আজ: মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪ইং, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৫ জুন ২০১৬, শনিবার |

kidarkar

বাবুল আক্তারকে ছেড়ে দিয়েছে ডিবি

Babulশেয়ারবাজার ডেস্ক: চট্টগ্রামে মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে তার স্বামীকে এসপি বাবুল আক্তারকে গভীর রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। এরপর বাসায়ও ফিরেছেন তিনি।

শনিবার (২৫ জুন) বেলা ৪টা ১৯ মিনিটে বাবুল আক্তারের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

এসময় তিনি বলেন, ‘আমাকে কেউ গ্রেপ্তার করেনি। যেহেতু মামলার বাদি আমি, তাই এই মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনার জন্য আমাকে ডাকা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে কথা হয়েছে।’

এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার বলেছেন, ‘বাবুল আক্তার যেহেতু মামলার বাদি, তাই মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে জানার জন্যই তাকে ডাকা হয়েছিলো। এছাড়া অন্য কিছু না।’

স্বারাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিতু হত্যাকাণ্ডে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের শনাক্ত ও জিজ্ঞাসাবদের জন্য বাবুল আক্তারকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকজন আসামির সামনে মুখোমুখি করে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

এসপি বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, বা তাকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘এখনও বলার সময় হয়নি। শিগগিরই জানতে পারবেন।’

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে তার শ্বশুর বাড়ি খিলগাঁও মেরাদিয়া ১২০ নম্বর বাসা থেকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের একটি বিশ্বস্তসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাবুল আক্তারের শ্বশুরও পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

এদিকে মিতু হত্যায় সরাসরি জড়িত সন্দেহে আবু মুছা (৪৫) ও এহতেশামুল হক ভোলা (৩৮) নামে দুই ব্যক্তিকে ইতোমধ্যেই আটক করেছে পুলিশের একটি ইউনিট। এরা দু’জনই এসপি বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে তারা মিতুকে হত্যা করেছে অথবা সাহায্য করেছে। তাছাড়া মিতু হত্যায় যে অস্ত্রটি ব্যবহার হয়েছে, সেটি নাকি বাবুল আক্তরের সোর্স বিভিন্ন সময় ভাড়া দিতো।

এর মধ্যে আবু মুছা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। অনেক সময় ভাড়াটে খুনি হিসেবেও কাজ করেন। এসপি বাবুল আক্তারের হাতে একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে ভোলাও একজন সন্ত্রাসী ছিলেন। এখন তিনি ৩৫ নম্বর বকশিরহাট ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা। বেশ কিছুদিন ধরে দু’জনই বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে কাজ করছেন। আর এসব বিষয় নিয়েই ডিবি পুলিশ বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলবে বলেই জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন নগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে খুন হন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পরদিন পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তার বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/ম.সা

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.