আজ: মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১ইং, ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৪ জুলাই ২০২১, বুধবার |



kidarkar

পথচলা শেষ হচ্ছে ভিওএর বাংলা বেতার সম্প্রচার কার্যক্রম

শেয়ারবাজার ডেস্ক :দীর্ঘ ৬৩ বছরের পথচলা শেষ হচ্ছে ভয়েস অব আমেরিকার (ভিওএ) বাংলা বিভাগের বেতার সম্প্রচার কার্যক্রম। ১৭ জুলাইয়ের পর আর বেতারে ভিওএর বাংলা সম্প্রচার শোনা যাবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এই আন্তর্জাতিক সম্প্রচার মাধ্যম।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভয়েস অব আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেতারে শ্রোতাগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শক-অনুসারীর সংখ্যা বাড়ায় তারা বাংলা এফএম ও শর্টওয়েভে বেতার সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে তারা টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলা দর্শক-শ্রোতাগোষ্ঠীর জন্য নতুন অনুষ্ঠান ও আধেয় প্রচার বাড়াবে।

ভিওএর অনুষ্ঠান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জন লিপম্যান বলেন, “১৯৫৮ সালে ভয়েস অব আমেরিকা যখন বাংলায় সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করে, তখন ‘পূর্ব পাকিস্তান’ হিসেবে পরিচিত ভূখণ্ডটি সামরিক শাসনের অধীনে ছিল এবং কোনো বেসরকারি টেলিভিশন বা বেতার ছিল না সেখানে। ভিওএর স্বল্প তরঙ্গ বেতার সম্প্রচার সেখানকার বাংলাভাষী জনগণের জন্য স্বতন্ত্র উৎস থেকে সংবাদ ও তথ্য পাওয়ার একটি ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করেছে।”

বর্তমানে ভিওএর শর্টওয়েভ সার্ভিসের শ্রোতা এক শতাংশেরও কম, অথচ ভিওএ বাংলা সোশাল মিডিয়ার দর্শক-শ্রোতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

গত বছর ভিওএর বাংলা টুইটার অ্যাকাউন্টে ব্যবহারকারীদের সংযোগ বেড়েছে ৫৪ শতাংশ, আর একই সময়ে ইনস্টাগ্রামে ভিডিওর দর্শক বেড়েছে ২৭৪ শতাংশ।

লিপম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশে টেলিভিশন এবং অনলাইনে সংবাদের জন্য দর্শক-শ্রোতার চাহিদা বাড়ায় ভিওএর বাংলা সার্ভিসের অনুষ্ঠানমালা ওইসব মঞ্চেই বেশি দরকার, যেখানে দর্শক-শ্রোতা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়।’

জুনে বিভাগীয় কর্মীদের এক সভায় ভিওএ বাংলা সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শতরূপা বড়ুয়া বলেন, ‘যে সময় বেতারই ছিল সংবাদ পাওয়ার মুখ্য উৎস, সে সময় থেকেই ভিওএ বাংলা রেডিও সম্প্রচার বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনা তার শ্রোতামণ্ডলীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে।’

‘আমাদের বেড়ে ওঠার সময় একটি বড় অংশজুড়ে ছিল এই বেতার সম্প্রচার, ঘরে ঘরে সুপরিচিত ছিল ভিওএ। এই পরিচিতির ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এখনকার দিনে শর্টওয়েভ ও মিডিয়াম ওয়েভ রেডিওর তুলনায় যেসব মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতা বেশি সক্রিয়, সেখানে উপস্থিতি আরও বাড়িয়ে তুলব আমরা।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টেলিভিশন বাজারে এলেও তখন বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম বলতে সবাই বেতারকেই চিনত ও শুনত। তখনকার প্রেক্ষাপটে ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসনের অধীনে থাকা ‘পূর্ব পাকিস্তানে’র বাংলাভাষী জনগণের জন্যই মূলত বাংলায় সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করে ভয়েস অব আমেরিকা।

বাংলাদেশ ভূখণ্ড ছাড়াও প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের বাংলাভাষীরা এত বছর ধরে শুনে আসছিলেন ভিওএর সংবাদসহ নানা অনুষ্ঠান।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.