আজ: শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১ইং, ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

১৪ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার |



kidarkar

অভিযোগের শীর্ষে রয়েছে যেসব ব্যাংক

ramitance_bbশেয়ারবাজার রিপোর্ট: গ্রাহক অভিযোগ সংখ্যার ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ তালিকা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি এন্ড কাস্টমার সার্ভিসেস বিভাগ (এফআইসিএসডি) ২০১৫-২০১৬ হিসাব বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে এমন তালিকা দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে করা গ্রাহক অভিযোগের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সোনালী ব্যাংক। এদের বিরুদ্ধে ৫৬৩টি অভিযোগ এসেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের বিরুদ্ধে ৩৭৩টি, অগ্রণী ব্যাংক ২৯১, ইসলামী ব্যাংক ২৬৮, জনতা ব্যাংক ২৩১, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ২০৪, কৃষি ব্যাংক ১৮৪, পূবালী ব্যাংক ১৩২, রূপালী ব্যাংক ১৩১ এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের বিরুদ্ধে ১২৬টি গ্রাহক অভিযোগ এসেছে।

অপরদিকে ব্যাংকগুলোর অভিযোগ সেলের মাধ্যমে করা অভিযোগ সংখ্যার ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ তালিকার শীর্ষে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে ৫ হাজার ৮৯৬টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৫ হাজার ৫৮৮টি। অভিযোগ নিষ্পত্তির হার ৯৫ শতাংশ।

এরপরই সিটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২ হাজার ৪৪০টি অভিযোগ এসেছে। নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৬২০টি। নিষ্পত্তির হার ৬৬ শতাংশ।

ইস্টার্ন ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১ হাজার ৫৬২, নিষ্পত্তি ১ হাজার ৫৫৬। নিষ্পত্তির হার ৯৯.৬১ শতাংশ।

এছাড়া এইচএসবিসি’র অভিযোগ ৯৯৫, নিষ্পত্তি ৬০১। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক অভিযোগ ২৮১, নিষ্পত্তি ২৪৫। ন্যাশনাল ব্যাংক অভিযোগ ১৯২, নিষ্পত্তি ১৪৫। ব্র্যাক ব্যাংক অভিযোগ ১৬৭, নিষ্পত্তি ১১৮। জনতা ব্যাংক অভিযোগ ১৫৬, নিষ্পত্তি ৩৮। কৃষি ব্যাংক অভিযোগ ১৫৪, নিষ্পত্তি ১৩। সোনালী ব্যাংক অভিযোগ ১৪৫, নিষ্পত্তি ৩২। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোর অভিযোগ নিষ্পত্তির হার সবচেয়ে কম। কৃষি ব্যাংক অভিযোগ নিষ্পত্তির হার ৮ শতাংশ, সোনালী ব্যাংকের ২২ শতাংশ এবং জনতা ব্যাংকের অভিযোগ নিষ্পত্তির হার ২৪ শতাংশ।

ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে ২০১৫-২০১৬ হিসাব বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে মোট অভিযোগ এসেছে ৪ হাজার ৫৩০টি।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা থেকে সরাসরি মোট অভিযোগ এসেছে ৪৮৩টি। এর মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির সংখ্যা ৪৪৮টি। ৩৫টি অভিযোগের এখনও কোন সুরাহা হয়নি।

ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতি ধরতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভিজিলেন্স ও এন্টি-ফ্রড বিভাগ ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোতে মোটি ৮৫বার পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে সবচেয়ে বেশি ৭১ বার পরিদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকে ১২ বার এবং বিদেশি ব্যাংকে ২ বার পরিদর্শন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল।

অনিয়ম জালিয়াতি বন্ধে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিদর্শন করেছে: ফারমার্স ব্যাংক ১৯বার, ন্যাশনাল ব্যাংক ৮বার, অগ্রণী ব্যাংক ৬ বার। এছাড়া এনআরবি কমার্সিয়াল ব্যাংক , ব্র্যাক ব্যাংক এবং সাউথইস্ট ব্যাংক ৪ বার করে পরিদর্শন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্ণর ফজলে কবীর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, জুন, ২০১৬ পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজারের অধিক অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়টি প্রমাণ করে যে  এফআইসিএসডি দেশের ক্রমবর্ধমান গ্রাহকের প্রত্যাশা পূরণে সফলতার পরিচয় দিয়েছে।

ডেপুটি গভর্ণর এসকে সুর উল্লেখ করেন, এফআইসিএস বিভাগে ১৬২৩৬ নম্বরের একটি শর্টকোড হটলাইন রয়েছে যার মাধ্যমে ব্যাংকের গ্রাহকগণ তাদের অভিযোগের তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাচ্ছেন। শর্টকোড ১৬২৩৬ ছাড়াও ডাক, কুরিয়ার, ইমেইল, অনলাইন কমপ্লেইন্ট বক্স প্রভৃতি মাধ্যমেও অভিযোগ দাখিলের ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ

২ উত্তর “অভিযোগের শীর্ষে রয়েছে যেসব ব্যাংক”

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.