আজ: বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ইং, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সফর, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১১ অগাস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার |



kidarkar

ইতিহাসের সর্বোচ্চ খেলাপিতে দেশের ব্যাংক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: নানা সুবিধা পেয়ে এখন আর ঋণ পরিশোধ করছে না গ্রাহক। ফলে লাগাম ছাড়িয়েছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।এতে বছরের ব্যবধানে খেলাপির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৫২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করার যে সুবিধা দিয়েছে, তা গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে অনাগ্রহী করে তুলেছে। এর প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে আরও ভয়াবহ হবে খেলাপি ঋণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি ২০২২ সালের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮.৯৬ শতাংশ। তিন মাস আগে মার্চ শেষে খেলাপি ছিলো ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ৩ মাসে খেলাপি বেড়েছে ১১ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। আর ২০২১ সালে একই সময়ে খেলাপির পরিমাণ ছিলো ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ২৬ হাজার ৫২ কোটি টাকা বেড়েছে খেলাপি ঋণ। দেশের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ খেলােপি ঋণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, মোট খেলাপি ঋণের ৬৬ ভাগই রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের। ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৫ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ৬২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা, যা ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৫০ শতাংশ। এছাড়া বিদেশী ব্যাংকের দুই হাজার ৯৫৭ কোটি ও বিশেষায়ীত ব্যাংকের খেলাপি দাঁড়িয়েছে চার হাজার ১৯৪ কোটি টাকায়।

এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ শেয়ারবাজার নিউজকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত আসছে। যে নীতিমালাগুলো সেখান থেকে আসছে সেগুলো ঋণ খেলাপিদের আরও উৎসাহিত করছে। এর বিপরীতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন ব্যাংকের ভালো গ্রাহক। ব্যাংগুলোও খেলাপি ঋণ আদায়ে বিমুখ হয়ে পড়েছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তাদের জবাবদিহিতা করতে হয় না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর বলেন, হঠাৎ হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগুলো হতে হবে দীর্ঘস্থায়ী এবং মঙ্গলজনক। যাতে খেলাপি ঋণ, পুনতফসিল, প্রভিশন ঘাটতি কমে আসে। এসব সমস্যা সমাধানে একটি ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা উচিৎ। এর আগেও ব্যাংকিং কমিশনের মাধ্যমে খেলাপি সমস্যার সমাধান হয়েছে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.