৮ মাসে রেমিটেন্স বেড়েছে ৮ শতাংশ

remitanceশেয়ারবাজার রিপোর্ট : রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্যে ভাটার টান চললেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) প্রায় ১০ বিলিয়ন (এক হাজার কোটি) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৮ শতাংশ বেশি।

সদ্য শেষ হওয়া ফেব্রুয়ারি মাসে ১১৮ কোটি ডলার রেমিটেন্স দেশে এসেছে।

এই অঙ্ক গত তিন বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান।

তিনি সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনে। এই ২৮ দিনেও প্রবাসীরা ১১৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন।

“হরতাল-অবরোধসহ সহিংসতার কারণে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ক্ষতি হলেও রেমিটেন্স প্রবাহে তার কোনো প্রভাব পড়েনি।”

রেমিটেন্স সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১১৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। তার আগের বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এসেছিল ১১৬ কোটি ৩২ লাখ ডলার। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এসেছিল ১১৩ কোটি ডলার।

আর চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে অর্থ্যাৎ জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে মোট ৯৯১ কোটি (৯ দশমিক ৯১ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স এসেছে।

গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ৯২০ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল। পুরো অর্থবছরে এসেছিল এক হাজার ৪২৩ কোটি (১৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন) ডলার, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ কম।

২০১২-১৩ ১ হাজার ৪৪৬ কোটি ১১ লাখ (১৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। তা এক অর্থবছরে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেমিটেন্স।

রিজার্ভ ২৩.০৪ বিলিয়ন ডলার

রেমিটেন্সের ওপর ভর করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়নও (রিজার্ভ) নতুন উচ্চতায় অবস্থান করছে।

সোমবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। গত বৃহস্পতিবার রিজার্ভ বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।

বৃহস্পতিবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের আগ পর্যন্ত রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করবে বলে জানান ছাইদুর রহমান।

এবার আকুর বিল ১০১ কোটি ডলার

প্রায় দুই মাস ধরে হরতাল-অবরোধের মধ্যেও দেশে আমদানি বেড়েছে, সে কারণে আকুর বিলও বেশ বেড়েছে।

এবার জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদে আকুর ১০০ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বিল পরিশোধ করতে হবে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এই বিল সমন্বয় করা হবে।

এর আগে নভেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদে বাংলাদেশ আকুর ৮৯ কোটি ডলার বিল শোধ করেছিল।

বাংলাদেশ আকুর সদস্যভূক্ত দেশ থেকে যে সব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর পরিশোধ করা হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/তু

আপনার মন্তব্য

Top