আগামি মাসেই ব্যান্ডউইথ রফতানি: প্রভাব পড়বে ডিভিডেন্ডে

Bsccl_Sharebazar_Newsশেয়ারবাজার রিপোর্ট: চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের ত্রিপুরায় প্রাথমিকভাবে ১০ জিবিপিএস (১০ গিগাবাইট) ব্যান্ডউইথ রফতানির সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লি: (বিএসসিসিএল)। এতে প্রতিবছর কোম্পানিটি ৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বেশি আয় করবে কোম্পানিটি।  ফলে কোম্পানিটি সরকার ও বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি ডিভিডেন্ড দিতে পারবে।

আর চুক্তি অনুযায়ী ভারতের অন্য রাজ্যগুলোতেও ব্যান্ডউইথ রফতানি করা হবে। এতে কোম্পানির আয় আরও বাড়বে বলে কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে।

কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, ভারতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে বিটিসিএল কেবল স্থাপনের কাজ শেষ করছে। আখাউড়া সীমান্ত পর্যন্ত এই কেবল চলে গেছে। সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ম্যানহোল। এ ম্যানহোলে আগরতলা থেকে আসা কেবল সংযুক্ত হবে। দুই দেশের মধ্যে ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ আরেকটি ম্যানহোল নির্মাণ করা হয়েছে। মূলত এ ম্যানহোলে কেবল সংযোগ হবে। আর এটা হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যান্ডউইথ রফতানির কাজ শুরু হবে।

এ বিষয়ে সাবমেরিন কেবলের কোম্পানি সেক্রেটারি আবদুস সালাম খান শেয়ারবাজারনিউজ ডটকমকে বলেন, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ব্যান্ডউইথ রফতানি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ব্যান্ডউইথ রফতানির খবরে পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারদরে উল্লম্ফন ঘটে। চলতি বছরের মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারদর ১১০ টাকা থেকে ১৭০ টাকিা পর্যন্ত উঠে।  বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৪১ টাকা। কিন্তু পিই রেশিও ২১৮ দশমিক ২৮। তাই কোম্পানিটির শেয়ার বর্তমানে নন-মার্জিনেবল অবস্থায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় গত ৬ জুন ব্যান্ডউইথ রফতানির বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল) এবং বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) মধ্যে এ চুক্তি হয়েছে। এর আগে বিএসসিসিএলের অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ ভারতে রফতানি চুক্তি মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। চুক্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ ভারতে রফতানি করলে দেশে ব্যান্ডউইথের কোন সঙ্কট হবে না। প্রাথমিক পর্যায়ে চুক্তি অনুযায়ী ১০ জিবিপিএস (১০ গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ বাণিজ্যিকভিত্তিতে লিজে সরবরাহ করা হবে। এতে বছরে বৈদেশিক মুদ্রায় ৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা আয় করবে সরকার। এ চুক্তির মেয়াদ তিন বছরের জন্য করা হযেছে। চুক্তি অনুসারে ভারতের চাহিদা অনুযায়ী ব্যান্ডউইথ রফতানি ৪০ জিপিবিএস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। বিএসসিসিএল একমাত্র সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই-৪ এর কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়া হয়ে আগরতলা দিয়ে এ ব্যান্ডউইথ রফতানি হবে।

ব্যান্ডউইথ রফতানির জন্য টেলিযোগাযোগের আন্তঃসংযোগ চালু করার চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ সংক্রান্ত কাজ ভারতও সীমান্ত পর্যন্ত শেষ করেছে। বাংলাদেশের আখাউড়াকে কক্সবাজারের ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে ফর ইন্টারনেট সার্ভিসের সঙ্গে সংযুক্ত করতেই যৌথভাবে কাজটি করবে দুই দেশ। ব্যান্ডউইথ রফতানির জন্য কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা এবং আখাউড়ার স্থলভাগ দিয়ে লিংক সাবমেরিন কেবল গিয়ে সংযুক্ত হবে ভারতের গুয়াহাটিতে। অপটিক্যাল ফাইবার বসানোর ক্ষেত্রে এ বিষয়ে রেলওয়ের সঙ্গে কাজ চলমান রয়েছে।

বিএসসিসিএল জানিয়েছে, বর্তমানে ২শ’ জিবিপিএস (গিগাবাইট) ব্যান্ডউইথসহ সাবমেরিন কেবলে (সি-মি-উই-৪) সংযুক্ত আছে বাংলাদেশ। এই কেবলের মাধ্যমে আসা ব্যান্ডউইথের মধ্যে প্রায় ৩০ জিবিপিএস দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। অব্যবহৃত রয়ে গেছে ১৭০ জিবিপিএস। আগামী বছরের শেষদিকে একটি কনসোর্টিয়ামের আওতায় সি-মি-উই-৫ বা দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হবে দেশ। এই কেবলের মাধ্যমে দেশে অতিরিক্ত ১ হাজার ৩শ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ আসবে দেশে। বাংলাদেশে বিকল্প পথে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ আনার জন্য সি-মি-উই-৫ নামের নতুন কেবল কনসোটিয়ামের সদস্যপদ নিয়েছে। বাংলাদেশ সিমিইউ-৪ এর (সাউথ এশিয়া-মিডেলিস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ) কেবলের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। এর মালিক হচ্ছে ১৬টি দেশ। সদস্য দেশগুলো হচ্ছে: সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর, ইতালি, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া ও ফ্রান্স। সিমিউই-৫ নতুন কনসোটিয়ামটি গঠিত হবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ নিয়ে। কনসোটিয়াম কেবলটির কাজ শুরু করেছে তিন বছর আগে থেকেই। আগামী বছরের শেষনাগাদ এই কেবলের মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ সরবরাহের কাজ শুরু হবে। তখন দেশে বিপুল পরিমাণ ব্যান্ডউইথ আসবে। এই ব্যান্ডউইথ দেশে ব্যবহার করেও বিদেশে রফতানি করা যাবে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/আ.মু/ও

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top