আজ: শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১ইং, ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩০শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৫ মার্চ ২০২১, বৃহস্পতিবার |


চক্ষু চিকিৎসার নামে প্রতারণায় সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীসহ আটক ৩

জাতীয় ডেস্ক: বাগেরহাটে চক্ষু চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীসহ তিন জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার পাটরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আটক করে তাদেরকে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী।

আটককৃতরা হলেন- মোরেলগঞ্জ উপজেলার সোনাডাংগা গ্রামের আজহারুল ইসলামের ছেলে ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উপ সহকারী মেডিক‌্যাল অফিসার মো. মিজানুর রহমান (৩০), বাগেরহাট সদর উপজেলার কোড়ামারা গ্রামের বাবর আলী মল্লিকের ছেলে জুয়েল মল্লিক ও একই গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মো. মাহফুজুর রহমান (৩৪)। আটক মিজানুর রহমান মোরেলগঞ্জ ইউনিয়নের বিষখালী কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত আছেন। আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ান ডিজিটাল চক্ষু হাসপাতালের নামে চক্ষু ক্যাম্প করে আসছিল।

প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা হিসেবে ২৬৫/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড়, ঢাকা-১২০৪ ব্যবহার করত প্রতারক চক্রটি। তারা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষদের স্বল্প মূল্যে চক্ষু চিকিৎসা দেওয়া কথা বলে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

পাটরপাড়া গ্রামের শেখ মো. রাসেল ও শেখ রেজাউদ্দিন বলেন, ‘‘কয়েকদিন ধরে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের প্রচার করে প্রতারক চক্রটি। সকালে তারা পাটরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে একটি ব্যানার টানিয়ে চক্ষু ক্যাম্প শুরু করেন। রেজিস্ট্রেশনের কথা বলে ৫০০/৬০০ টাকা করে নিচ্ছিলেন তারা।

‘সেসময় তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে প্রতারণার বিষয়টি আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়। তারা স্থানীয় খানজাহান আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এসএস লিয়াকত হোসেন ননীকে ইনজেকশন পুশ করলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের আটক করা হলে তারা প্রতারণার কথা স্বীকার করে টাকা ফেরত দিতে চান। তাদেরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছি।”

বাগেরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত) পান্নু মিয়া বলেন, ‘চক্ষু ক্যাম্পের নামে প্রতারণা করছিল একটি চক্র। এলাকাবাসী বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের আটক করে আমাদের খবর দেয়। আমরা তিন জনকে আটক করেছি। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের পূর্বক আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।’

মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুফতি কামাল হোসেন বলেন, ‘কোনো স্টাফের অপরাধের দায়ভার আমি নেব না। মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি কোনো অন্যায় করে থাকে। তাহলে তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.