জ্বরের কারণ ও প্রতিকার

জ্বরের শিশুশেয়ারবাজার ডেস্ক: জ্বর কোনো রোগ নয়। এটি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার একটি উপসর্গ মাত্র। শারীরিক অপরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে অপুষ্টি, সংক্রমণ, বিভিন্ন জীবাণু ও অনেক রোগের জটিলতা হিসেবে জ্বর দেখা দেয়। জ্বর নিয়ে বেশী ভুক্তভোগি হয়ে থাকেন শিশুরা। শিশুর জ্বর হলে প্রথম কাজ হবে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া। চিকিৎসক জ্বরের কারণ খুঁজে বের করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।

বেশির ভাগ মা-বাবার ধারণা শিশুর জ্বর হলে তাকে সাবধানে রাখতে হবে। তাই তাকে গরমের মধ্যে তারা রাখেন। কিন্তু এর ফল মোটেই ভালো হয় না। অতিরিক্ত জামা-কাপড় শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে না। বরং এতে শরীরের তাপ আরো বেড়ে যায়। অতিরিক্ত জামা-কাপড়ের জন্য শিশু অস্বস্তি বোধ করবে এবং ঘামতে শুরু করবে। এই ঘাম থেকে শেষ পর্যন্ত শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। তাই আবহাওয়া খুব ঠাণ্ডা না হলে ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই। বরং শিশু যাতে আরামে থাকতে পারে তারই ব্যবস্থা করা উচিত।

শিশুর জ্বর কমানোর জন্য তার জামা-কাপড় খুলে নিতে হবে। জ্বর কমাতে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করা অথবা ইলেকট্রিক ফ্যানের নিচে তাকে রাখা যেতে পারে। জ্বর বেশি হলে পানি দিয়ে সারা শরীর স্পঞ্জ করে দিতে হবে।
আবার কোনো কোনো মা-বাবা আছেন যারা শিশুর শরীর স্পঞ্জ না করে শুধু মাথায় পানি দিয়ে থাকেন। এতে জ্বর কমে কিন্তু অনেক সময় লাগে। তাই শরীর স্পঞ্জ করার পাশাপাশি মাথায় পানি দিলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। তবে মাথায় পানি ঢালার পর শুকনো তোয়ালে বা গামছা দিয়ে ভালো করে মুছে দিতে হবে। তা না হলে চুল ভেজা থাকার কারণে শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। অপর দিকে মাথায় পানি দেয়ার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কানে পানি না যায়।

জ্বর কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ শিশুকে দেয়া যায়। প্রয়োজনে এ ওষুধ ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অন্তর দেয়া যেতে পারে। একবার ওষুধ খাওয়ানোর ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পরও যদি জ্বর ১০০ ডিগ্রির বেশি থাকে তাহলে আবার ওষুধ খাওয়ানো যাবে। তবে ওষুধের মাত্রা অবশ্যই শিশুর বয়স এবং ওজন অনুযায়ী হতে হবে এবং দৈনিক চার থেকে পাঁচবারের বেশি ওষুধ খাওয়ানো যাবে না।

জ্বর হলে শিশুরা সাধারণত খেতে চায় না। এমনকি পানিও। তবে স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে জ্বর হলে শরীরে পানির চাহিদা বাড়ে। তাই তাকে বারবার পানি খাওয়াতে হবে। এ সময় তাকে তার পছন্দমতো খাবার দেয়া উচিত। তবে এমন খাবার দিতে হবে যাতে সহজে হজম হয়। সাধারণত তরল বা আধা তরলজাতীয় খাবার সহজেই হজম হয়।

জ্বর কমে যাওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই তাদের খিদে ফিরে আসে এবং আগের মতোই আবার খেলাধুলায় মত্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু বেশি দিন ভুগলে শিশু এক দিকে যেমন দুর্বল হয়, তেমনি তার মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। ফলে বাবা-মায়ের কাছে তার বায়নার পরিমাণও বেড়ে যায়। এ সময় যতদূর সম্ভব তাকে খুশি রাখার চেষ্টা করতে হবে। সুস্থ হয়ে ওঠার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশুর খিটখিটে মেজাজ লক্ষ করা যায়। এ ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে তাদের বদমেজাজকে উপেক্ষা করতে হবে। কোনো মতেই শিশুকে বুঝতে দেয়া উচিত নয় যে, তার মেজাজে আপনাদের খারাপ লাগছে। তা হলে সে সেই সুযোগটা নিতে পারে। তাই এ সময় বাবা-মাকে স্বাভাবিক থাকতে হবে। শিশুকে খাবারের জন্য সাধাসাধি না করে লোভনীয় কিছু খাবার তাকে দিতে অথবা তার সামনে রাখতে হবে। অসুস্থতার দিনগুলোয় তাকে কিছু খেলনা বা এ জাতীয় কিছু দিয়ে ভুলিয়ে রাখতে হবে, যাতে করে সে নিজের অসুস্থতা সম্পর্কে বিশেষ কিছু ভাবনার অবকাশ না পায়। এ সময়ে তাকে যত বিছানায় রাখা যাবে, ততই তার জন্য ভালো।

অনেকের আবার ক্বরের সাথে খিঁচুনি চলে আসে। জ্বরের সাথে খিঁচুনি হলে তা ভালো করার সহজ উপায় হলো জ্বর কমানো। কারণ জ্বর কমে গেলে খিঁচুনি বন্ধ হয়ে যায়। তাই জ্বর কমানোর জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন এবং খিঁচুনি যাতে বেশিক্ষণ স্থায়ী না হতে পারে সে জন্য কাছের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। জ্বর কমানোর জন্য তোয়াল বা গামছা পানিতে ভিজিয়ে শিশুর দেহ, হাত-পা বারবার স্পঞ্জ করবেন। একই সাথে জ্বরের প্যারাসিটামল ওষুধ খাওয়াতে হবে। খিঁচুনি চলাকালে শিশুকে এক দিকে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে, যাতে মুখের লালা গাল দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় মাথার নিচে বালিশ দেবেন না এবং চিৎ করে শিশুকে শোয়াবেন না। কারণ এতে মুখের লালা না বের হয়ে শ্বাসনালিতে ঢুকে যেতে পারে। ফলে শিশুর শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

খিঁচুনির সময় দাঁতে দাঁত লেগে গেলে অনেকে শিশুর মুখে চামচ বা অন্য কোনো শক্ত জিনিস দিয়ে দাঁত খোলার চেষ্টা করেন। তাতে শিশুর মুখ বা চোয়ালে আঘাত লাগতে পারে। তাই চামচ বা শক্ত কিছু মুখে দেবেন না; বরং প্রয়োজনবোধে কাপড় বা এ জাতীয় অন্য কিছু মুখে দেয়া যেতে পারে, যাতে দাঁত লেগে জিহ্বা কেটে না যায়।

আবার কোনো কোনো শিশুর জ্বর ছাড়াও খিঁচুনি হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে খিঁচুনির সাথে ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। তবে খিঁচুনি যে কারণেই হোক না কেন, সময় নষ্ট না করে শিশুকে অবশ্যই কাছের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

শেয়ারবাজারনিউজ/রা

আপনার মন্তব্য

Top