মামলায় ঝুলছে ১৭ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব- এনবিআর

শেয়ারবাজার রিপোর্ট: আদালতে বছরের পর বছর ঝুলে আছে সরকারের প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব মামলা। উচ্চ আদালতের মামলা জটের কারণে এসব মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকে জানা যায়,  দেশের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে আদালতের আশ্রয় নেয়। বছরের পর বছর ধরে মামলা পরিচালনা করলেও নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করে না তারা। অন্যদিকে নানা আইনের মারপ্যাঁচে এনবিআর এসব রাজস্ব আদায় করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এভাবে বহু বছরের পুরনো মামলা ঝুলে আছে আদালতে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে এনবিআরের অধীন কাস্টস, ভ্যাট ও ইনকামট্যাক্স মিলে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার মামলা সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ইনকাম ট্যাক্সের মামলা গুলো হলো ২০০৪ সালের মামলা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ডেপুটি কমিশনার অব ট্যাক্স বিভাগের ২য় সচিব মোনালিসা শাহ্রিন শুসমিতা বলেন, ২০০৪ সালের মামলাগুলোর শুনানি ২০১৫ সালে হচ্ছে। অর্থাৎ দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০০৪ সালের মামলাগুলো সক্রিয় হচ্ছে। যে অফিসারের অধিনে মামলাটি হয়েছিল সেই অফিসার এই দীর্ঘ সময় ধরে থাকে না। ফলে আবার নতুন করে রেকর্ডগুলো খুঁজে বের করতে হয়। এটা একটা বড় সমস্যা। মামলা দীর্ঘসূত্রতার এটাও একটা বড় কারণ। তিনি বলেন, ২০০৪ সালের মামলা যদি ২০১৫ সালে শুনানি হয় সেই মামলাটি নিষ্পত্তি হতে আরো ১ থেকে ২ বছর লেগে যায়। অর্থাৎ একটি মামলা ১৫ বছর ধরে ঝুলতে থাকে। এই ১৫ বছর ধরে যে রাজস্ব আটকে রইল তার আউটপুট কি? আমি যে ট্যাক্স ডিমান্ড করলাম তা তো আমার সাথে সাথেই প্রয়োজন। তা না হলে তো আমার অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্য হবে না। ফলে রাজস্ব খাতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, আদালতে মামলা জট কমাতে ২০১২ সালে বিকল্প পদ্ধতিতে রাজস্ব সংক্রান্ত সকল মামলা নিষ্পত্তির জন্য এডিআর সেল গঠন করে এনবিআর। সে সময় বলা হয়েছিল এডিআর সেলের মাধ্যমে রাজস্ব সংক্রান্ত সকল মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে এবং মামলা জট দূর করা হবে। কিন্তু বাস্তবে এডিআরের সুফল পাচ্ছে না এনবিআর। বরং বছরের পর বছর কোর্টে রাজস্ব সংক্রান্ত মামলা জট বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে আইনজীবীদের উদাসীনতা ও কর্মতৎপরতার অভাবে এডিআর পদ্ধতির সুফল পাচ্ছে না এনবিআর।
এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব মো. মাসুদুল করিম ভুইয়া বলেন, ‘দেখা যায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বকেয়া ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার সহজ উপায় হচ্ছে উচ্চ আদালতে কোনো রকম একটি মামলা দায়ের করার মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করা। ফাঁকি দেয়া অর্থ এসব ব্যবসায়িরা অন্য খাতে বিনিয়োগ করছে। অমীমাংসিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলে বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় হবে।’

 

শেয়ারবাজারনিউজ/তু

আপনার মন্তব্য

Top