আজ: সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১ইং, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, রবিবার |



kidarkar

৪১২ কোটি টাকা প্রভিশন ঘাটতি পুঁজিবাজারের ৩ ব্যাংকের

Bangladesh-Bankশেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণ বা নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতিতে পড়েছে। এ ঘাটতির পরিমাণ ৪১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৪৭ কোটি ৭৮ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ১২৩ কোটি এবং রূপালি ব্যাংকের ২৪১ কোটি ৬০ লাখ টাকা সঞ্চিতি ঘাটতি রয়েছে।

তবে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ ৫ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। যা এর আগের বছরের ৪ হাজার ২৮৩ কোটি টাকার চেয়ে ১ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি, বেসরকারি, বিদেশিসহ সব ধরনের ব্যাংক যেসব ঋণ বিতরণ করে, সেগুলোর গুণমান বিবেচনায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিরাপত্তা সঞ্চিতি হিসেবে রাখতে হয়। কোনো ঋণ শেষ পর্যন্ত মন্দ ঋণে পরিণত হলে তাতে যেন ব্যাংক আর্থিকভাবে ঝুঁকিতে না পড়ে, সে জন্য এ নিরাপত্তা সঞ্চিতির বিধান রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ খেলাপি ঋণ-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এ এক বছরে ব্যাংক খাতে নিয়মিত খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। আর নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতিতে পড়েছে ৬ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী, বেসিক ও রুপালি এবং বেসরকারি খাতের বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংক। এর মধ্যে রূপালি, প্রিমিয়ার এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত।

আলোচিত বছরে খেলাপি ঋণ ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। যা এর আগের বছর ছিল ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, উল্লিখিত ছয় ব্যাংকের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতির পরিমাণ ৪ হাজার ৬৩ কোটি, সোনালী ব্যাংকের ১ হাজার ৭৭৬ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ২৮৮ কোটি টাকা।

সঞ্চিতি ঘাটতির কারণ হিসেবে ব্যাংকগুলো বলছে, এক বছরে নতুন করে অনেক ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। ফলে সেসব ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে বেশ কিছু ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ায় তার বিপরীতে পুরো সঞ্চিতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের ঝুঁকি বিবেচনায় ঋণমানের ভিত্তিতে ২০০৬ সাল থেকে নিরাপত্তা সঞ্চিতির নির্দিষ্ট হার বেঁধে দেওয়া হয়। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে এসে নতুন ঋণ নীতিমালা করার ফলে নিরাপত্তা সঞ্চিতিতেও নতুন বিধান চালু হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.