আজ: মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২ইং, ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৭ অক্টোবর ২০১৬, সোমবার |


kidarkar

কৌশলে দায় সারল ৮ কোম্পানি


Dividendশেয়ারবাজার রিপোর্ট: অর্থবছর জুন ক্লোজিং করেও বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত মাসের জন্য বাড়তি ডিভিডেন্ড ঘোষনা করতে পারিনি পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ৮ কোম্পানি। কোম্পানি গুলো তাদের পূর্বে ১২ মাসের জন্য যে ডিভিডেন্ড ঘোষনা করেছিল ১৮ মাসেও সেই ডিভিডেন্ড বহাল রেখেছে।

জুন ক্লোজিংয়ের বাধ্যবাধকতায় ৮ কোম্পানি নিজেদের হিসাব গুছিয়ে নিলেও বাড়তি মাসের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি। এক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

কোম্পানিগুলো হলো: ড্রাগন সোয়েটার, কেডিএস এক্সেসরিজ, শাশা ডেনিমস লিমিটেড, শাইনপুকুর সিরামিকস, নাভানা সিএনজি, বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো সিনথেটিক এবং রেনেটা লিমিটেড। 

ড্রাগন সোয়েটার:

বস্ত্র খাতের কোম্পানি ড্রাগণ সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং লিমিটেড বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৮ মাসের অর্থাৎ জানু’১৫-জুন’১৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোম্পানি পূর্বের ডিভিডেন্ড বহাল রেখেছে।

এর আগে কোম্পানিটি ১২ মাসের অর্থাৎ জানু-ডিসেম্বর’১৫ জন্য ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিলো।  আজ ১৬ অক্টোবর, রোববার অনুষ্ঠিত কোম্পানির পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, ১৮ মাসে এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২.২৭ এবং শেয়ার প্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহের পরিমাণ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১.৩২ টাকা। এদিকে, কোম্পানির গত ১২ মাসে অর্থাৎ জুন’১৫-জুন’১৬ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পনির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে (ইপিএস) ০.৬৫ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ১৬.৮৪ টাকা।

উল্লেখ্য, ড্রাগণ সোয়েটার চলতি বছরে তালিকাভূক্ত হয়েছে। কোম্পানির হিসাব বছর ছিল ৩১ ডিসেম্বর। কিন্তু অর্থ আইন পরিপালন করার জন্য কোম্পানিটি হিসাব বছর ৩০ জুন করে। তবে কোম্পানিটি তাদের ১২ মাসের ডিভিডেন্ড এবং রেকর্ড ডেট অপরিবর্তীত রাখে।

কেডিএস এক্সেসরিজ লিমিটেড:

প্রকৌশল খাতের কেডিএস এক্সেসরিজ লিমিটেড ১৮ মাসে বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ১২ মাসের হিসাবে বিনিয়োগকারীদের জন্য যে ৫ শতাংশ ক্যাশ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ডের ঘোষণা দিয়েছিল সেটিই বহাল রেখেছে। এক্ষেত্রে বাড়তি ছয় মাসের জন্য কোন ডিভিডেন্ড দেয়া হয়নি।

১৮ মাসের নিরীক্ষিত হিসাব সম্পন্ন ও অনুমোদনের জন্য আজ ৯ আগস্ট কোম্পানিটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্ষদ সভায় আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি স্থগিত বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ পুনরায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ১৮ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই’১৩-ডিসেম্বর’১৪) ইপিএস ছিল ৩.২৭ টাকা।

এছাড়া ১৮ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ২৪.৯৯ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২১.৮৫ টাকা।

শেয়ার প্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো’র পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫.৮৩ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৫.৯৩ টাকা।

শাশা ডেনিমস লিমিটেড:

বস্ত্র খাতের শাশা ডেনিমস লিমিটেড ১৮ মাসে বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ১২ মাসের হিসাবে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিলেও বাড়তি ছয় মাসের জন্য কোন ডিভিডেন্ড দেয়নি।

১৮ মাসের নিরীক্ষিত হিসাব সম্পন্ন ও অনুমোদনের জন্য আজ কোম্পানিটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্ষদ সভায় আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি স্থগিত বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ পুনরায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ১৮ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭.৫৮ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪.০৭ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ৮৭ শতাংশ বেড়েছে।

একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৪৪.৮৬ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪১.৫৭ টাকা। শেয়ার প্রতি নগদ কার্যকর প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৬.৭৯ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩.৭৯ টাকা।

শাইনপুকুর সিরামিকস:

সিরামিক খাতের কোম্পানি শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেড লোকসানের কারণে ১৮ মাসেও বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি। জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ১৮ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ০.২২ টাকা। শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ২৮.০৯ টাকা এবং শেয়ার প্রতি নগদ কার্যকর প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১.৯৬ টাকা।

