আজ: শনিবার, ১২ জুন ২০২১ইং, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৯ জুন ২০২১, বুধবার |


kidarkar

২৭০০ কোটি টাকার লেনদেন: রেকর্ড ছোঁয়ার ইঙ্গিত

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: ২০১০ সালের পর চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ছাড়ায়। আজ বুধবার সে রেকর্ডও ভেঙেছে। এদিন ডিএসইর লেনদেন স্পর্শ করেছে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। আর ১০ কোটি টাকা লেনদেন হলেই নতুন একটি রেকর্ড হতো। ২০১০ সালের ৫ জানুয়ারি লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। তবে লেনদেনে নতুন রেকর্ড স্পর্শ করতে না পারলেও বাজারের লেনদেন নিয়ে উচ্ছ্বসিত বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, বাজটের প্রভাবের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ, চলতি প্রান্তিতে কোম্পানিগুলোর ইতিবাচক ইপিএস আর ব্যাংকেগুলো ভালো লভ্যাংশ দেয়ায় বাজারে লেনদেন ২ হাজার ৭০০ কোটি অতিক্রম করেছে।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক মো. রকিবুর রহমান শেয়ারবাজারনিউজকে বলেন, বাজেটের পর রোববার পুঁজিবাজারে লেনদেন আর সূচক দুই-ই বেড়েছিলো। পরে অবশ্য বাজার সংশোধন হয়। আজ যে লেনদেন হয়েছে তা বাজার স্থিতিশীল ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান যদি বাজারে গুড গভর্নেন্স নিশ্চিত করতে পারে তাহলে বাজার আরও ভালো হবে। আমি আশা করি এ অবস্থা চললে ২০২২ সালের শেষের দিকে লেনদেন পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে। মোটা দাগে বলতে গেলে বাজেটের প্রভাবের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের কিছু পদক্ষেপের কারণে বাজার ভালো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সরকার স্টক মার্কেট থেকে টাকা নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিন্তু আমাদের দেশে এসব কর্মকান্ড ব্যাংক নির্ভর। এই নির্ভরতার কিছু পরিবর্তন অবশ্য হচ্ছে। বিশেষ করে এবারের বাজেটে করপোরেট কর কমানোয় বাজার সংশ্লিষ্টরা বেশ উচ্ছ্বসিত। সব মিলিয়ে বাজার ভালো হচ্ছে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান শেয়ারবাজারনিউজকে বলেন, পুঁজিবাজার ভালো হওয়ার পেছনে বাজেটের একটি প্রভাব রয়েছে। এর পাশাপাশি গত বাজেটে মানি মার্কেট থেকে সরকার যে পরিমান টাকা নিতে চেয়েছিলো তা নেয়নি। এছাড়া চলতি প্রান্তিকে অধিকাংশ কোম্পানির ইপিএস পজিটিভ হয়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন পরে হলেও ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে।

তিনি বলেন, সাউথ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের চেয়ে আমাদের পিই রেশিও অর্ধেকেরও কম। আমাদের বাজারের গ্রোথও হাই। এসব কিছুর সমন্বয়ে বাজারে সূচক আর লেনদেন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাজার পরিস্থিতি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার মূল্য সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ডিএসইতে দুই হাজার ৭০০ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর ডিএসইতে ২ হাজার ৭১০ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

আজ ডিএসইতে আগের দিন থেকে ৬৩৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে। গতকাল লেনদেন হয়েছিল দুই হাজার ৬৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার।

এদিন ডিএসই প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৩১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৬ হাজার ৫৫ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়েছে।

বুধবার ডিএসইতে মোট ৩৬৯টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২০৮টির, দর কমেছে ১২৪টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টি কোম্পানির।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৯০ পয়েন্ট। সূচকটি ১৭ হাজার ৫২১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭৬ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার।

সিএসইতে মোট টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩০৯টির, দর কমেছে ১৭৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯৮টির।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.