আজ: বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২ইং, ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২, রবিবার |



kidarkar

`চলতি বছরে ভালো কিছু কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসবে’

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: আমরা শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে কাজ করে যাচ্ছি। চলতি বছরই ভালো কিছু কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

রোববার ( ১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফারস হােটেলে অনলাইন বিজনেস নিউজপাের্টাল বিজনেস আওয়ার২৪.কম আয়ােজিত “শেয়ারবাজারে ভালাে কোম্পানির তালিকাভুক্তির প্রতিবন্ধকতা ও সমাধানের উপায়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, কোন কোম্পানিকে জোর করে শেয়ারবাজারে আনা ঠিক হবেনা। তাদেরকে বুঝিয়ে এখানে আনতে হবে। কোম্পানিগুলোকে এখানে আসতে পেইড আপ ক্যাপিটাল বেধে দিয়ে জোর প্রয়োগ করা ঠিক হবেনা। বরং তাদেরকে শেয়ারবাজারের ভালো দিকগুলো নিয়ে বুঝিয়ে এখানে আনতে হবে। আমরা সেই চেষ্টা করেছি। আসা করছি পরবর্তী কোয়াটার থেকেই এর একটা সুফল দেখতে পাবেন। আপনারা যে ভালো কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে প্রত্যাশা করতেছেন তাদেরকে শিগগিরই দেখতে পারবেন।

তিনি বলেন, আমরা এসএমই সেক্টরে এতদিন গুরুত্ব দিতাম না। এখন আমরা এসএমই’র জন্য আলাদা একটা প্লাটফর্ম করে দিয়েছি। এখানে লিস্টিং হওয়ার মাধ্যমে তারা কর্পোরেট আচার-আচারন শিখতে পারছে। পরবর্তীতে ভালো পার্ফামেন্স দেখিয়ে এখান থেকেই তারা মূল মার্কেটে আসতে পারবে। আমরা এখই তাদেরকে এই সুযোগটা দিচ্ছি।

এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসােসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, আমাদের অর্থনীতর সঙ্গে পুঁজিবাজারের কোন মিল আমি খুঁজে পাইনা। ২০১০ সালের ধসের সময় দেশের অর্থনীতির অবস্থা তেমন ভালো ছিলোনা। কিন্তু এখন দেশের অর্থনীতি অনেকে এগিয়ে গেছে। সেই তুলনায় আমাদের পুঁজিবাজারে তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি।

তিনি বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানিগলো কেন আসবে? ব্যাংকিং সেক্টর ছেড়ে কেন আসবে? একটা ভালো কোম্পানিকে লোন দেয়ার জন্য ব্যাংক যেখানে মুখিয়ে আছে, সেখানে পুঁজিবাজারের মত এত বাধাগ্রস্ত জায়গায় কেন আসবে? এখানে আমার মনে হয় ব্যাংকিং সেক্টরে তাদের জন্য যতদিনে সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেয়া না হবে ততদিন তারা পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হবেনা। তাছাড়া পুঁজিবাজারে আসতে নানা ধরনের আইনি জটিলতা পেরিয়েই তাদেরকে এখানে লিস্টেড হতে হয়। এই জায়গাটাকে সহজ করতে হবে। ভালো কোম্পানিগুলোকে আনতে সহজ ও উপযোগী রাস্তা করে দিতে হবে। তাহলেই তারা পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হয়ে উঠবে বলে মনে করছি।

তিনি বলেন, আমরা শত চেস্টা করেও ফরেন ইনভরস্টমেন্ট কিংবা বিদেশি এফডিআর আনতে পারছি না। সেক্ষেত্রে তাদেরকে পুঁজিবাজারে লিস্টেড করানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করাটাও হয়তো ঠিক হবেনা। কেননা এই চাপ প্রয়োগে বাংলাদেশে ব্যবসার করার ক্ষেত্রে আরো অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে কোম্পানিগুলো। জোর করে এদেরকে আনা যাবেনা, বরং তাদেরকে বুঝিয়ে এখানে আনার চেষ্টা করতে হবে।

