আজ: সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২ইং, ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৫ অক্টোবর ২০১৬, শনিবার |


kidarkar

সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারেন না ৪৫ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক


edu_logoশেয়ারবাজার ডেস্ক: মুখস্থবিদ্যা পরিহার করে শিক্ষার্থীরা বুঝে ও মেধা খাটিয়ে লিখবে, নোট-গাইড বন্ধ হবে—এমন চিন্তা থেকে ২০০৮ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি চালু হয়। তবে বাস্তবে তা হচ্ছে না। মাউশির একাডেমিক সুপারভিশন প্রতিবেদন বলছে, যে ৪৫ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারেন না তার মধ্যে ২৬ দশমিক ৯০ শতাংশ অন্য বিদ্যালয়ের সহায়তায় এবং ১৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ বাইরে থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে।

গত নভেম্বরে করা একাডেমিক সুপারভিশন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রায় ৪১ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারেন না। অর্থাৎ ছয় মাস পর পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৪৫ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্ন তৈরি করতে পারেন না। ৪০ শতাংশ বিদ্যালয় ‘কম মেধাবী’ শিক্ষার্থী চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেয় না। প্রায় ২৮ শতাংশ বিদ্যালয়ে নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ।

এমন চিত্র উঠে এসেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সর্বশেষ ‘একাডেমিক সুপারভিশন প্রতিবেদনে’। গত মে মাসে সারা দেশের ৯টি শিক্ষা প্রশাসনিক অঞ্চলের ৬ হাজার ৪৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সুপারভিশন করে এই প্রতিবেদন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করে এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সারা দেশে মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে ১৮ হাজার ৫৯৮টি।

এই প্রতিবেদন বলাহয়েছে, ৫৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারেন। রাজশাহী অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে সৃজনশীল প্রশ্ন করার হার সবচেয়ে বেশি, ৭৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। বাইরে থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহের হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল অঞ্চলে, ৯১ দশমিক ৯০ শতাংশ। এই অঞ্চলের মাত্র ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পুরোপুরি ও ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ আংশিক এই পদ্ধতিতে প্রশ্ন করতে পারেন।

ঢাকা অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর ৬৪ দশমিক ১৮ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীলে সম্পূর্ণরূপে প্রশ্ন করতে পারেন। ময়মনসিংহ অঞ্চলে এই হার ৪৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। সিলেট অঞ্চলে ৫৪ দশমিক ৪০ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৪৯ দশমিক ৭০ শতাংশ, রংপুরে ৫১ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং খুলনা অঞ্চলের ৬০ দশমিক ৮৪ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৃজনশীলে প্রশ্ন করতে পারেন।

সুপারভিশন করা বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ছিলেন ৯৮ হাজার ৯৬৯ জন। তাঁদের মধ্যে সৃজনশীল বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ৫৩ হাজার ৮২৯ জন। মাউশির কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, অনেক শিক্ষক গাইডবইগুলোর নমুনা প্রশ্ন কিংবা পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন অনুসরণ করে শুধু নাম পাল্টিয়ে প্রশ্ন করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যালয়ে সৃজনশীল পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হলে বাইরে থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে এবং নিজেরাই যাতে এ পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষকেরা সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারলেই এ পদ্ধতির লক্ষ্য পূরণ হবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই ২৮ শতাংশ: সুপারভিশন করা ৬ হাজার ৪৪২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১ হাজার ৮৫১টিতে (প্রায় ২৮ শতাংশ) পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। শিক্ষার্থীদের জন্য টয়লেট নেই ১৫৬টিতে। ২৮১টিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নেই।

ঝরে পড়া রোধসহ সব শিক্ষার্থীকে সমান গুরুত্ব দিতে ‘কম মেধাবী’দের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও এখনো ৪০ দশমিক ৮৪ শতাংশ বিদ্যালয় তা করে না। এর মধ্যে ১৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ বিদ্যালয় এমন শিক্ষার্থীদের চিহ্নিতই করে না। ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ চিহ্নিত করলেও পদক্ষেপ নেয় না।

সুপারভিশন করা বিদ্যালয়গুলোর ১৯ হাজার ১৯১ জন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের বিষয়ে রেকর্ড সংগ্রহ করেন না। ২৫ হাজার ৭৬১ জন রেকর্ড সংগ্রহ করেন আংশিক। মাত্র ৩৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রধান শিক্ষক রেজিস্টার পুরোপুরি হালনাগাদ করেন।

শেয়ারবাজারনিউজ/সো


আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.