আজ: বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ইং, ১৯শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১০ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৭ ডিসেম্বর ২০২২, বুধবার |


kidarkar

সাংবাদিক শিরিন হত্যা মামলা আন্তর্জাতিক আদালতকে তদন্তের আবেদন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে গত ১১ মে অভিযান চালায় দেশটির সেনারা। সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে ছিলেন ৫১ বছর বয়সী শিরিন আবু আকলেহ। প্রত্যক্ষদর্শী ও তার সহকর্মীদের অভিযোগ, ইসরায়েলের এক সেনা মাথায় গুলি করলে শিরিন আবু আকলেহ প্রাণ হারান। এবার সেই হত্যা মামলার তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক আদালতে (আইসিসি) আবেদন করলো আল-জাজিরা গণমাধ্যম।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) কাতারভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বের করে বিচারের আবেদন করে আইসিসিতে। আল-জাজিরা কর্তৃপক্ষ আবেদনের সঙ্গে শিরিনের ওপর হামলা বিষয়ে ছয় মাস ধরে তদন্ত প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজও সংযুক্ত করেছে। এর আগে শিরিন আকলেহর পরিবার গত সেপ্টেম্বরে আইসিসিতে এ হত্যার বিচার চেয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিল।

আল-জাজিরার আইনজীবী রডনি ডিক্সন কেসি বলেন, ‘এটি কোনো একক হত্যাকাণ্ড নয়। বরং একটি বড় পরিকল্পনার অংশ। আল-জাজিরা ও ফিলিস্তিনের সাংবাদিকদের ওপর ২০২১ সালের ১৫ মে হামলার ঘটনার কথাও উল্লেখও করেন তিনি।

ডিক্সন বলেন, আল-জাজিরা কেন এ আবেদন করেছে তার কারণ হলো ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মামলাটি তদন্ত করার জন্য কিছুই করেনি। প্রকৃতপক্ষে, তারা বলছে, তারা তদন্ত করবে না।

এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো স্বীকার করে তাদের একজন সেনা সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে ‘জঙ্গি’ ভেবে গুলি করেন। স্থানীয় সময় সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বন্দুকের গুলিতে ‘দুর্ঘটনাবশত’ আবু আকলেহ শিরিন আঘাত পেয়েছিলেন। কিন্তু সশস্ত্র ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী হিসাবে চিহ্নিত সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল সেদিন।

সাংবাদিক শিরিনের হত্যাকাণ্ড গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এমনকি তার কফিন বহন করা ফিলিস্তিনিদের ওপরেই হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিশ্ববাসী। ইসরায়েলের এমন হিংস্র আচরণের কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় বিভিন্ন দেশের প্রধানরা। দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে বিচারের দাবি জানান তারা।

১৯৭১ সালে জেরুজালেমে জন্মগ্রহণ করেন এই খ্যাতিমান সাংবাদিক। তিনি ছিলেন একজন খ্রিষ্টান ও মার্কিন নাগরিক। জর্ডানের ইয়ারমুক ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতায় পড়ার আগে প্রাথমিকভাবে আর্কিটেকচারে পড়াশোনা করেন। স্নাতক শেষ করে তিনি ফিলিস্তিনে ফিরে আসেন ও কিছু গণমাধ্যমে কাজ করেন। আল-জাজিরার যাত্রা শুরুর এক বছর পর তিনি এর সঙ্গে যুক্ত হন।

সূত্র: আল-জাজিরা


আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.