আজ: বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৩ইং, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০১ নভেম্বর ২০২৩, বুধবার |

kidarkar

জৈব-জ্বালানির ক্ষেত্রে দেশের সকল বর্জ্য-আবর্জনাই কোন না কোনভাবে পুনর্ব্যবহৃত সম্ভব

নিজের প্রতিবেদক: বাংলাদেশে ওয়েস্টেজ বলে কিছু নেই, দেশের প্রায় সকল ওয়েস্টেজেরই ব্যবহার আছে এবং সকল বর্জ্য-আবর্জনাই কোন না কোনভাবে পুনর্ব্যবহৃত হচ্ছে।

এছাড়াও কিভাবে আরও নতুন কোন ক্ষেত্রে জৈব-জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব, তা নিয়ে আমাদের গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী) ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম। সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি সোসাইটি (বিইএস) এর আয়োজনে ‘বাংলাদেশে জৈব-জ্বালানির সম্ভাবনা’ বিষয়ক ৯ম ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

বিইএস সভাপতি ও সাবেক মুখ্য সচিব মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর সভাপত্ত্বিতে ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কওনিশ কীর্তনিয়া। এছাড়া, আলোচক হিসেবে ছিলেন জিআইজেড-এর সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা ইঞ্জি. মো: মুস্তাফিজুর রহমান; বিপিডিবি-এর সিস্টেম প্ল্যানিং-এর পরিচালক ইঞ্জি. জোরিফা খাতুন; সিকেএন ফিডস লিমিটেড-এর গবেষক/উপদেষ্টা ও বায়োগ্যাস অ্যাসোসিয়েশন-এর কার্যনির্বাহী সদস্য শাহেদ ইসরায়েল খান; এবং বিইএস-এর কাউন্সিল মেম্বার ও বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ-এর সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর ইজাজ হোসেন। সমাপনী সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন বিইএস-এর সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-এর সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম। উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (ইজিসিবি) ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং কাউন্সিল মেম্বার বিইএস মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন (অবঃ)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, “আমি সর্বদাই গবেষনাকে সমর্থন করি, কারণ এর মাধ্যমেই একটি জাতি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম। আমাদের রিসার্চের মাধ্যমে এতোমধ্যেই বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানায় ব্যাপকহারে জৈব-জ্বালানির ব্যবহার হচ্ছে এবং সুফল আমরা দেখতে পাচ্ছি।”

এসময় অংশগ্রহণ কারীরা দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি সামলাতে জৈব-জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও উপকারিতা এবং সম্ভাবনা প্রসঙ্গে আলোচনা করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. কওনিশ কীর্তনিয়া বলেন, “ট্রাকিং, শিপিং এবং এভিয়েশনের মতো হার্ড-টু-অ্যাবেট সেক্টরগুলোর জন্য লো-কার্বন সল্যুশন প্রদানের মাধ্যমে যানবাহনকে ডিকার্বনাইজ করার ক্ষেত্রে জৈব-জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে আখ, ভুট্টা ও সয়াবিনের মতো কমন ফিডস্টক ব্যবহার করে বেশিরভাগ জৈব-জ্বালানি উৎপাদিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া উন্নত করতে হবে এবং জৈব-জ্বালানি ব্যবহারের নিয়ম, গুরুত্ব ও উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়মমাফিক পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধি এবং এই সংক্রান্ত আইন জোরদারের মাধ্যমেও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।”

সভাপতির বক্তব্যে মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নবমবারের মতো জৈব-জ্বালানি বিষয়ক ওয়েবিনার আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এর মাধ্যমে জৈব-জ্বালানির সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে আমরা বিজ্ঞজনদের বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ পেয়েছি, যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আমি আশাবাদী।”

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.