আজ: শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর ২০২১ইং, ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৮ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৬ অগাস্ট ২০১৭, শনিবার |



kidarkar

এগিয়ে যাচ্ছে শেয়ারবাজার: ফিরছে বিনিয়োগকারীদের চাঞ্চল্য

bazarশেয়ারবাজার রিপোর্ট: বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বিনিয়োগকারীর মধ্যে চাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে। যার কারনে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ৩ দিনই বেড়েছে সূচক। আর পতনের মাত্রা ছিলো অত্যাধিক। তাই গত সপ্তাহে (১০-২৪ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচক বেড়েছে। যার পরিপেক্ষিতে সাপ্তাহিক ব্যবধানে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সব ধরনের সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পারিমাণও বেড়েছে। আলোচিত সপ্তাহটিতে লেনদেন বেড়েছে ৭০.২২ শতাংশ। প্রধান সূচক বেড়েছে ০.৪১ শতাংশ। আর গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ১৭ কোটি ৩৮ লাখ ১১ হাজার ৯৪ টাকা।

পুজিবাজার বিশ্লেষকরা আশাবাদ ব্যাক্ত করে বলেন, পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। “সামনে বাজার আরও ভালো হবে”, কারণ বাজার যে ভালো হবে তার সবগুলো লক্ষনই বিদ্যমান। মার্কেটের ক্রমাগত চাপের কারণে মার্কেট টাইম বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম করছে। আর আর্থিক বছর শেষ হওয়ার কারণে কোম্পানিগুলোর ঘোষিত লভ্যাংশের একটা ইতিবাচক প্রভাব অচিরেই বাজারে পড়বে বলেও মনে করছেন ওই বিশ্লেষকরা।

এছাড়াও সম্প্রতি নেগেটিভ ইক্যুইটির বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিলো। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেই আশঙ্কাকে দূর করে বিনিয়োগকারীদের মনে স্বস্তি এনে দিয়েছে। এখন ৬ হাজার পয়েন্টের ‘মনস্তাত্ত্বিক সীমা’ পার করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। কেননা আরও এক বছর লেনদেনের সময় পেল পুঁজিবাজারের ঋণাত্মক মূলধনধারী (Negative Equity) বিনিয়োগ হিসাবগুলো। শেয়ার কেনা-বেচার প্রান্তিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শর্তে ১ বছর ৩ মাস সময় বাড়িয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যা বাজারের স্বচ্ছতা আরও বাড়াবে। পাশাপাশি ওই সমস্ত বিনিয়োগকারীরাও বাজারে তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াবে বলেও মনে করছেন ওই বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে জন্মষ্ঠমী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে টানা দুই দিন সরকারী ছুটি থাকায় (১৪ ও ১৫ আগস্ট) দেশের উভয় শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকে। ফলে ঐ সপ্তাহে উভয় বাজারে লেনদেন হয় ৩ কার্যদিবস।

সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২৪.৩১ পয়েন্ট বা ০.৪১ শতাংশ। ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ২.২৫ পয়েন্ট বা ০.১১ শতাংশ। আর ডিএসই শরীয়াহ সূচক বেড়েছে ১.৪৪ পয়েন্ট বা ০.১১ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৩৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ১৭৬টির দাম বেড়েছে। অপরদিকে দাম কমেছে ১৪০টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টির দাম এবং লেনদেন হয়নি ২টির। এগুলোর ওপর ভর করে সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ১৬৪ কোটি ২৬ লাখ ৭১ হাজার ৯৮৯ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ৪১ লাখ ৬৯ হাজার ৯১২ টাকা। অর্থাৎ গত সপ্তাহে মোট লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ৭১৭ কোটি ৮৫ লাখ ২ হাজার ৭৭ টাকা বা ৭০.২২ শতাংশ।

আর সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেনের ৮৪ দশমিক ৯১ শতাংশই ছিল ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দখলে। এছাড়া বাকি ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত, ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত এবং ১ দশমিক ৪০ শতাংশ ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের।

আর সপ্তাহশেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সেচঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক বেড়েছে ৩৩.২৬ পয়েন্ট ০.৩০ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ২৮৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ১২০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির। আর সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয়েছে ২৬৮ কোটি ৭৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯৯ টাকা।

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.