আজ: রবিবার, ২২ মে ২০২২ইং, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৯শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৭ অক্টোবর ২০২১, রবিবার |



kidarkar

অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করার আহ্বান এফবিসিসিআই সভাপতির

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে এসেছেন। ব্যবসায় তারা মুনাফা করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে স্বল্প কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সকল ব্যবসায়ীকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে। তাই অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।

রোববার (১৭ অক্টোবর) এফবিসিসিআইয়ের আয়োজনে “নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মজুদ, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি বিষয়ে মতবিনিময় সভায়” তিনি এ কথা বলেন।

সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরেন।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে এসেছি কারো গালি শুনতে নয়।
তিনি বলেন, আপনা-আপনি পেঁয়াজের দাম আকাশ ছোঁয়া হয়নি। দাম বাড়ানোর পেছনে একটি মহল কাজ করেছে। তাদের কারসাজিতেই দাম বেড়েছিল। আমদানিতে শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর পরই পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ টাকা কমে এসেছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ১৫ টাকা কমার মানে কী? এর মানে দাঁড়ায়, দাম বাড়ানোর পেছনে কারসাজি ছিলো।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, পেঁয়াজের দাম নির্ধারণে বাজারে একটা সমস্যা ছিলো। এটি না হলে একদিনে এতো টাকা দাম কমে না। আমরা সম্মানের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে চাই, কোনো কারসাজির প্রশ্রয় মানা হবে না।

ব্যবসায়ীদের যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে আমাদের জানান। আমরা আলোচনার মাধ্যমে আপনাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো।

অনুষ্ঠানে পাইকার ও আড়তদার পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলেন, আমদানির একটা বড় অংশ প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসে। সেখানে সম্প্রতি অতিবৃষ্টি আর বন্যায় পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। আমাদের দেশেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে শুল্ক কমানোর ঘোষণার একদিনের মাথায় দাম কমা নিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতির প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর দিতে পারেননি পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা।

এসময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ব্যবসায় লাভ-লোকসানের হিসাব থাকে। তাই বলে সুযোগ পেলেই দাম বাড়াবেন এটা হতে পারে না। এসব কারণে কতিপয় ব্যবসায়ী কিছু অর্থ পেলেও প্রকৃতপক্ষে আমাদের (ব্যবসায়ী) জন্য খুবই অসম্মানজনক।

শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজার অপেক্ষা অন্যান্য কাঁচাবাজারে দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হয়, এর কারণ কী?- এমন প্রশ্নে ব্যবসায়ীরা এফবিসিসিআই সভাপতিকে জানান, এলাকাভেদে দোকান ভাড়া বেশি। গুলশান আর কারওয়ানবাজারের ভাড়ার পার্থক্য অনেক। এলাকা ভেদে দোকান ভাড়া, বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি মূল্য বেশি ও ট্রেড লাইসেন্সের খরচ বৃদ্ধিকে দায়ী করেন তারা।

এসব শুনে এফবিসিসিআই সভাপতি জানান, বিদ্যুৎ খরচ, ট্টেড লাইসেন্সসহ যেসব কারণে খরচ বেড়েছে সে বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে।

সভায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে অতি মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. হেলাল উদ্দিন।

পণ্যের দাম শুধু একটি দেশের সাথে সম্পর্কিত না জানিয়ে মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে পেঁয়াজ বা অন্য পণ্যের দামের ব্যবধান যদি বেশি হয় তাহলে দেশের মানুষ পেঁয়াজ খেতে পারবে না। সব পেঁয়াজ ভারতে পাচার হয়ে যাবে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের সময়ে সারের বস্তা ২৭০ টাকা ছিলো। কিন্তু আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে তখন সারের দাম ছিলো ১১০০ থেকে ১৩০০ টাকা। যে কারণে দেশে সার উৎপাদন হলে সেগুলো ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছিলো। এতে কৃষকরা সার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলো। অর্থাৎ পণ্যের দামে বিশ্বব্যাপী সমন্বয় রাখতে হয়।

যেসব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দর বাড়ায় তাদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.