৪২ সিকিউরিটিজ হাউজ এখনো পাইলট প্রজেক্টের বাইরে

ipoশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পাইলট প্রজেক্টের আওতায় সিকিউরিটিজ হাউজের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা যাতে আইপিও আবেদন করতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার সময়সীমা আজ ১৫ মার্চ রবিবার শেষ হচ্ছে। কিন্তু ৪২টি সিকিউরিটিজ হাউজ এখনো ওই প্রক্রিয়ায় আইপিও আবেদনের পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, আগামি ১ এপ্রিল থেকে সিকিউরিটিজ হাউজের মাধ্যমে নতুন পদ্ধতিতে আইপিও আবেদন করতে হবে। এর জন্য সকল সিকিউরিটিজ হাউজকে ১৫ মার্চের মধ্যে নতুন পদ্ধতিতে আইপিও আবেদন করার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্নের প্রতিবেদন বিএসইসি-তে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এসব প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে বিএসইসি চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। যেসব সিকিউরিটিজ হাউজ অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হবে তাদের মাধ্যমে আইপিও আবেদন করা যাবে না।

এদিকে ডিএসই সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ২০৮টি সিকিউরিটিজ হাউজ বিএসইসি’র অনুমোদন পেয়েছে। এদের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা নতুন পদ্ধতিতে আইপিও আবেদন করতে পারবে। কিন্তু বাকি ৪২টি সিকিউরিটিজ হাউজ পাইলট প্রজেক্টের আওতায় আইপিও আবেদন করতে পারার অনুমোদন এখনো পায়নি।

যদিও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সকল সিকিউরিটিজ হাউজ আইপিও আবেদনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বিএসইসি-তে এর প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যারা এখনো অনুমোদন পায়নি শিগগিরই তাদের অনুমোদন হয়ে যাবে।

আইপিও আবেদনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে না পারা সিকিউরিটিজ হাউজগুলো হচ্ছে, মোহাম্মদী স্টক মার্কেট (ট্রেক নং-১৫); আবদুল আহাদ সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৩৬); শাহীক সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৩৯); ইস্টার্ন ক্যাপিটাল লি: (ট্রেক নং ৪০); ট্রান্সকন সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৫৫); ব্যাঙ্কো সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৬৩); প্রুডেনশিয়াল সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৭৩); রয়্যাল গ্রীণ সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৭৭); লতিফ সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৮০); মেহবুব হাসনাত জামান (ট্রেক নং ৮২); শামীম সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ৮৩); আসিফ আহমেদ এন্ড কোং (ট্রেক নং ৮৪); জামিলুর রহমান (ট্রেক নং ৯২); মো: হোসেন (ট্রেক নং ৯৬); আহসানুর রহমান (ট্রেক নং ১০৩); এবিএস সাফদার এন্ড কোং (ট্রেক নং ১২৪); দোহা সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১২৭); হেদায়েত উল্লাহ সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৪০); ডন সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৪১); সাখাওয়াত হোসেন (ট্রেক নং ১৪৪); ফরচুন সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৪৭); আবদুল হাই (ট্রেক নং ১৫০); এএইচসি সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৫১); শিল্প ব্যাংক সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৫২); আল ফয়সাল সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৬১); খুরশীদ আলম সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৬৭); ফারইস্ট ইসলামি সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৭০); বেক্সিমকো সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ১৭৮); মো: ইদ্রিস (ট্রেক নং ১৮৮); সালাম এন্ড কোম্পানি লি: (ট্রেক নং ১৯০); এএম সিকিউরিটিজ এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (ট্রেক নং ২০৫); বুড়িগঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিজ লি: (ট্রেক নং ২১১); ডায়নামিক স্টিল কমপ্লেক্স লি: (ট্রেক নং ২১২); নেক্সাস সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ২১৮); প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ২১৯); ট্রেজার সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ২২১); মিরর ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট (ট্রেক নং ২২৩); কনমার্ক লি: (ট্রেক নং ২২৮); মেঘনা লাইফ সিকিউরিটি এন্ড ইনভেস্টমেন্ট (ট্রেক নং ২৪৫); রূপালী ব্যাংক সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ২৪৬); বোরাক সিকিউরিটিজ (ট্রেক নং ২৪৭) এবং উত্তরা ব্যাংক সিকিউরিটিজ।

এদিকে, আইপিও আবেদনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে না পারা ৪২টি হাউজের মধ্যে ১৩টি হাউজের ট্রেক লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও তারা বর্তমানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। তবে অন্য হাউজগুলো পাইলট প্রজেক্টের আওতায় আইপিও আবেদনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কাগজ-পত্র দেরিতে হলেও বিএসইসি-তে জমা দিয়েছে বলে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ফারইস্ট ইসলামি সিকিউরিটিজের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন শেয়ারবাজার নিউজ ডট কমকে বলেন, আমাদের হাউজের মাধ্যমে আইপিও আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সম্প্রতি বিএসইসি-কে এ বিষয়ে আমরা অবহিত করে সকল কাগজ-পত্রও জমা দিয়েছি। এখন তাদের অনুমোদন পেলেই বিনিয়োগকারীরা আমাদের হাউজের মাধ্যমে আইপিও আবেদন করতে পারবেন।

আজ ১৫ মার্চ প্রস্তুতি গ্রহণের শেষদিন কিন্তু এখনো অনুমোদন না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সিকিউরিটিজ ব্যবসায় আমাদের হাউজটি নতুন এসেছে। তাছাড়া ব্যাংকের সাথে কাগজ-পত্র নিয়ে একটু ঝামেলা থাকায় আমাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কিছু সময় বেশি লেগেছে। তবে আশা করছি এপ্রিল থেকে আমাদের হাউজের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা আইপিও আবেদন করতে পারবেন।

এদিকে ব্যাঙ্কো সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী মো: নাজিম শেয়ারবাজারনিউজ ডট কমকে এ বিষয়ে বলেন, পাইলট প্রজেক্ট শুরু করার জন্য আমরা বিএসইসি-কে চিঠি দিয়েছি। তবে এ মুহুর্তে আমরা এ কার্যক্রম শুরু করতে পারছি না। আশা করছি অলিম্পিক এক্সেসরিজের পর যে আইপিও আসবে সেগুলো থেকে পাইলট প্রজেক্ট শুরু করতে পারবো।

যেসব সিকিউরিটিজ হাউজ এখনো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারে নাই তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসি’র মুখপাত্র মো: সাইফুর রহমান বলেন, আমরা পাইলট প্রজেক্টকে অর্থবহ এবং এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিকিউরিটিজ হাউজগুলোকে কার্যক্রম শুরু করার জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অনুমোদন দিচ্ছি। যারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে না তাদের কিছুতেই অনুমোদন দেওয়া হবে না। আর যারা পারছে না তারা এমনিতেই গ্রাহক আস্থা হারাবে। সুতরাং হাউজগুলোর নিজের স্বার্থেই পাইলট প্রজেক্টে অংশগ্রহণ করতে হবে। তবে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে কিনা এ বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/সা/তু

আপনার মন্তব্য

Top