আজ: বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ইং, ১৮ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৭ নভেম্বর ২০২২, সোমবার |


kidarkar

রিয়াদ-মুশফিকের বিকল্প ইয়াসির-মোসাদ্দেক কেমন করলেন বিশ্বকাপে?


স্পোর্টস ডেস্ক:শেষ প্রায় দুইবছর তিনি টি-টোয়েন্টি খেলেননি বললেই চলে। আর মাঝে ৬ মাসের ছুটি নিয়ে নিলেন। তারপর এক সময় জানিয়ে দিলেন আমি আর টি-টোয়েন্টিতে নেই। ক্রিকেটের এই ছোট ফরম্যাট আর খেলবো না। তাই তামিম ইকবাল আগেভাগেই ছিলেন বিবেচনার বাইরে। সে কারণে দেশের এক নম্বর ওপেনারকে নিয়ে কথাবার্তা কম।

কিন্তু মাহমুদউল্লাহ আর মুশফিকুর রহিম তা করেননি। আশায় ছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার; কিন্তু তাদের বিবেচনায় আনা হয়নি। নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের ধারনা ছিল বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্লথ ও মন্থর হয়ে গেছেন রিয়াদ আর মুশফিক। তাদের ব্যাটের ধার গেছে কমে। স্ট্রাইকরেটও আগের মত নেই। হাত খুলে খেলতে পারেন কম।

তাদের চেয়ে বরং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইয়াসির আলী রাব্বি আর নুরুল হাসান সোহানকে দলে নেই। তারা বয়সে তরুণ। হাত খুলে খেলতে পারবে বেশি। এ কারণে মধ্য তিরিশ পার করা রিয়াদ ও মুশফিকের চেয়ে তরুণদেরই পছন্দ হলো টিম ম্যানেজমেন্ট আর নির্বাচকদের।

এবং ভাবা হলো এই তিন তরুণ হতে পারেন রিয়াদ ও মুশফিকের চেয়ে বেটার অপশন। এই ভেবেই রিয়াদ ও মুশফিককে দলে না নিয়ে ইয়াসির আলী, মোসাদ্দেক ও সোহানকে নেয়া হলো বিশ্বকাপে।

দল ঘোষণার সময় সবচেয়ে বড় চমকই ছিল আগেরবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অধিনায়ক রিয়াদের বাদ পড়া। আর মুশফিকের ব্যাপারটি মোটামুটি আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে, তাকে বিবেচনায় আনা হবে না। যে কারণে, এশিয়া কাপের পরপরই টি-টোয়েন্টিকে গুডবাই জানিয়ে দিয়েছেন মুশফিক। মান থাকতে সরে পড়া আর কি!

বিশ্বকাপের দল নির্বাচন ও ঘোষণার পর রিয়াদ আর মুশফিকের পক্ষেও যে রব ওঠেনি, তা নয়। উঠেছিল। দুই ভায়রা ও অভিজ্ঞ পারফরমারকে দলে রাখার পক্ষেও ছিলেন কেউ কেউ; কিন্তু শেষের দিকে রিযাদ ও মুশফিকের ব্যাটের তেজ কমে যাওয়ায় বেশি কথা হয়নি।
তবে বিশ্বকাপ মাঝপথে থাকতেই সরব চারদিক। এখন কথা উঠেছে, ‘আচ্ছা রিয়াদ আর মুশফিককে বাইরে রেখে যে রাব্বি আর মোসাদ্দেককে নেয়া হলো, তারা কি সিনিয়র দু’জনের চেয়ে ভালো খেলেছেন? নিজেদের বিশ্বকাপ খেলার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পেরেছেন?

পরিসংখ্যান পরিষ্কার বলে দিচ্ছে- নাহ, পারেননি। রিয়াদ ও মুশফিক দলে থাকলে কেমন খেলতেন, তা এখন বলা না গেলেও তাদের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া ইয়াসির রাব্বি, মোসাদ্দেক সৈকত আর নুরুল হাসান সোহান ব্যাট হাতে কিছুই করতে পারেননি। এক ম্যাচেও জ্বলে ওঠেনি এই তিনজনের কারও ব্যাট।

আসুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক- ইয়াসির রাব্বি, মোসোদ্দেক ও সোহানের কে কেমন খেললেন এবারের বিশ্বকাপে?

মোসাদ্দেক ৫ ম্যাচে সাকুল্যে করেছেন ৩৮ রান। সর্বোচ্চ ২০। গড় ৯.৫০। স্ট্রাইকরেট ৯৭.৪৩। ইয়াসির আলী রাব্বির অবস্থা সবচেয়ে করুন। ৩ ম্যাচে মোট রান মোটে ৫। সর্বোচ্চ ৩। গড় ২.৫০। আর স্ট্রাইকরেট টি-টোয়েন্টি মানের ধারে কাছেও নেই। টেস্টের মত; ৫৫.৫৫। সোহানও প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। ৫ ম্যাচে করেছেন (১৩+২+১+২৫*+০) ৪১ রান। সর্বোচ্চ ২৫। গড় ১০.২৫।

ওপরের পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে মোসাদ্দেক, ইয়াসির আলী রাব্বি আর সোহান পাল্লা দিয়ে খারাপ খেলেছেন। দলকে কিছুই দিতে পারেননি। তদের অনুজ্জ্বলতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিডল ও লেট অর্ডার। তারা না পেরেছেন হাত খুলে মারতে, না একদিক ধরে রাখতে। যে কারণে শেষ দিকে তথা ডেথ ওভারে রান ওঠেনি। বরং, দলের অবস্থাকে খারাপ করেছেন তারা।

শুধু মোসাদ্দেক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওভারে ১৬ রানকে বল হাতে ডিফেন্ড করেছেন। সেখানে রিয়াদ আর মুশফিক থাকলে কি তাদের চেয়ে খারাপ খেলতেন?

এ প্রশ্ন অনেকের মুখে মুখে। রিয়াদ আর মুশফিকের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরিসংখ্যানও যে অনেক বেশি সমৃদ্ধ, তা নয়। আসুন সেটাও দেখে নেয়া যাক।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩০ ম্যাচে ২৬ বার ব্যাট করা রিয়াদের সংগ্রহ ৩৬৩ রান। সর্বোচ্চ ৫০। গড় ১৮.১৫। স্ট্রাইকরেট ১১০.৬৭। মুশফিকুর রহিম ৩৩ ম্যাচে ২৮ বার ব্যাট করে ৫ বার নটআউট থেকে করেছেন ৪০২ রান। সর্বোচ্চ ৫৭। গড় ১৭.৪৭। স্ট্রাইকরেট ১০৮.৪৮। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শারজায় ৩৭ বলে ৫৭ রানের কার্যকর ও ঝড়ো ইনিংস আছে মুশফিকের।

রিয়াদেরও ২০১৬ সালে ব্যাঙ্গালুরুতে অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৯ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৪৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলার রেকর্ড আছে। ইয়াসির আলী, মোসাদ্দেক আর সোহানের কেউ এমন কোন ইনিংসই খেলতে পারেননি। তাহলে তাদের নিয়ে এবং খেলিয়ে কি লাভ হলো বাংলাদেশ দলের?


আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.