আজ: মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১ইং, ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৩ মে ২০২১, সোমবার |


kidarkar

এপ্রিলে রফতানি আয় বেড়েছে ২৬১ কোটি ডলার

শেয়ারবাজার ডেস্ক: করোনাভাইরাসের লাগাম টানতে চলমান বিধিনিষেধের মধ্যেও পণ্য রফতানিতে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। এপ্রিলে মাসে রফতানি আয় বেড়েছে ২৬১ কোটি ডলার যা ৫০৩ শতাংশের বেশি।

করোনার প্রথম ঢেউয়ে দেওয়া লকডাউনে গত বছরের এপ্রিলে পণ্য রফতানি প্রায় বন্ধ ছিল। সে কারণে রফতানি খাত বড় ধরনের হোঁচট খায়। রফতানি নেমে যায় মাত্র ৫২ কোটি ডলারে।

সেই বিপর্যয় কাটিয়ে চলতি বছরের এপ্রিল ৩১৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। যা গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ৫০২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

রোববার (২ মে) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে ৫ এপ্রিল থেকে সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করলেও তৈরি পোশাকসহ সব শিল্পকারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখে। ফলে, রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। তাই রফতানি প্রবৃদ্ধি ছুঁলো আকাশ।

যদিও ২০১৯ সালের এপ্রিলে ৩০৮ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছিল। সেই তুলনায়ও রফতানি বেড়েছে এক দশমিক ৬২ শতাংশ। তার মানে রফতানি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক পর্যায়ে আছে দেশ।

ইপিবির পরিসংখ্যান আরও বলছে, তৈরি পোশাক, পাট ও পাটপণ্য, চামড়া ও চামড়াপণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য, রাসায়নিক পণ্য ও প্রকৌশল পণ্যের রফতানি ইতিবাচক ধারায় ফেরার কারণেই সার্বিকভাবে পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে হিমায়িত খাদ্যের রফতানি কমেছে।

সার্বিকভাবে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) তিন হাজার ২০৭ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আট দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দুই হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ছয় দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দুই দশমিক ৫৫ শতাংশ কমেছিল তৈরি পোশাক খাতের রফতানি। অন্যদিকে হিমায়িত মাছসহ সবধরনের হিমায়িত খাদ্যের রফতানি কমে ৯ শতাংশের মতো। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ছয় শতাংশের বেশি রফতানি কমেছে। ফার্নিচারের রফতানি কমেছে ১৩ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি রফতানি কমেছে জাহাজ শিল্পে। এই খাতে রফতানি কমেছে ৯৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ১০৩ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। এছাড়া ৯৫ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল রফতানি হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৫৪ শতাংশের বেশি।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ৭৬ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়া পণ্য, ৪৩ কোটি ডলারের প্রকৌশল পণ্য, ৩৯ কোটি ডলারের হিমায়িত খাদ্য রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে চামড়া ও চামড়া পণ্যে সাড়ে আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অবশ্য চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে আরও ৮৯৩ কোটি ডলার প্রয়োজন। মে ও জুন মাসে এই পরিমাণ রফতানি অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.