আজ: বুধবার, ১২ জুন ২০২৪ইং, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০১ অগাস্ট ২০১৬, সোমবার |

kidarkar

বাবুলের চাকরি নিয়ে রহস্য কাটছে না

Babulশেয়ারবাজার ডেস্ক: পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত প্রায় দুই মাস। সরকারি কর্মচারী বিধি অনুযায়ী কেউ অনুমতি ছাড়া একনাগাড়ে দুই মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যাবে। বিষয়টি বাবুল আক্তারও জানেন।

তাহলে কেন তিনি কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন না? তাকে কী চাকরি থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে, নাকি নিজেই সরে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন? এসব বিষয় নিয়ে রহস্য কাটছে না।

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ জুন রাজধানীর মেরাদিয়ার ভূঁঁইয়াপাড়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর থেকেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর থেকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে পুলিশ প্রোটেকশনও তুলে নেয়া হয়। ৫ জুন চট্টগ্রামে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোববার পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (প্রশাসন) বিনয়কৃষ্ণ বালা বলেন, এসপি বাবুল আক্তার দীর্ঘদিন ধরেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তিনি কোনো ছুটির দরখাস্ত করেননি। তার স্ত্রী নির্মমভাবে খুন হয়েছেন, তাই তার প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহানুভূতিও রয়েছে। তবে তিনি ওই ঘটনার পর থেকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত। যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধির লংঘন।

বিনয়কৃষ্ণ বালা আরও বলেন, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি অনুযায়ী, একনাগাড়ে কেউ যদি দু’মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন, তবে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে বিভাগীয় মামলাসহ ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। এতে চাকরিও চলে যেতে পারে।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও চাকরি সংক্রান্ত বইয়ের লেখক মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, ৬০ দিন বা তার অধিককাল বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকলে ডিজারশনের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারে এবং এ অভিযোগের কারণে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে। এছাড়া এ অনুপস্থিতি অসদাচরণের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেও একই দণ্ড প্রযোজ্য।

পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক ২১ জুলাই চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাবুল আক্তারের চাকরি এখনও আছে। তিনি বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কারণে তিনি চাকরিতে আসছেন না। তিনি পুলিশ হেড কোয়ার্টারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও রাখছেন না।

পুলিশ প্রধানের এ বক্তব্যের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো বাবুল আক্তার এবার তার কর্মস্থলে যোগদান করবেন। তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেনও ধারণা করেছিলেন হয়তো বাবুল কর্মস্থলে যোগ দেবেন। আইজিপির বক্তব্যের পরদিন মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে ওই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেছিলেন, ২-১ দিনের মধ্যে বাবুল আক্তার কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন বলে তার ধারণা।

রোববার মোশাররফ হোসেনের কাছে বাবুলের চাকরির বিষয়ে আবার জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অফিস থেকেও বাবুল আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। বাবুলও অফিসে যোগাযোগ করেনি। তিনি বলেন, ২৪ জুন বাবুলকে পুলিশ ১৫ ঘণ্টা কী জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তা আমরা জানি না।

বাবুলকে নিয়ে যা শুরু হয়েছে তা আমরা বিশ্বাস করি না। বাবুল নির্দোষ। তবে তদন্তে যদি বাবুলের জড়িত থাকার বিষয় উঠে আসে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাকরি যাওয়া বা না যাওয়া তো বিষয় নয়। চাকরি থাকা না থাকাটা সমাধান নয়। এটি আইনি প্রক্রিয়া। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য এখনও উদঘাটন হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, বাবুলকে নিয়ে কেন এসব হচ্ছে বুঝতে পারছি না।

গত ৫ জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ের কাছে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সেদিনই তার লাশ আনা হয় খিলগাঁও মেরাদিয়ার ভূঁইয়াপাড়ায় বাবার বাসায়। রাতে মেরাদিয়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। সেই থেকে বাবুল দুই সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই আছেন।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.