আজ: বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২ইং, ১২ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১২ অগাস্ট ২০২১, বৃহস্পতিবার |



kidarkar

আফগানিস্তানের দায়িত্ব নিলেন নতুন সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:আফগানিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়ালি মোহাম্মদ আহমাদজাই (বামে) ও নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল হিবাতুল্লাহ আলিজাই (ডানে)।

এর আগে সরকারপন্থিদের ঐক্যবদ্ধ করতে তালেবানবিরোধীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মাজার-ই-শরিফ শহরে যান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। জরুরি বৈঠক করেন তালেবানবিরোধী রণাঙ্গণের প্রধান দুই নেতার সঙ্গে। উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সীমান্তবর্তী শহর মাজার-ই-শরিফের নিয়ন্ত্রণ হারালে পুরো উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারাবে ঘানি সরকার।

আফগানিস্তানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়ালি মোহাম্মদ আহমাদজাইকে অব্যাহতি দিয়েছে দেশটির সরকার। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জেনারেল হিবাতুল্লাহ আলিজাই।

দেশজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ও নয়টি প্রাদেশিক রাজধানীসহ বেশিরভাগ অঞ্চল সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার মধ্যেই এলো এ পদক্ষেপ।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মাত্র দুই মাস আগে চলতি বছরের জুনে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন জেনারেল আহমাদজাই।

তার উত্তরসূরী জেনারেল আলিজাইয়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ তালেবানের আগ্রাসন ঠেকানো এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার।

২০ বছরের সামরিক অভিযানে ইতি টেনে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক জোটের সেনারা আফগানিস্তান ছাড়তে থাকার সুযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে তালেবান। গত মাসে দেশটিতে সহিংসতায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক আফগান নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে দুই মাসের ব্যবধানে সেনাপ্রধান পদে রদবদলের খবর বুধবার প্রথম প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা এপি।

গত ছয় দিনে দেশের ৩৪টি প্রাদেশিক রাজধানীর নয়টি দখল করে নিয়েছে তালেবান। লড়াই চলছে কমপক্ষে আরও ১১টি প্রাদেশিক রাজধানী শহরে। একই সঙ্গে খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়া এবং রাজধানী কাবুলকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে তালেবান।

কান্দাহার ও গাজনি শহরে বুধবার তীব্র সহিংসতার খবর প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

এর মধ্যে সরকারপন্থিদের ঐক্যবদ্ধ করতে তালেবানবিরোধীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মাজার-ই-শরিফ শহরে গেছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে একমাত্র এ শহরটিই বর্তমানে আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণ আছে।

মাজার-ই-শরিফের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তালেবানবিরোধী রণাঙ্গণের উল্লেখযোগ্য দুই নেতা উজবেক আদিবাসীদের প্রধান আব্দুল রশিদ দোস্তুম ও তাজিক আদিবাসীদের প্রধান আত্তা মোহাম্মদ নূরের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন ঘানি।

বর্ষীয়ান কমান্ডার দোস্তুম বলেন, ‘শহরের উত্তরাঞ্চল দিয়ে একাধিকবার প্রবেশের চেষ্টা করেছে তালেবান যোদ্ধারা। প্রতিবারই তাদের আটকে দেয়া হয়েছে।’

আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর শক্তি বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই তালেবানবিরোধী রণাঙ্গণের স্থানীয় নেতাদের সমর্থন দিয়ে আসছেন ঘানি। চলতি সপ্তাহে সরকারপন্থি মিলিশিয়াদের অস্ত্র সরবরাহেও সম্মত হন তিনি।

উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সীমান্তবর্তী শহর মাজার-ই-শরিফের নিয়ন্ত্রণ হারালে পুরো উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারাবে ঘানি সরকার।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.