শেয়ারবাজারটা আসলে রিটেইলার বেজড বাজার: ডিবিএ প্রেসিডেন্ট

দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে পুঁজিবাজারের সঙ্গে রয়েছেন মোস্তাক আহমেদ সাদেক। সম্প্রতি তিনি ডিএসই’র ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি তাঁর শিক্ষা জীবন শেষ করেন। কর্মজীবনে বাউনিয়া জুট মিল, আমিন জুট মিল এবং ক্রিসেন্ট জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি উসমানিয়া গ্লাস ফ্যাক্টরী, ঢাকা ভেজিটেবলের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মোস্তাক আহমেদ সাদেক ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  বর্তমান শেয়ারবাজার ও বাজার উন্নয়নের কি করা যায় তা নিয়ে সম্প্রতি শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদকের সাথে আলোচনা হয়েছে। তারই চুম্বক অংশ নিচে তুলে ধরা নিচে হলো-

শেয়ারবাজারনিউজ: বাজারের লেনদেন কমে গেল কেন? প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসেই বাজারের এ অবস্থা কেন হয়?

মোস্তাক আহমেদ সাদেক: আমাদের শেয়ারবাজারটা আসলে রিটেইলার বেজড বাজার। খুবই ক্ষুদ্র একটা বাজার। তার মধ্যে বেশকিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী রয়েছে। বলতে গেলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর মধ্যে কিছু উচ্চ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী রয়েছে এ বাজারে। তার মধ্যে বর্তমান বাজারটা এখন দু’ই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একটি হলো জুন ক্লোজিং আরেকটি হলো ডিসেম্বর ক্লোজিং। এর মধ্যে ডিসেম্বর ক্লোজিং রয়েছে সকল প্রকার আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক, বীমা ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান)। আর তাই এ ডিসেম্বর মাসে বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা ও নজরদারীতে রাখেন বাজার অবস্থার উপর। ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ড ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করেন তারা। কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ড ঘোষণার উপর বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে। তাই ডিসেম্বর মাস আসলেই বাজারটা একটু ধীর গতি হয়ে যায়।

শেয়ারবাজারনিউজ: তাহলে কি ব্যাংক বাড়লেই বাজার বাড়ে বিষয়টা এমনকি?

মোস্তাক আহমেদ সাদেক: আসলে তা না ডিসেম্বর মাসে সকল ব্যাংকগুলো অর্থবছর শেষ হয়। সামনে ব্যাংকগুলো আর্থিক বছর পর্যালোচনা করে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে। তাই বিনিয়োগকারীরা যারা মুনাফায় আছে তারা অপেক্ষা করছে ব্যাংকগুলোর ডিভিডেন্ড ঘোষণার উপর। জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে বুঝা যাবে কার পারফমেন্স কেমন হয়েছে। তখনই ব্যাংকগুলো রেইস করবে। সে সময় কোন কোন ব্যাংক পড়ে যাবে আবার কোন কোন ব্যাংক উঠে যাবে।

শেয়ারবাজারনিউজ:  বাজার উন্নয়নে ডিবিএ পদক্ষেপ-

মোস্তাক আহমেদ সাদেক: বাজার উন্নয়নে শুধু ডিবিএ না শেয়ারবাজারে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সুশাসন থাকতে হবে। তাছাড়া বাজারে উন্নয়ন কাজের জন্য পণ্যের বৈচিত্র্যতা আনা দরকার। এর জন্য ইটিএফ, ডেরিভেটিবস চালু, বুক-বিল্ডিং মেথডের উন্নয়ন, স্মল ক্যাপ মার্কেট, ওটিসি মার্কেট নিয়ে কাজ করা দরকার। এসব পণ্য বাজারকে সমৃদ্ধ করবে।

শেয়ারবাজারনিউজ: শেয়ারবাজারে সিকিউরিটজ হাউজগুলোর অবস্থা কি?

মোস্তাক আহমেদ সাদেক: বাজারে দুই ধরনের সিকিউরিটজ হাউজ আছে। একটি হলো- আনলিমিটেড আরেকটি হল লিমিটেড। যেমন ব্যাংক হলো আনলিমিটেড। তাদের পরিশোধিত মূলধন অনেক। তাদের ফান্ডগুলো আনলিমিটেড। তারা তাদের কাছে থাকা ডিপোজিট দিয়ে ব্যবসা করে। কিন্তু আমাদের সিকিউরিটিজ হাউজের ফান্ডগুলো হলো লিমিটেড। সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জের আইন কানুন মানতে গিয়ে আমরা ডিপোজিট টাকা ব্যবহার করতে পারি না। আমাদের প্রতি মাসেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার সম্পর্কে বিএসইসিকে একটি মাসিক প্রতিবেদন দিতে হয়। তাই আমাদের সব সময় বুঝে শুনে কাজ করতে হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ:  বাজার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে বলেন-

মোস্তাক আহমেদ সাদেক: বাজারে ব্যাংকের এক্সপোজা গণনা নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে। সিকিউরিটজ হাউজগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে সিকিউরিটজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আর ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যখন ব্যাংকগুলো শেয়ারেবাজারে আসে তখন তারা চলে আসে সিকিউরিটজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আইনের আওতায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে প্রাইমারি রেগুলেটর হিসেবে ব্যাংককে তাদের আইন কানুন মানতে হবে। এ দুইটা সমন্বয় হয় না কোন সময়। পরণতিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মধ্যে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক্সপোজার নীতির বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করছি না। কারণ আইন মানতে সবাই বাধ্য। কিন্তু ব্যাংকগুলো রাষ্ট্রীয় আইনের অপব্যবহার করছে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারণ ব্যাংকগুলো ব্যাক্তিগত লোন হিসাবটাও এক্সপোজারে মধ্যে যুক্ত করে দিচ্ছে। পরিণতিতে ব্যাংকিং কার্যক্রম দুর্বল হচ্ছে।

শেয়ারবাজারনিউজ: দেশে বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগ অনেক বেড়েছে এর কারণ কি?

মোস্তাক আহমেদ সাদেক: দেশে বিদেশি বিনিয়োগ অনেক রেকর্ড করেছে। এর কারণ হলো আমাদের দেশের পি/ই রেশিও অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম রয়েছে। ফলে বিদেশিরা চিন্তা করছে এ দেশের শেযারবাজারে বিনিয়োগ করে অনেকটাই লাভবান হওয়া যাবে। তাছাড়া দেশে বর্তমানে কোন প্রকার রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই,  কোন দুর্ভিক্ষ নাই, জিডিপি-তে আকর্ষণীয় প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে, অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে।  তাই দেশের প্রতি বিদেশিদের আগ্রহ বেড়েছে।

শেয়ারবাজারনিউজ: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

মোস্তাক আহমেদ সাদেক: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/এম.আর

আপনার মন্তব্য

Top