আজ: বুধবার, ২৩ জুন ২০২১ইং, ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৬ মার্চ ২০১৫, বৃহস্পতিবার |


kidarkar

আইপিও’র অনুমোদনে ধীরে চলো নীতি  

BSECশেয়ারবাজার রিপোর্ট: নতুন কোম্পানির প্রাথমিক গণ প্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আপাতত ধীরে চলো নীতিতে এগুচ্ছে। পুঁজিবাজারের চলমান পতন, তারল্য সঙ্কট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

এর পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পুঁজিবাজারের নিম্নমুখি প্রবনতা দেখে ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোও বাজারে তালিকাভুক্তির ব্যপারে আগ্রহী হচ্ছে না। তাই এ বছর আইপিও অনুমোদনের পরিমান কমে গেছে বলে দাবী করছে অধিকাংশ মার্চেন্ট ব্যাংক।

কমিশনসূত্র মতে, পুঁজিবাজারে চলমান পতনে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন কোম্পানি আইপিও’র অনুমোদন পেলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কা থাকে। তাই এ সময়ের মধ্যে আইপিও’র অনুমোদন দিলে বিনিয়োগকারীদের ব্যপক সমালোচনার সম্মুখিন হতে হবে। পরিস্থিতি ভালো না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত আইপিও’র অনুমোদন না দেয়ার ব্যাপারে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

জানা যায়, বিএসইসি’তে মার্চ-এপ্রিল ও অক্টোবর-নভেম্বর বছরের এ দুই সময়ে আইপিও’র আবেদনের চাপ থাকে। কিন্তু এ বছর সেভাবে আবেদন পড়ছে না। আর তাই বিনিয়োগকারী ও ইস্যুয়ার উভয়পক্ষেরই আগ্রহ না থাকার কারণে নতুন আইপিও’র অনুমোদন দেয়ার ব্যাপারে ধীরে চলো নীতিতে অগ্রসর হওয়াকেই সমযোপযোগি সিদ্ধান্ত হিসেবে মনে করছেন বিএসইসি সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ইস্যু ম্যানেজারদের কাছে আগের বছরগুলোর তুলনায় আবেদন কম আসছে। এমনকি আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অনেক ইস্যুয়ার কোম্পানি এ সময় বাজারে আসার ব্যপারে অনিহা দেখাচ্ছেন। এমন তথ্য পাওয়া গেছে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের কাছ থেকে।

২০১০ পরবর্তি মন্দার বাজারে ইস্যু ম্যানেজমেন্ট মার্চেন্ট ব্যাংকের আয়ের একটি বড় উৎস ছিলো। ইস্যুয়ার কোম্পানির আগ্রহ ও অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় আয় হারাচ্ছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো।

সর্বশেষ ২০১৪ অর্থ-বছরে বিএসইসি মোট ১৭ টি কোম্পানিকে আইপিও’র অনুমোদন দেয়। কিন্তু এ বছরের প্রথম তিন মাসে ৯টি সভা অনুষ্ঠিত হলেও মাত্র ৩টি আইপিও’র অনুমোদন পাওয়ার অন্যতম কারণ আবেদন স্বল্পতা। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি এবং একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড রয়েছে।

বিএসইসি’র নির্ভরযোগ্য এক সূত্রে জানা যায়, ঢালাওভাবে আইপি’র অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে বিএসইসি ধীরে চলার নীতিতেই এগুচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান শেয়ারবাজার নিউজ ডট কমকে বলেন, ‘আইপিও কম দেয়া বা না দেয়ার ব্যাপারে কোনো ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত বা এমন কিছুই নেই। তবে কমিশন পুঁজিবাজারের সার্বিক দিক বিবেচনা করে আইপিও অনুমোদন দিচ্ছে।’

 

শেয়ারবাজার/ও/তু

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.