আজ: বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২ইং, ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২, সোমবার |



kidarkar

বাড়ছে জনপ্রিয়তা, সিআরএম-এ ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো

এ জেড ভূঁইয়া আনাস: ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তোলার ভোগান্তি কমাতে ২৬ বছর আগে অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) চালু হয়েছিলো। আর আট বছর আগে চালু হয় টাকা জমা নেওয়ার মেশিন ক্যাশ ডিপোজিট মেশিন (সিডিএম)। করোনা মহামারির সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা ও উত্তোলনের উভয় সুবিধাসম্পন্ন ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিনও (সিআরএম) চালু হয়েছে। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ব্যাংকগুলো এখন তাদের এটিএমগুলোকে সিআরএম-এ রূপান্তরিত করছে। এতে জনপ্রিয়তা বাড়ছে আধুনিক এই যন্ত্রের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে সিআরএম-এর দাঁড়িয়েছে মোট এক হাজার ২০০টি, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৩.৮৪ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের শেষে সিআরএম-এর সংখ্যা ছিল ৭৮০টি। আর ২০১৯ সালে মহামারীর ঠিক আগে ছিলোম ২৫৪।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিআরএম বুথ ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের ভূমিকা পালন করছে। নির্দিষ্ট মূল্যমানের নোট গুনে নেওয়ার পাশাপাশি সেগুলো ছেঁড়া, ময়লা, আসল না জাল সেটিও যাচাই করছে। নির্দিষ্ট মূল্যমানের নিচের নোট জমা দিলে সেটিও ফেরত দিচ্ছে। এ প্রযুক্তির মেশিনে সব ধরনের ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও অর্থ স্থানান্তরের সুবিধাও চালু হয়েছে। তবে এটিএমের চেয়ে সিআরএম ব্যয়বহুল হওয়ায় ব্যাংকগুলো এই মেশিন বসাচ্ছে ধীর গতিতে। যদিও মহামারীর কারণে শাখাগুলোতে ভিড় কমাতে অনেক ব্যাংক বাধ্য হয়ে সিআরএম গ্রহণ করেছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

এটিএমকে সিআরএম-এ রূপান্তরিত করছে ব্যাংকগুলো:

দেশে সিআরএম-এর প্রথম প্রচলন শুরু করে বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংক। তারা একটি সিআরএম দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এখন এর পরিমাণ ৪০। ব্যাংকটির অল্টারনেট ডেলিভারি চ্যানেল প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য আমরা আমাদের ৬০ শতাংশ নিয়মিত এটিএমগুলো সিআরএম দ্বারা প্রতিস্থাপন করব। এতে গ্রাহকরা স্মার্ট মেশিনের মাধ্যমে সহজেই তাদের টাকা তুলতে এবং জমা করতে পারবে।

সিটি ব্যাংক ছাড়াও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, এবং ইসলামী ব্যাংক সিআরএম ইনস্টল করার ক্ষেত্রে অগ্রণী অবস্থানে রয়েছে।

সাউথইস্ট ব্যাংকের অল্টারনেট ডেলিভারি চ্যানেল প্রধান মীর মোহাম্মদ ইসিন বলেছেন, ব্যাংকটি দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৫০টি সিআরএম বসিয়েছে এবং এই বছরের মধ্যে আরও ১০০টি সিআরএম বসানোর পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া ৩০টি এটিএম ইতোমধ্যেই সিআরএম দ্বারা প্রতিস্থাপিত করেছে ব্যাংকটি।

ইস্টার্ন ব্যাংকের এখন পর্যন্ত চারটি সিআরএম রয়েছে। এই বছরের মধ্যে আরও ২৪টি সিআরএম বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এম খুরশেদ আলম। তিনি বলেন, নিয়মিত এটিএম-এর চেয়ে বেশি সুবিধা হওয়ায় এই স্মার্ট মেশিনগুলো ব্যাংক ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ব্যাংকিং শিল্পে সিআরএম সরবরাহকারী বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান টেকনোমিডিয়া লিমিটেড। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক যশোদা জীবন দেবনাথ বলেছেন, বর্তমানে তিনি সিআরএম-এর জন্য ব্যাংকগুলো থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। সিআরএম-এর দাম একটি নিয়মিত এটিএমের চেয়ে তিনগুণ বেশি। কিন্তু একটি ব্যাংক সময়ের সাথে সাথে যে পরিমাণ খরচ সাশ্রয় করবে তা আরও বেশি হবে। আর ব্যাংকগুলো যদি তাদের খরচ কমিয়ে আনতে চায় তাহলে সিআরএম-এর বিকল্প নেই বলেও জানান এই টেকনোলজিস্ট।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.