আজ: শনিবার, ২১ মে ২০২২ইং, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৫ মার্চ ২০২২, মঙ্গলবার |



kidarkar

হোসনি দালানে হামলা: তদন্তকর্তার ভুলে আইনের আওতার বাইরে হামলাকারী

জাতীয় ডেস্ক: পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে পুরনো ঢাকার হোসনি দালানে বোমা হামলা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি দক্ষিণের পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিউদ্দিন শেখ মারাত্মক ভুল করেছেন। তিনি চরমভাবে দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। এর ফলে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী নির্দেশদাতা ও হামলাকারীরা আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান হোসনি দালানে বোমা হামলা মামলার রায়ে ৮ আসামির মধ্যে ২ জনকে সাজা দিয়েছেন। ৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন। রায় ঘোষণার আগে পর্যবেক্ষণে তদন্ত কর্মকর্তার বিষয়ে এই মন্তব্য করেন বিচারক।

পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, আসামি কবীর হোসেন ও আরমানে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হোসনি দালানে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় চাঁন মিয়া, ওমর ফারুক, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ এবং শাহজালাল মিয়া জড়িত মর্মে কোনো বক্তব্য প্রদান করেনি। কোনো সাক্ষী এ চার আসামির নাম উল্লেখ করেননি। তাদের কাছ থেকে আলামত উদ্ধারের কোনো অভিযোগ নেই। তারা ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে সাক্ষ্য উপস্থাপনে প্রসিকিউশনচরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই আসামিরা কিভাবে হোসাইন দালানে বোমা হামলায় জড়িত তার ব্যাখ্যা তদন্তকারী পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেননি। শুধুমাত্র আসামির সংখ্যা বাড়ানোর জন্যই অযথা তদন্তকারী কর্মকর্তা এই ৪ জনকে এ মামলায় বিচারের জন্য সোপর্দ করেন। কাজেই তারা হামলায় অংশগ্রহণ করেছে বা সহায়তা করার অভিযোগ প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, কবীর হোসেন ও আরমানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় দেখা যায়, হোসনি দালানে বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ছিল আলবানী এবং নোমান। আরমানের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হোসনি দালানে বোমা হামলা করেছে রানা ওরফে মুসায়েব এবং হিরন। মামলার রেকর্ড দৃষ্টে দেখা যায়, আসামি জাহিদ হাসান, রানা এবং মাসুদ হাসান রানা ঘটনার সময়ে শিশু ছিল বিধায় বিচারের জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগপত্র বিচারের জন্য শিশু আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

তদন্তকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, হিরন, আলবানী ওরফে হুজ্জা ও আব্দুল্লাহ ওরফে আলাউদ্দিনের নাম পাওয়া গেলেও এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই তারা বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন। এ কারণে তাদের নাম পুলিশ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা শফিউদ্দিন শেখ কার কাছ থেকে কিংবা কোথায়, কীভাবে জানতে পেরেছেন যে হিরন, আলবানী ও আব্দুল্লাহ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেনি। হিরন এবং আলবানীর বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার সমর্থনে কোনো মামলার কাগজপত্র দাখিল করেনি। হোসনি দালানে গ্রেনেড হামলার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী নোমানকে কেন আসামি হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কোনো বক্তব্য দেয়নি।

বিচারক বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা শফিউদ্দিন শেখ কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াই আসামি চাঁন মিয়া, ওমর ফারুক, হাফেজ আহসান উল্লাহ এবং শাহজালাল মিয়াকে মামলায় অযথাই আসামি হিসেবে বিচারের জন্য সোপর্দ করেছে। পূর্ণ তদন্ত না করে মূল পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশদাতা আলবানী ও নোমান এবং হোসনি দালানে হামলাকারী হিরনকে মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেননি। কোনো প্রমাণ সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াই চাঁন মিয়া, ওমর ফারুক, হাফেজ আহসান উল্লাহ এবং শাহজালাল মিয়াকে মামলায় আসামি হিসেবে সোপর্দ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা শফিউদ্দিন শেখ মারাত্মক ভুল করেছে এবং চরমভাবে দায়িত্ব অবহেলার পরিচয় দিয়েছে। এর ফলে হোসনি দালানে বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও হামলাকারীরা আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। কোনো প্রকার সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াই চাঁন মিয়া, ওমর ফারুক, হাফেজ আহসান উল্লাহ এবং শাহজালাল মিয়াকে মামলায় আসামি করায় অর্থাৎ তদন্ত কর্মকর্তার খামখেয়ালীর কারণে তারা হয়রানীর শিকার হয়েছে এবং শারীরিক, আর্থিক এবং মানসিকভাবে কষ্টের শিকার হয়েছে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.