আজ: বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৭ জুন ২০২২, শুক্রবার |



kidarkar

তেলের বাজার স্থিতিশীল, মৌসুমেও চালের দাম না কমায় অসন্তোষ

এ জেড ভূঁইয়া আনাস: দেশের বাজারে হঠাৎ করে অস্থির হয়ে উঠা চাল ও তেলের দামে সপ্তাহের ব্যবধানে তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি। তবে ভরা মৌসুমেও চালের দাম না কমায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে আছেন বিক্রেতারাও। শুক্রবার (১৭ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

মে মাসের শুরুতেই চালের ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় দাম বেড়ে যায় ৫০০ টাকা। এরপর বাড়তি দামেই বিক্রি শুরু হয় চাল। ভরা মৌসুমে এসেও দাম কমেনি চালের। এতে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা, বিক্রেতা উভয়েই।

কারওয়ান বাজারের হাজী রাইস এজেন্সির শামীম রেজা শেয়ারবাজার নিউজকে বলেন, ‘চালের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। গত মাসের শুরুতেই বস্তা প্রতি ৫০০ টাকা করে বেড়ে যায় দাম। এরপর সেই দামেই চাল বিক্রি হচ্ছে।’

বাজারে প্রতি কেজি আটাশ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মিনিকেট ৬৪ থেকে ৬৮ টাকা, রকমভেদে নাজিরশাল ৭০ থেকে ৯২ টাকা, চিনিগুড়া ১০০ থেকে ১১৫ টাকা, স্বর্ণা ৪৬ থেকে ৫০ টাকা, কাটারিভোগ ১৩০ থেকে ১৩৪ টাকা, বাসমতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রেতা খান মোহাম্মদ হোসাইন শেয়ারবাজার নিউজকে বলেন, ‘এখন চালের মৌসুম। এখন যে চাল উৎপাদন হবে, সেটা দিয়েই সারাবছর চলবে। এই সময়ে যে দাম হওয়ার কথা। তার চেয়ে অনেক দাম বেশি। তাহলে কীভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষ কী করবে?’

আল্লাহর দান রাইস স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল আউয়াল তালুকদার বলছেন, ‘এখন যেহেতু চালের মৌসুম তাই অন্যান্য সময়ের চেয়ে দাম ৮ থেকে ১০ টাকা কম হওয়ার কথা। কিন্তু কমেনি। শুধু ক্রেতা নন, আমরা বিপাকে পড়েছি।’

এর কারণ হিসেবে মিলার ও বহুজাতিক কোম্পানিকে দুষলেন তিনি। বলেন, ‘মিলার ও চালের ব্যবসায় নতুন নতুন কোম্পানির আগমনের কারণে এই দুরবস্থা তৈরি হয়েছে।’

‘আগে চালের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত শুধু মিলাররা। এখন এসিআই, আকিজ, ইস্পাহানি, রূপচাঁদা, বসুন্ধরার মতো বড় কোম্পানিগুলো চালের ব্যবসায় ঢুকেছে। এসব কোম্পানির টাকার অভাব নেই। তারা চাল কিনে মজুদ করছে। এর কারণে চালের দাম করছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব কোম্পানির আমাদের চেয়ে কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশিতে চাল বিক্রি করছে। আমরা যে চাল বিক্রি করি ৯০ টাকায়, সেটা তাদের প্যাকেটর গায়ে লেখা-ই রয়েছে ১৩০ টাকা। যদি প্যাকেটিং ও অন্যান্য খরচ ধরি তবুও তাদের অতিরিক্ত লাভই থাকবে ৩০ টাকা।’

সয়াবিনের সরবরাহ পর্যাপ্ত

বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২০৫ টাকায়। এছাড়া ২ লিটারের বোতল ৪০০ থেকে ৪১০ টাকায় এবং ৫ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৯৮০ থেকে ৯৯৭ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের হামিদ স্টোরের জাহিদ শেয়ারবাজার নিউজকে বলেন, ‘সয়াবিন তেলের কোনো ঘাটতি নাই। তবে দাম কমেনি। নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে।’

আশা জেনারেল স্টোরের রিয়াজ বলেন, ‘রূপচাঁদা ছাড়া সব তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সরকারের বেঁধে দেয়া দামেই বিক্রি করছি।’

 

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.