আজ: রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪ইং, ২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

০৯ মে ২০১৫, শনিবার |

kidarkar

আশ্বাসে আস্থা ফিরেছে

BazarUtthan_SharebazarNewsশেয়ারবাজার রিপোর্ট: নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের মিলিত প্রচেষ্টা ও আশ্বাস বাণীতে গত সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের ব্যাপক উত্থান ঘটে।

গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসসহ এর আগের সপ্তাহ মিলে সূচকের টানা পতনে নড়েচড়ে বসে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট এসব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা একাধিকবার বৈঠকে মিলিত হয়। সবপক্ষই পুঁজিবাজারের টানা পতনের জন্য মূলত ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধানকেই দায়ী করেছেন। তাদের মতে, ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে ব্যাংকের বিনিয়োগ ইক্যুইটির ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে নির্দেশনা রয়েছে এর জন্যই বাজারে শেয়ার কেনার চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার বিক্রির দিকেই বেশি মনোযোগ দেয়। পরিণতিতে বাজারে আবারো দীর্ঘমেয়াদি পতনের আশঙ্কা থাকায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও আস্থা হারিয়ে ফেলে। এইসব বিবেচনা করে বিএসইসি শীর্ষ স্থানীয় মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের সাথে বৈঠক করে তাদেরকে শেয়ারকেনার জন্য মন্ত্রণা দেয়। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি নিষেধে যাতে শীথিলতা আনা হয় সেই বিষয়ে দায়িত্ব নেয় বিএসইসি। অপরদিকে সরকারের মন্ত্রী পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মনোভাব পরিবর্তন করার জন্য অনুরোধ করা হয়। আর এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনোভাব শিথীল করবে বলে সংশ্লিষ্ট অনেকে দাবী করেছেন। এতোসব আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বাজার অবশেষে ঘুরে দাঁড়ায়। এর প্রভাবে বাজারের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে থাকে। যার প্রভাবে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার কেনার পরিমাণও বাড়ে। ফলে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই টানা তিন কার্যদিবস সূচকের ব্যাপক উল্লম্ফন ঘটে। সেই সাথে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানিরই এই সময়ে শেয়ারদর বেড়েছে।

ডিএসই: দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই-তে গত সপ্তাহের শুরুতে সূচকের পতন হলেও শেষ তিন কার্যদিবসে সূচকের উত্থানে লেনদেন সম্পন্ন হয়। এই সময়ে ডিএসই এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৬২.৫৯ পয়েন্ট বেড়ে ৪১২২.৩২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি সমাপ্ত কার্যদিবস ভিত্তিতে ডিএসই৩০ সূচক ১৩.০১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৫৫৮ পয়েন্টে। ডিএসই শরীয়াহ সূচক ১৭.৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ১০১০.৪১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এর জের ধরে ডিএসই-তে বাজার মূলধন বেড়েছে ১.৩৫ শতাংশ। এই সময়ে ডিএসই-তে গড় লেনদেন বেড়েছে ৫.৭৬ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসই-তে লেনদেন হওয়া ৩২৪টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ২৩৯টি কোম্পানির, কমেছে ৬৮টির, অপরিবর্তীত রয়েছে ১২টির এবং ৫টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়নি।

সিএসই: চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচকের পতন হলেও পরবর্তী তিন কার্যদিবসে সূচকের ব্যাপক উত্থান ঘটে। এর জের ধরে সপ্তাহ শেষে সিএসই সাধারণ সূচক সিএসসিএক্স ২.২৩ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ ৭৭১৭.৩৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এই সময়ে মোট ১৪০ কোটি ২২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে।

অপরদিকে সিএসই এর অন্য সূচকগুলো যেমন: সিএএসপিআই সূচক ২.১৪ শতাংশ বেড়ে ১২৬৯৪.২৭ পয়েন্ট, সিএসই৩০ সূচক ১.৪০ শতাংশ বেড়ে ১০৩০৪.৯১ পয়েন্ট, সিএিই৫০ সূচক ১.৭১ শতাংশ বেড়ে ৯২৭.১৫ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ১.১৯ শতাংশ বেড়ে ৯০৩.২৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এই সময়ে লেনদেন হওয়া মোট ২৬৩টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ১৮৬টির, কমেছে ৫৮টির এবং ১৯টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তীত রয়েছে।

 

শেয়ারবাজারনিউজ/তু/মু/রু

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.