আজ: বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ইং, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১০ অগাস্ট ২০২২, বুধবার |



kidarkar

শেয়ারবাজারে গবেষণা নির্ভর ব্যবসা করতে চাই: রাজেশ সাহা

শাহ আলম নূর: বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ইভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং এবং ব্রোকারেজ ব্যবসা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক কোম্পানি ক্যাল। বিনিয়োগকারীকে সঠিক বিনিয়োগে সহায়তা করতে রিসার্চ ভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

দেশের পুঁজিবাজারে প্রথম বৈদেশিক ব্রোকারেজ ক্যাল সিকিউরিটিজ। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে শেয়ার কেনাবেচায় স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার লাইসেন্স পেয়েছে।

ক্যাল সিকিউরিটিজ সম্প্রতি শেয়ারবাজারে লেনদেন কার্যক্রম শুরু করেছে। নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোম্পানিটির চ্যালেঞ্জ, সমস্যা, ভবিষ্যত সম্ভাবনাসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে শেয়ারবাজারনিউজের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এসব বিষয় নিয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা জানান এই সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাজেশ সাহা।

রাজেশ সাহা দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউজ মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজ, আইডিএলসি সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ এবং ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। বর্তমানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেশের শেয়ারবাজারে প্রথম বিদেশি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ক্যাল সিকিউরিটিজে।

প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাজেশ সাহা বলেন, “ক্যাল সিকিউরিটিজ নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় ব্রোকারেজ ব্যবসায় নয়, এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানটি একটি মার্চেন্ট ব্যাংকে বিনিয়োগ করেছে, যার কার্যক্রম চলমান।

প্রতিষ্ঠানটির নবাগত সিইও বলেন, ক্যাল সিকিউরিটিজ মূলত দুবাই ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। আমাদের মূল লক্ষ্য একটি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা। ক্যাপিটাল মার্কেটের যতো ধরনের সার্ভিস আছে যেমন- ব্রোকারেজ, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টসহ সব ধরনের সার্ভিস আমরা দিতে চাই। ইতিমধ্যে আমরা একটি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক কিনেছি। ব্রোকারেজ হাউজেরও অপারেশন শুরু হয়েছে। গতানুগতিক ব্রোকারেজ ব্যবসার বাইরে গিয়ে আমরা একটু অন্য ধারায় যেতে চাই। এ জন্য আমাদের বিনিয়োগকারী যারা রয়েছেন তাদের নলেজেবল ইনভেস্ট করার প্রতি উৎসাহী করতে চাই। পাশাপাশি এর সাথে আমাদের গবেষণাধর্মী জ্ঞান যোগ করতে চাই।

এছাড়াও ব্যবসা শুরুর আগেই বাংলাদেশের ম্যাক্রো অর্থনীতির একটি গবেষণা করেছে, যাতে দেখা গেছে বাংলাদেশে আগামী বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনেক বেশি। ফলে পুঁজিবাজারও অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায়। “ক্যাল বাংলাদেশ গতানুগতিক ব্যবসার বাইরে গিয়ে ব্রোকারে নতুন মাত্রা যুক্ত করতে চায়।

নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাজারে কতোটুকু প্রভাব ফেলতে পারবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা সময়ই বলে দেবে। আমরা দ্রুততার সাথে ইমপ্যাক্ট ফেলতে চাই তা নয়, বরং বিজনেস সাসটেইনেবল হোক সে দিকে বেশি নজর থাকবে। ক্লায়েন্টের কী কী সেবা দেয়া যেতে পারে, কীভাবে প্রটেকশন দেয়া যায়- এই জায়গাগুলোতে আমরা কাজ করতে চাই। আমাদের মার্কেট যথেষ্ট অস্থির। ইভেন বিশ্বব্যাপীই শেয়ার মার্কেট অস্থির। এই অস্থিরতা নিরসনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কাজ করছে। বিদেশে রোড শো করার কারণে দেশের বাজার সম্পর্কে বিদেশিদের অনেক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বন্ড মার্কেট নিয়ে প্রচন্ড আগ্রহী তারা। এ জন্য এ বিষয়টা নিয়েও আমরা কাজ করতে চাই।

