাড়াও স্ত্রীর জন্য মূল্যবান স্বর্ণালংকার, নিজের জন্য বিশ্বে সবচেয়ে মূল্যবান ঘড়ি, টাই, স্যুট, জুতা ক্রয় করেছেন। মাশিয়াতের জীবনযাপন দেখে মিশিগান ও ওহাইওতে বসবাসরত প্রবাসীরাও বিস্মিত হয়েছিলেন।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.