আজ: সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২ইং, ২০শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২১ জুন ২০২২, মঙ্গলবার |



kidarkar

আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি উন্নয়নে বিএসইসি

শেয়ারবাজার প্রতিবেদক: আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠনের পাশাপাশি আর্থিক পরিস্থিতি উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকটির পর্ষদে দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি ব্যাংকটির ঋণ আদায় কার্যক্রমসহ ব্যবসায়িক অবস্থা উন্নয়নের বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হবে।

গতকাল আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের পর্ষদ সদস্য ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ কথা জানান বিএসইসির কর্মকর্তারা।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়ায় গতকাল আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের পর্ষদ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও কোম্পানি সচিবকে কমিশনে তলব করা হয়েছিল। বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ সংস্থাটির কর্মকর্তারা আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আইনি জটিলতার কারণে ব্যাংকে নতুন মূলধন জোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানি ব্যবসায়িক ও আর্থিক দিক দিয়ে সমস্যার মধ্যে রয়েছে তাদের অবস্থার উন্নয়নে কমিশন নিয়মিত এ ধরনের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের সঙ্গেও কমিশনের আলোচনা হয়েছে। এ সময় কমিশনের পক্ষ থেকে কীভাবে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায় করা যায়, তহবিল পুনরুদ্ধার করা যায়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে মুনাফা বাড়ানো যায় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে স্বতন্ত্র পরিচালকসহ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হলে যদি তা ব্যাংকের অবস্থা পরিবর্তনে সহায়ক হয় তাহলে সে উদ্যোগ নেয়ার বিষয়েও কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। আশা করছি এতে ব্যাংকটির অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

বর্তমানে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ১৪ হাজার ৬৬৫ জন বিনিয়োগকারী রয়েছেন। শেয়ারধারণের দিক দিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ২৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ ধারণ করলে সংখ্যায় তারাই সবচেয়ে বেশি। একটি থেকে ৫০ হাজার শেয়ার রয়েছে এমন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১৪ হাজার ১৬৫। দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ না দেয়ার কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিএসইসির কাছে অসংখ্য অভিযোগ জমা হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যাংকটির অবস্থা পরিবর্তনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতাও নেয়া হবে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বতর্মানে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের পর্ষদে পরিচালক হিসেবে আইসিবি ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ হোল্ডিংস এজির প্রতিনিধি যারা রয়েছেন তারা ব্যাংকটির অবস্থার উন্নয়নে আন্তরিক। কিন্তু বিদেশী হওয়ার কারণে তারা দেশের আর্থিক খাতের খুঁটিনাটি ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারছেন না। ফলে তাদের সহায়তার জন্য স্থানীয় বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হলে ব্যাংকটির সমস্যার জট খোলাটা সহজতর হবে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এভাবে বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেবে না, এটা হতে পারে না। এ কারণেই শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটির অবস্থার পরিবর্তনে কমিশনকে উদ্যোগ নিতে হয়েছে।

নিরীক্ষকের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি বলছে, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের আগের পরিচালকরা তাদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করেছেন। এটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আশাবাদী যে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে আসবে, যা ব্যাংকটিতে নতুন মূলধন জোগানের পথ খুলে দেবে। ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন পণ্য চালুর মাধ্যমে ব্যাংক ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বিপরীতে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছে। চলতি মূলধন ঘাটতি মেটাতে বিভিন্ন ধরনের বিকল্প ও পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। গত বছরের ২১ নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিকে অনাদায়ী আমানত পরিশোধের অনুমোদন দিয়েছে। বিলম্বে দেনা পরিশোধের জন্য গত বছরের ১ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

 

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.