এর মধ্যে জানুয়ারি, ২০১৬ থেকে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ছয় মাসে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ০.২৬ টাকা।

নাভানা সিএনজি:

প্রকৌশল খাতের কোম্পানি নাভানা সিএনজি ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত ১৫ মাসের জন্য ১৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। গত ৩১ মার্চ’১৫ অর্থবছরে ১৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। সে হিসেবে বাড়তি ৩ মাসের জন্য অতিরিক্ত কোন ডিভিডেন্ড ঘোষনা করেনি।

১৫ মাসে এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪.১৮ টাকা। এছাড়া শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ৩১.৪০ টাকা ও শেয়ার প্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহের (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ২.০২ টাকা (নেগেটিভ)।

এদিকে ১৫ মাসের মধ্যে প্রথম ১২ মাস অর্থাৎ এক বছরে (এপ্রিল’১৫-মার্চ’১৬) নাভানা সিএনজির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩.৩৬ টাকা, শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ৩০.৫৭ টাকা ও শেয়ার প্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহের (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ২.৪৫ টাকা । গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩.৫৪ টাকা, ৩০.১৯ টাকা এবং ১.৮২ টাকা।

এছাড়া বাকি তিন মাসে (এপ্রিল’১৬-জুন’১৬) নাভানা সিএনজির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৮৩ টাকা, শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ৩১.৪০ টাকা ও শেয়ার প্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহের (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৪.৪৬ টাকা (নেগেটিভ) । গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ০.৮২ টাকা, ৩১.০৮ টাকা এবং ০.৪৪ টাকা।

বেক্সিমকো লিমিটেড

বিবিধ খাতের কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড বাড়তি ৬ মাসের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোন প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। অর্থাৎ এর আগে জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে ডিসেম্বর, ২০১৫ পর্যন্ত ১২ মাসের জন্য বিনিয়োগকারীদের যে ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিলো তাই চুড়ান্ত ডিভিডেন্ড হিসাবে বহাল রেখেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

জানা যায়, জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ১৮ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১.৬২ টাকা। শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৮৩.৮৪ টাকা এবং শেয়ার প্রতি নগদ কার্যকর প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৮.৪৭ টাকা (নেগেটিভ)।

এর মধ্যে জানুয়ারি, ২০১৬ থেকে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে ০.৫৮ টাকা। অপরদিকে, জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে ডিসেম্বর, ২০১৫ পর্যন্ত ইপিএস ১.০৪ টাকা।

বেক্সিমকো সিনথেটিক

ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি বেক্সিমকো সিনথেটিক লিমিটেড লোকসানের কারণে ১৮ মাসেও বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি।

জানা যায়, জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ১৮ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১.১৮ টাকা। শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ২৩.৩৪ টাকা এবং শেয়ার প্রতি নগদ কার্যকর প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ০.৩৬ টাকা (নেগেটিভ)।

এর মধ্যে জানুয়ারি, ২০১৬ থেকে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ছয় মাসে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ০.৩৭ টাকা। অপরদিকে, জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে ডিসেম্বর, ২০১৫ পর্যন্ত লোকসান হয়েছে ০.৮১ টাকা।

রেনেটা লিমিটেড:

ঔষধ ও রসায়ন খাতের রেনেটা লিমিটেড শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৮ মাসের চূড়ান্ত ডিভিডেন্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য পূর্ব ঘোষিত ৮৫ শতাংশ ক্যাশ এবং ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড অপরিবর্তীত রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে বাকি ৬ মাসের জন্য কোনো বাড়তি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়নি। জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ১৮ মাসের হিসাব নিরীক্ষা শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা যায়, ১৮ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬২.৪১ টাকা। এর মধ্যে জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে ডিসেম্বর, ২০১৫ পর্যন্ত এ ১২ মাসে ইপিএস হয়েছে ৩৯.২১ টাকা এবং জানুয়ারি, ২০১৬ থেকে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত এ ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে ২৩.২০ টাকা।

আলোচিত সময়ে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে যথাক্রমে ১৮৩.৫০ টাকা এবং ২০৬.৬১ টাকা এবং শেয়ার প্রতি নগদ কার্যকর প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে যথাক্রমে ৩৭.৪৮ টাকা এবং ২৬.৪৫ টাকা।

উল্লেখ্য, এর আগে ৩০ এপ্রিল তারিখে কোম্পানিটির অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় বিনিয়োগকারীদের জন্য ৮৫ শতাংশ ক্যাশ ও ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ডের সুপারিশ করেছিল। এর জন্য ২২মে তারিখে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ হয়েছিল

শেয়ারবাজারনিউজ/সো


আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.