ক্যাপিটাল মার্কেটে আপনার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার আলোকে বাজারের বর্তমান অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে রাজেশ সাহা বলেন, সামগ্রিক অর্থনীতির দিকে তাকালে উপলদ্ধি করতে পারি যে- স্রোতের বিপরীতে যাওয়ার সুযোগ খুব কম। সামগ্রিক অর্থনীতি এখন টালমাটাল। এই জায়গাতে দাঁড়িয়ে স্টক মার্কেটে বেশি প্রত্যাশা করা ভুল হবে। অন্যদিকে দেশের অর্থনীতি এখন যেভাবে মজবুত সেখানে ক্যাপিটাল মার্কেটের এই অস্থিরতাও কাম্য নয়। তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই সময় ইনভেস্ট করার সঠিক সময়। এই মূহুর্তে আমরা যদি নলেজেবল ইনভেস্ট করতে পারি তাহলে ভালো রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।

ক্যাল সিকিউরিটিজ গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা দিতে কতোটা নিশ্চয়তা দিতে পারবে এ ব্যাপার তিনি বলেন আমাদের প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তিই হলো কমপ্লায়েন্স। আমি খুবই আশাবাদী একজন মানুষ। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে আমরা কমপ্লায়েন্সে নাম্বার ওয়ান হতে চাই এবং এটা আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। মার্কেটের সাথে আমরা যদি প্রতিযোগিতায় নাও পারি, এরপরও কমপ্লায়েন্সে থেকে সরে আসার কোনো ধরনের সুযোগ আমাদের নেই। কোম্পানির স্ট্রাকচারটা এমনভাবেই তৈরি করা যেখানে কমপ্লায়েন্স অফিসারের ভূমিকা অনেক বেশি।

দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আনার ব্যাপারে কতোটা ভুমিকা পালন করবে এমন প্রশ্নের জবাবে রাজেশ সাহা বলেন ইতিমধ্যে আমরা বেশ কিছু বিদেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তবে বাস্তবতার নিরিখে আমাদের চিন্তা করতে হবে। কারণ এখনই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসবে কিনা তা দেখতে হবে। অর্থনীতির গতিপথগুলোর দিকে তাকান- তাহলে দেখতে পাবেন, টাকা ডিভ্যালুয়েটের একটা সুযোগ আছে। আমাদের সাথে যেসব বিদেশি বিনিয়োগকারী কথা বলেছেন তারাও এ বিষয়ে কনসার্ন। তাই বাজারে অস্থিরতা থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে নিরাপদ মনে করেন না। তবে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের দিকে তারা লক্ষ্য রেখেছে। আমি আশা করছি, খুব শিগগিরই অস্থিরতা কেটে ভালো সময় আসবে। তখন বিদেশি বড় বিনিয়োগ আমাদের শেয়ারবাজারে আসবে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য তিনি কী পরামর্শ দিতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যাল সিকিউরিটিজ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজেশ সাহা বলেন,“গত দুইবছর বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। রেগুলেটরি রিফর্ম হয়েছে। কোনো বিনিয়োগকারীই টাকা হারাতে চান না সেক্ষেত্রে আমার মনে হয়, টাকা বিনিয়োগের সময় সবাইকেই সচেতন হওয়া জরুরি। যে কোম্পানিগুলোর মৌল ভিত্তি ভালো সেখানে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। যে কোম্পানিগুলো ভালো লভ্যাংশ দেয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেসব কোম্পানি বাছাই করা যেতে পারে। সর্বশেষ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলবো, যেহেতু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ তাই জেনে বুঝেই বিনিয়োগ করুন।

১ টি মতামত “শেয়ারবাজারে গবেষণা নির্ভর ব্যবসা করতে চাই: রাজেশ সাহা”

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.