আজ: মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২ইং, ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৭ জুলাই ২০১৫, সোমবার |


kidarkar

কৃষি ঋণ দিতে না পারলে টাকা ফেরত নেবে কেন্দ্রিয় ব্যাংক


Bangladesh_Bank_Logo.svgশেয়ারবাজার রিপোর্ট: চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে মোট ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক; যা গত অর্থবছরের চেয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ বেশি। বিগত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি কৃষি ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হয়েছিল।

তবে ঘোষিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের ন্যুনতম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষি ও পল্লী বিতরণ করতে হবে। নতুন ৯টি বেসরকারি ব্যাংকের জন্য এ হার ৫ শতাংশ। আর যে সকল ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে না তাদেরকে অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত অংশ কেন্দ্রিয় ব্যাংকে বাধ্যতামূলকভাবে জমা করতে হবে। কিন্তু ব্যাংক এ জমার ওপর কোনো সুদ পাবে না।

সোমবার ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের কৃষি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ কথা জানানো হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গভর্নর আতিউর রহমান এ কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা রাজী হাসান, এস কে সুর চৌধুরীসহ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশনায় বলা হয়, সরকারের নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনায় ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা বিগত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাংশ বেশি। এছাড়া ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক ও পল্লী উন্নয়ন বোর্ড নিজস্ব অর্থায়নে যথাক্রমে ৩০ কোটি টাকা ও ৬৭৬ কোটি টাকা কৃষি বিতরণ করবে।

চলতি অর্থবছরে কৃষি ঋণ খাতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাশীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ২ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা, বিদেশী ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯৩ কোটি টাকা এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য এ ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বিগত অর্থবছরে ১৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৫ হাজার ৯৭৮ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৩ শতাংশের বেশি।

পরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, আমাদের মূল কাজ মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবেই এ কৃষি ঋণ নীতিমালা জারি করা হয়ে থাকে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

কৃষি ঋণ আদায় সম্পর্কে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে আদায়যোগ্য ঋণের ৭০ শতাংশ আদায় হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।

তিনি আরো বলেন, কৃষকদের স্বার্থে প্রচলিত দশ টাকার হিসাবগুলো শুধু ভর্তুকি দেবার জন্য চালু করা হয়নি। এ হিসাবে রেমিট্যান্স প্রদান, ঋণ প্রদান, সঞ্চয় সংরক্ষণসহ নিয়মিত হিসাবের মতোই পরিচালনা করতে হবে। এর জন্য ব্যাংকগুলো কৃষকদের কাছ থেকে আলাদা কোন চার্জ দাবী করতে পারবে না।  আর এ বিষয়ে কেন্দ্রিয় ব্যাংক অচিরেই একটি পরামর্শমূলক প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

এই সময়ে তিনি বলেন, কৃষকদের ১০ টাকা অ্যাকাউন্টের জন্য কেন্দ্রিয় ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার পুন:অর্থায়ন স্কীম গঠন করবে।

ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ অনেক ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বাধা দূর করতে তিনি ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে কৃষি ঋণ বিতরণে যাতে কোনো কেলেঙ্কারি না হয় সে ব্যাপারে তিনি ব্যাংকগুলোকে বিশেষভাবে সতর্ক করে দেন।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ.ও/মু


আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.