আজ: সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৫ অক্টোবর ২০২১, সোমবার |



kidarkar

৮ গ্রাহকের কাছে জনতা ব্যাংকের ২০৫২৬ কোটি টাকা ঋণ

রাসেল মাহমুদ: দেশের রাষ্ট্রয়াত্ত ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে জনতা ব্যাংকের শাখা প্রায় এক হাজার। বিপুল সংখ্যক শাখা আর গ্রাহক নিয়ে বড় একটি ব্যবসায়ী প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ঋণ বিতরণে ব্যাংকটির ‘একচোখা’ নীতিতে রীতিমতো হতাশ খাত সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকটির মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮ গ্রাহকের কাছেই আছে ২০ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিদর্শনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে কোন ৮ গ্রাহকের কাছে এ ঋণ রয়েছে প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকটির বর্তমান শাখা রয়েছে ৯১৭টি। তবে মোট ঋণের ৭২ শতাংশ বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৫টি শাখা থেকে।
টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৪৫ হাজার ৬৬২ কোটি। বিতরণকৃত এসব ঋণের মধ্যে ছয় হাজার ৬২৯ কোটি টাকা আবার খেলাপিও হয়েছে।

আলোচিত শাখাগুলো হলো- লোকাল অফিস, জনতা ভবন করপোরেট, লালদীঘি ইস্ট, সাধারণ বীমা ও দিলকুশা করপোরেট শাখা।

এসব শাখায় চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত শীর্ষ ২০ খেলাপিকে ৩৩ হাজার ২৫৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। যার ৬ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা খেলাপী।

জানা গেছে, ব্যাংকটির লোকাল অফিসের ৯ গ্রাহককে ঋণ দেওয়া হয়েছে মোট ১০ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৩ হাজার ২৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ। জনতা ভবন কর্পোরেট শাখা ৪ গ্রাহককে ঋণ দিয়েছে ১১ হাজার ৫৭১ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৩ হাজার ৩৯৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা খেলাপি।

এছাড়া লালদিঘী ইস্টে একজন গ্রাহক নিয়েছে এক হাজার ২২৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। সাধারণ বীমা শাখায় ৫ গ্রাহকের ৮ হাজার ২১০ কোটি এবং দিলকুশা কর্পোরেট শাখায় এক হাজার ২৮৯ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋণ বিতরণে অনেকটা একচোখা নীতি অনুসরণ করছে জনতা ব্যাংক। এ কারণে তাদের বিতরণকৃত ঋণের সিংহভাগ মাত্র ৮ জন গ্রাহকের কাছে রয়েছে। এই ঋণ খেলাপী হতে পারে বলেও ধারনা করছেন কেউ কেউ।

বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ একজন ব্যাংক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেয়ারবাজারনিউজকে বলেন, বিশেষ কারণে এসব গ্রাহককে ঋণ দেয়া হয়েছে। আমারতো মনে হয় না বিতরণকৃত ঋণের শতভাগ জনতা ব্যাংক আদায় করতে পারবে। একটা সময় বড় অংকের খেলাপীর কথা শুনলেও অবাক হবো না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুছ ছালাম আজাদকে ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঋণ বিতরণের এই নীতিকে ব্যাংকের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। শেয়ারবাজারনিউজকে তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণ কয়েকটি শাখার মধ্যে কেন্দ্রীভূত হওয়া কোনোভাবেই ভালো খবর হতে পারে না। এই ধারা থেকে ব্যাংকগুলোকে বের হয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, বিতরণকৃত ঋণ বিশেষ ব্যবস্থায় আদায় করতে হবে। একই সাথে অন্যান্য শাখার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ বাড়াতে হবে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.