আজ: শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ইং, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৭ অগাস্ট ২০২১, শনিবার |



kidarkar

ভারতে জনসনের এক ডোজের টিকার অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের জনসন অ্যান্ড জনসনের তৈরি কোভিডের এক ডোজের টিকা জরুরিভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এই অনুমোদন দেয়। এ নিয়ে পাঁচটি টিকা ভারতে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হল।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবিয়া শনিবার এক টুইট করে বলেন, ‘ভারত নিজেদের ঝুলিতে টিকার সংখ্যা বাড়িয়েছে। জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন ভারতের হাতে ব্যবহারের জন্য পাঁচটি টিকা আছে। মহামারি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটা আমাদের সাহায্য করবে।’

জনসন অ্যান্ড জনসন ইন্ডিয়ার একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা আনন্দিত ২০২১ সালের ৭ আগস্ট, ভারত সরকার জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের টিকা ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যক্তিদের জন্য জরুরি ব্যবহার অনুমোদন দিয়েছে।’

ভারতে অনুমোদন পাওয়া পাঁচ টিকা হলো—সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড, ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন, রাশিয়ার স্পুটনিক-৫, যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না এবং জনসন। টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর ভারতে ৫০ কোটির বেশি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

জনসন কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, হায়দরাবাদভিত্তিকত বায়োলজিক্যাল-ই লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ভারতে কোভিডের এক ডোজের এই টিকা উৎপাদন করবে যুক্তরাষ্ট্রের এই কোম্পানি।

ভারতে জরুরিভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে গত ৫ আগস্ট আবেদন করেছিল জনসন অ্যান্ড জনসন। এর আগে জনসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের টিকা ভারতে প্রথম শনাক্ত করোনার অতিসংক্রামক ডেল্টা ধরনকে প্রতিহত করতে সক্ষম।

ট্রায়ালে দেখা গেছে, সার্বিকভাবে করোনার বিরুদ্ধে ৮৫ শতাংশ কার্যকর এই টিকা। টিকা নেওয়ার ২৯ দিন পর কাজ শুরু হয়। বেশ কয়েকটি সংক্রামক ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর এর এক ডোজ আট মাস পর্যন্ত কার্যকর বলেও জানায় জনসন অ্যান্ড জনসন।

এ টিকা নিয়ে ‘গুলেন বারি সিনড্রোম’ নামে পরিচিত এক ধরনের বিরল স্নায়বিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে এর আগে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। যুক্তরাষ্ট্রে একশ জন এই টিকা নিয়ে ‘গুলেন সিনড্রোমে’ ভুগেছেন।

গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি এফডিএর এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যারা এই স্নায়বিক জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তাই এমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সতর্ক করেছিল এফডিএ।

এফডিএ বলেছে, স্নায়ুকোষ দুর্বল হলে এই সিনড্রোম দেখা দেয়। এতে মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায় ও সাময়িকভাবে ওই ব্যক্তি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ রোগ নতুন নয়। ফি বছর প্রতি ১০ লাখে ১০ জন এ রোগে আক্রান্ত হন।

এ জন্য জনসনের টিকা ব্যবহারের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পরে অবশ্য মার্কিন কর্তৃপক্ষ সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। এর আগে জুনে এফডিএ জনসন অ্যান্ড জনসন কর্তৃপক্ষকে তাদের উৎপাদিত কয়েক কোটি টিকার ডোজ ফেলে দিতে বলে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.