আজ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪ইং, ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৮ জুলাই ২০২৪, সোমবার |

kidarkar

পুঁজিবাজার ফিরছে স্থিতিশীল ধারায়, বেড়েছে আস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর ধরে পতনের বৃত্তে দেশের পুঁজিবাজার। নানা ইস্যুকে কেন্দ্র করে এমন ধারাবাহিক দরপতন চলেছে। এতে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়েছেন। আস্থা সংকটে বাজার ছেড়ে অনেকেই চলে গেছেন। সম্প্রতি বাজেটে ক্যাপিটাল গেইনে কর আরোপ নিয়েও বড় দরপতন হয়।

তবে সব ইস্যু এখন শেষ। শুরু হয়েছে নতুন অর্থবছর। নতুন বছরে স্বরূপ ফিরেছে পুঁজিবাজার। গত সপ্তাহের শেষদিকে বাজার ইতিবাচক প্রবণতায় ফিরতে শুরু করে। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার বিনিয়োগকারীরা অনেক দিন পর উত্থানের সেঞ্চুরী প্রত্যক্ষ করে। এই ধারাবাহিকতায় গতকাল সপ্তাহের প্রথম দিনে সূচক বাড়ে প্রায় সাড়ে ৬১ পয়েন্ট এবং লেনদেন ৯০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজও সূচক ও লেনদেন ইতিবাচক থেকেই লেনদেন শেষ হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আস্থা বাড়ছে। যা পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই পুঁজিবাজারে পতন চলছিল। তবে নতুন অর্থবছরের শূরুতেই বাজার ইতিবাচক প্রবনাতায় ফিরেছে। সাইড লাইনে থাকা বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে বাজারে ফিরছেন। এটা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক।তাদের আশা ইতিবাচকতার মধ্যেই বাজার সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

তাঁরা বলছেন, বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজার এখন সবচেয়ে উত্তম সময়। যারা এখন যাচাই-বাছাই করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে, তারা নিঃসন্দেহে লাভবান হবে। তবে সাবধানতার সাথে লেনদেনের পরামর্শ বাজার সংশ্লিষ্টদের।

বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আজ সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবস সোমবার পুঁজিবাজারে উত্থান-পতনের বড় চমক দেখা গেছে। এদিন লেনদেনের শুরুতে প্রধান পুঁজিবাজার  ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচকে কিছুটা নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। যদিও আগের দিন রোববার বড় ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছিল।

আজ লেনদেনের শুরুর ০৬ মিনিটের মাথায় বাজার হঠাৎ করে নেতিবাচক প্রবণতায় টার্ন নেয়। তবে কিছুক্ষণ পরই নেতিবাচক প্রবণতা কাটিয়ে আবার ইতিবাচক প্রবণতায় ফেরে। লেনদেনের ২৬ মিনিটের মাথায় ডিএসইর সূচক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হয়।

বাজারে এই সময়ে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তোলার চাপ দেখা যায়। ফলে বাড়তে থাকে সেল প্রেসার। ধারাবাহিকভাবে সেল প্রেসারে বাজার দ্রুত নামতে থাকে। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ডিএসইর সূচক ৩৮ পয়েন্ট মাইনাস হয়ে যায়। এই সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়।

তবে বড় বিনিয়োগকারীদের বাই প্রেসার বাড়তে থাকলে সূচকের মাইনাস কমতে থাকে। এক পর্যায়ে বাজার আবার উত্থানের দিকে মোড় নেয়। এভাবে উত্থান পতনের স্বাভাবিক ধারা চলতে থাকে।শেষ বেলায় বাজার অল্প কিছু ইতিবাচক রেখে দিনের লেনদেন শেষ করে।

দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫৬৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক .৩১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ২১৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৫৯ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৪ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৪ টির, দর কমেছে ১৯৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩ টির।

ডিএসইতে ৮৮৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯০৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৯৪ পয়েন্টে।

সিএসইতে ২৭৮ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৪ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১০ টির এবং ২৪ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

 

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.