বিএমবিএ প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান বলেন, বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেয়া ছাড়া কোন সেক্টরের উন্নয়ন সম্ভব না। কেউ যদি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করে ফেলে, তারপর কেন সে তার প্রতিষ্ঠানে বাহির থেকে একজন ব্যবসায়ীক পার্টনার (বিনিয়োগকারী) হিসেবে নিবে। যদি ভালো কোম্পানিকে পুঁজিবাবাজারে আনতে হয়, তাহলে অবশ্যই তাকে ভালো সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ফিন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান। তারা যে সেচ্ছায় এখানে এসেছে তাও নয়, তারা আইনের বাধ্য বাধকতার কারণে এসেছে। কিন্তু ভালো কোম্পানি আসার জন্য তো আইনের বাধ্য বাধকতা নেই। তাই ওই সমস্ত কোম্পানিগুলোকে মার্কেটে আনতে হলে তাদের জন্য ভালো সুযোগ-সুবিধা রেখে আইনের সংশোধন আনা উচিত।

এছাড়াও তিনি বলেন, আমাদের দেশে ব্যবসা করা বিদেশী কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র ৮টি প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত রয়েছে। কিন্তু আমাদের শেয়ারবাজারের উন্নয়নের জন্য আরো অনেক বেদেশি কোম্পানি আসা দরকার ছিলো। যেখানে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়াতে কোন বিদেশি কোম্পানি তালিকাভূক্ত হলে তাদের শেয়ারবাজারে আসতে বাধ্য বাধকতা রয়েছে। তাদের দেশের বিনিয়োগকারীদের নিয়েই দেশটিতে ওইসব বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ব্যবসা করতে হবে। সেখানে আমরা কেন বিদেশি কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে এই আইনটা সংশোধন করতে পারিনা।

২ উত্তর “`চলতি বছরে ভালো কিছু কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসবে’”

  • Md Abu Taleb says:

    আসসালামু আলাইকুম,
    নতুন ভালো ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসছে উত্তম বক্তব্য, আমরা খুশিতে আত্মহারা| নতুন কোম্পানির পুঁজিবাজারে আগমন অনেক অর্থ বহন করে -নতুন নতুন ব্যবসা,কর্মসংস্থান,ডিভিডেন্ট লেনদেন, আরো কতকিছু| কিন্তু আমাদের মত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ( এসএমই প্ল্যাটফর্মের পুরাতন অংশের বিনিয়োগকারী) আপনাদের কিছু সিদ্ধান্তে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি |
    আপনি উক্ত পুরাতন কোম্পানিগুলোতে ৩/৪ লক্ষ টাকার বিনিয়োগকারীদেরকে ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে বিনিয়োগকারী হতে সার্কুলার জারি করেছেন|| আপনিই বলুন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীগন যুগ্য বিনিয়োগকারী হওয়ার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা কোথায় পাবেন |যার ফলে তারা একমুখী লেনদেনে( শুধুমাত্র বিক্রয়)পুঁজি হারাচ্ছে|
    শুধু মাত্র আপনি একটু সদয় হলে বিষয়টি সমাধান হয়ে যায়|
    তাই অনুরোধ আপনি আমাদের মত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সমস্যার সমাধান করুন তারপর নুতন নুতন কম্পানির বাজারে আনুন|
    আপনি একটু ইচ্ছে করলেই সমস্যাটির সমাধান করে ফেলতে পারেন , কিন্তু আপনি তা করছেন না,শুধুমাত্র আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন|
    আপনি অত্যন্ত ভাগ্যবান, আপনি যে কালো রঙের জামা পরে আছেন সেই জামাটি পরে শুধু একটু ইশারা করলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায় ,অথচ আপনি আমাদের মত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্যকিছুই করছেন না|
    আমরা আপনাকে নিয়ে গর্বিত,আমরা সেই গর্ব ধরে রাখতে চাই |
    আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক এই কামনা করি|

  • সেলিম says:

    ভালো পদক্ষেপ সমর্থন পাবে নিশ্চয়ই।
    তবে অনেক বিনিয়োগকারীর হাতে এমন অনেক শেয়ার আটকে আছে যা এখনও otc মার্কেটে। আর্থিক ক্ষতি আমাদের অপরিসীম। বাজার থেকে কোম্পানীগুলো কোটি কোটি টাকা নিয়ে চুপ চাপ বসে আছে নিশ্চিন্তে।
    একটু সদয় দৃষ্টি আশা করছি।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.