আজ: রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪ইং, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১০ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, রবিবার |

kidarkar

জেমিনি সি ফুডের শেয়ার কারসাজি: আবারও তদন্ত করবে বিএসইসি

GEMINI SEA FOODশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের জেমিনি সি ফুড চলতি ২০১৫-২০১৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর-২০১৫) মুনাফায় অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। অথচ কোম্পানিটি আগের বছর একই সময়ে লোকসানে ছিল। কিন্তু কোম্পানিটির মুনাফা বৃদ্ধির খবর প্রকাশের আগেই এর শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। তাই এখানে কোন কারসাজি বা অনিয়ম হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বিএসইসি।

এর জন্য ডিএসই সম্প্রতি কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুরো বিষয়টি নজরদারীতে রেখেছে। বিএসইসি এবং ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো: সাইফুর রহমান শেয়ারবাজারিনিউজ ডটকমকে বলেন, জেমিনি সি ফুডের প্রান্তিক প্রতিবেদন ও অস্বাভাবিক শেয়ার দর বৃদ্ধির ইস্যুগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ডিএসই কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে। চিঠির জবাব ও ডিএসই’র মন্তব্য পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

মুনাফায় উল্লম্ফন: সেপ্টেম্বর ক্লোজিং এ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ গত ১১ ফেব্রুয়ারি চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (অক্টোবর’১৫-ডিসেম্বর’১৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করেছে। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি কর পরিশোধের পর নীট মুনাফা করেছে ৯৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮.৫৪ টাকা। অথচ এর আগের বছর একই সময়ে কোম্পানিটি ১৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা লোকসান করেছিল। এসময় শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছিল ১.৫৯ টাকা। আলোচিত প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির রেভেনিউ ২০৩ শতাংশ এবং গ্রস প্রফিট ১৭১ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে, প্রথম প্রান্তিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির রিটেইন আর্নিংয়ে লোকসান আগের বছরের তুলনায় ৬২১ শতাংশ কমে যাওয়ায় ইক্যুইটি ৩৮৫ শতাংশ বেড়েছে। তাই এর শেয়ার প্রতি নীট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সমাপ্ত হিসাব বছরের এনএভি’র তুলনায় ৩৮৫ শতাংশ বেড়েছে।

কোম্পানি সচিব আ ফ ম নজরুল ইসলামের কাছে মুনাফায় অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে তিনি শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকের প্রতিবেদককে কোম্পানির হিসাব বিভাগে যোগাযোগ করতে বলেন।

পরবর্তীতে কোম্পানির হিসাব বিভাগে যোগাযোগ করা হলে এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের বেশকিছু ব্যবসায়িক এবং আভ্যন্তরীণ সঙ্কট ছিল। যা আমরা বর্তমানে কাটিয়ে উঠেছি। যে কারণে আমাদের পুরাতন বড় বড় ক্রেতারা সক্রিয় হয়েছে। তাই আমাদের পণ্য বিক্রি বেড়েছে। তাছাড়া মুনাফা বাড়াতে আমাদের নতুন বিনিয়োগে যেতে হয়নি।

শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি: ডিএসই’তে কোম্পানির প্রথম প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু এ প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পূর্বেই এ কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিকহারে বাড়তে থাকে। অর্থাৎ গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রয়ারি তারিখ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩২৩ টাকা থেকে ৬৫২.৭ টাকা পর্যন্ত অর্থাৎ ১০২ শতাংশ বা ৩২৯.৭ টাকা বেড়েছে। এ সময়ে কোম্পানিটির মোট ১৫ কোটি ৯৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় ৩ লাখ ২ হাজার ৩৭৮টি শেয়ার ৮ হাজার ৬৬৯ বার লেনদেন হয়।

এ অস্বাভাবিক শেয়ার দর বাড়ার কারনে ডিএসই থেকে কোম্পানিটিকে শোকজ করা হয়। এর জবাবে কোম্পানির কাছে দর বাড়ার কারণ জানা নেই বলে ডিএসইকে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, গত বছরের নভেম্বর মাসে এ কোম্পানির শেয়ার দর ৪৮০ টাকা থেকে ৫০ শতাংশ কমে ৩২০ টাকায় নেমে আসে। কোম্পানিটির এমন দরপতন তদন্তে বিএসইসি ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত সপ্তাহে কমিটি তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন বিএসইসি’র এনফোর্সমেন্ট বিভাগে জমা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং শেয়ার সংখ্যা ১১ লাখ। কোম্পানিটির ৭৮.৫৪ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকের কাছে, ১.৭৬ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে এবং ১৯.৭০ শতাংশ শেয়ার সাধারন বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটি পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে ৯০ লাখ টাকা।

শেয়ারবাজারনিউজ/অ/মু

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.